বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করে প্রতি মাসে আয় লাখ টাকা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভাবে মাশরুম চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে সৌমিত্র মজুমদার শুভ নামের এক যুবকের। তবে শুভর এ সাফল্য দেখে গর্বিত তার স্বজনরা। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের তার খালার বাড়িতে প্রথমে ৫০ টি স্পন প্যাকেট দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ।

 

 

ফলন ভালো হওয়ায় তিনি ২০ শতাংশ জমিতে দুটি সেডের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন এ খামার। বর্তমানে তার খামারে ১ হাজার ৭০০ খড়ের স্পন প্যাকেট রয়েছে। আর এ থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুম বিক্রি করে মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা। তার খামারের সাফল্যতায় পুরো এলাকাজুড়ে সাড়া ফেলেছে।

 

 

জানা গেছে, তিনি ২০১৭ সালে এলএলবি পাশ করে ঢাকায় এক আইনজীবির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সালের করোনাকালীন সময়ে তেমন একটা আয় না থাকায় তিনি এলাকায় ফিরে আসেন।

 

 

বেশ কিছুদিন বেকার থাকার পর জার্মানি প্রবাসী খালাতো বোন ও খালাতো ভাইয়ের পরামর্শে আগ্রহী হন। পরে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন টেনিং সেন্টারে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শুরু করে মাশরুম চাষ।

 

 

প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে খড়, কাঠের গুড়া, গমের ভুষি, তুষ ও চুন দিয়ে নিজেই স্পন প্যাকেট তৈরী করে মাশুরুমের বীজ বপন করেন। এ বীজের সঙ্গে টিস্যু কালচার যুক্ত করে সঠিক পরিচর্যায় ২০ দিনের মাথায় শুরু হয় ফলন। তবে এ কাজে তেমন একটা পরিশ্রম নেই বলে জানিয়েছেন মাশরুম চাষী সৌমিত্র মজুমদার শুভ।

 

 

তিনি বলেন, তার খামার থেকে প্রতিদিন ১৫ কেজি করে মাশরুম পাচ্ছেন। তাতেও মেটাতে পারছেন না স্থানীয় চাহিদা। তবে সরকারী সহায়তা কিংবা স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা পেলে এ খামার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন বলে দাবি তার।

 

 

শুভর খালাতো বোন জামার্নি প্রবাসী রত্না বিশ্বাস বলেন, বিদেশে প্রতিদিনের খাদ্যে মাশরুম ব্যবহার হয়। এটা স্বাস্থ্যকর খাবার। বাংলাদেশে এর প্রচলন খুবই কম। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এই প্রথম মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। আশা করি এখানে বড় কিছু হবে ও অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

 

 

খালাতো ভাই জীবন বিশ্বাস বলেন, করোনাকালীন সময় যে জনজীবনে দুর্ভোগ ছিল সেখান থেকে বেঁচে উঠার জন্য তার খালাতো ভাইয়ের এ প্রজেক্ট। ও আমাদের বাড়িতে মাশরুম চাষে অগ্রহ দেখায়। আমি শুধুমাত্র জায়গা ও পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তার অল্প পুঁজি দিয়ে এ চাষ শুরু করে। তবে সরকারী সহায়তা পেলে এটি বড় আকারের মাশরুম খামার হবে।

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, মাশরুম চাষী শুভকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া মাশরুম চাষে আগ্রহী যুবকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক বাংলাদশ প্রতিদিন