তিন জাতের তরমুজ আবাদ করে দারুন সফল খলিলুর রহমান

গতানুগতিক চাষের বাইরে গিয়ে ভাগ্য বদলাতে উন্নত কৃষি-প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিন জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চাষি খলিলুর রহমান।

 

 

তিনি ব্যতিক্রমী সোনালি বর্ণের বিদেশি ‘গোল্ডেন ক্রাউন’, ‘ব্লাক বেবি’ ও ‘বাংলালিংক’ তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। অসময়ে এ তরমুজ চাষ করে এরই মধ্যে সফলতার মুখ দেখেছেন খলিলুর রহমান। যেমন ফলন ভালো হচ্ছে, তেমন দামও পাচ্ছেন সন্তোষজনক। তরমুজ চাষে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন খলিলুর রহমান।

 

 

বাজারে সাধারণত দেখা মেলে সবুজ বা গাঢ়ো সবুজ বর্ণের তরমুজ। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জমিতে এ বছর তিন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন খলিলুর রহমান। খলিলের এই নতুন নতুন জাতের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে উপজেলার অনেকেই এই চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

 

 

জানা গেছে, ‘গোল্ডেন ক্রাউন’, ‘ব্লাকবেবি’ ও ‘বাংলালিংক’ জাতের তরমুজ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সুস্বাদু ফল। সাধারণত উঁচু জমি এবং দোআঁশ মাটি এসব জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযুক্ত। সাধারণত তরমুজ মাটিতে হলেও এটি মাচায় বড় হয়। বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফুল আসে এবং ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় ফল কাটা শুরু হয়।

 

 

খলিলুর রহমান মণিরামপুর পৌর এলাকার তাহেরপুর গ্রামের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে। তার তরমুজের ক্ষেতে দেখা যাচ্ছে, সবুজ গাছের বোঁটাই বোঁটাই বাঁশ আর প্লাস্টিকের জালের সুতায় তৈরি মাচায় ঝুলছে রঙ-বেরঙের তরমুজ। ফলন ভালো হওয়ায় খলিলের চোখ মুখে আনন্দের ছোঁয়া ফুটে উঠেছে।

 

 

খলিলুর রহমান বলেন, সব সময় তিনি বাজারে চাহিদা সম্পন্ন নতুন জাতের ফসল ও সবজি চাষ করেন। নতুন জাতের ফল ও সবজি চাষ করেন বলেই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বরাবরই সহযোগিতা পেয়ে থাকেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা জেলার তার বোনের বাড়ি থেকে তরমুজের বীজ নিয়ে আসেন তিনি।

 

 

কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে শীতকালীন ফসল শেষ হওয়ার পরে সেই জমিতে পরীক্ষামূলক পাঁচ বিঘা জমিতে বীজ বপন করেন খলিলুর রহমান। বীজ বপনের পর গাছ লম্বা হলে বাঁশের চটা দিয়ে মাচা দেয়া হয়। বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিন পর ফুল আসে এবং দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ফল কাটা শুরু হয়।

 

 

তিনি আরো বলেন, বাজারে ভালো দামের পাশাপাশি চাহিদাও রয়েছে বেশ। দুই একদিনের মধ্যে তরমুজ ফুলদমে বাজারে উঠবে। বাজারে বর্তমানে এই তরমুজের প্রতিটির দাম কেজি ধরে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা।

 

 

এ বছর তরমুজ চাষে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকায় তরমুজ বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। এছাড়া এবছর তিনি ঢাকায় তরমুজ পাঠাবেন বলে জানান।

 

 

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হাসান বলেন, নতুন নতুন জাতের তরমুজ চাষে কৃষক খলিলকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ।

 

তথ্যসূত্রঃ আলোকিত সিরাজগঞ্জ