বাংলাদেশে ও সম্ভব “জেড পারর্স” মাছের চাষ, প্রতি কেজি মাছের দাম ৩০০০ টাকা

“বরকো গ্রেন্ট” একটি বাণিজ্যিক চাষাবাদ যোগ্য মাছ । নামটি শুনতে মিষ্টতা না থাকায় ও সহজবোদ্ধ না হওয়ায় একুয়াকালচার এসোসিয়েশন অব কুইন্সল্যান্ড এর সভাপতি ব্র“স স্যামেলে মাছটির নতুন নামকরণ করেন “জেড পারর্স”। মাছটি তাই আদি নাম “বরকো গ্রেন্ট” এর পরিবর্তে “জেড পারর্স” নামেই এখন পরিচিত।

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেড পারর্স মাছের বাণিজিক চাষ খুবই উচ্চ সফলতা পেয়েছে। খাদ্যমান, স্বাদ, দ্রুত বর্ধনশীল, কষ্টসহিষ্ণু ও দীর্ঘজীবি হওয়ায় মাছটি বিশ্বের বড়-বড় সীফুড বাজারে স্থান দখল করে নিয়েছে।

 

 

অস্ট্রেলিয়া কমনওয়েথ সাইন্টিফিক এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল রিসার্স অরগানাইজেশন এর গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ী মাছটির শারিরীক গঠনের ৬৮ ভাগ মাংসল টিস্যু, ১৮% প্রোটিন এবং ১০০ গ্রাম মাছে ২৪৮৩ এম.জি. পরিমান ওমেগা- ৩ ভিটামিন আছে। মাছটি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের চেয়েও দ্বিগুন, আটলান্টিক স্যালমন মাছের চেয়ে তিনগুন এবং মুরগির তুলনায় ১০০ গুন বেশি পুষ্টি মান সম্পন্ন।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন আমাদের ৬১০ এম.জি. ওমেগা-৩ দরকার যা মানব দেহের গঠন ও রোগ প্রতিরোধে বহু মাত্রিক ভূমিকা পালন করে। ১০০ গ্রাম জেড পারর্স মাছে ২৪৮৩ এম.জি. ওমেগা-৩ বিদ্যমান থাকায় আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় জেড পারর্স মাছটি রাখা খুবই জরুরী। মাছটির উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ এর কারনে বিশ্বব্যাপি এর বিপুল চাহিদা রয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরে এ চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে।

 

 

“বরকো গ্রেন্ট”

অস্ট্রেলিয়া প্রতি বছর জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর হংকং এবং চায়না ইত্যাদি দেশগুলোতে জেড পারর্স মাছের পোনা রপ্তানী করে। প্রতি কেজি মাছের দাম ৩০-৩৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

 

 

১৯৯০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে মাছটির চাষ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া এবং তা সফল হলে পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে এই মাছ চাষ সম্প্রসারন করে। ২০০৩ সালে মাছটির কৃত্রিম প্রজননে চীন অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে। এছাড়া জাপানের মৎস্য বিজ্ঞানীগণ এমাছের কৃত্রিম প্রজননে সফল হন।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি চায়না ও জাপান সীমিত আকারে জেড পারর্স মাছের পোনা রপ্তানী শুরু করেছে। প্রতিটি পোনার দাম ১.৫০-২ ডলারে বিক্রি হয়। মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশ পোনা আমদানি করে এই মাছটি চাষ করছে।

 

 

অপেক্ষাকৃত কম দামের মৎস্য খাদ্য প্রয়োগ করে মাছটি চাষ করা যায়। এটি খুব দ্রুত বড় হয়। মাছের খাদ্যগ্রহণের আচরণ খুব তিব্র। পুকুরের এক প্রান্তে খাবার দিলে অন্য প্রান্ত থেকে মাথা উচুঁ করে পানিতে ডেউ তুলে সাতার কেঠে খাবার খেতে আসে জেড পারর্স।

 

 

বাংলাদেশের মাটি, পানি ও সার্বিক পরিবেশ এ গুরুত্বপূর্ণ মাছটি চাষের পক্ষে বিশেষভাবে উপযোগী বলে প্রতিয়মান হয়। জেড পারর্স মাছ এদেশের অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য কোন হুমকি সৃষ্টি করবে না। কারণ এটি কোন রাক্ষুষে মাছ নয়। জেড পারর্স প্রচলিত সাধরণ খাবার খেয়ে বড় হয়।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর বিজ্ঞানীগণ জেড পারর্স মাছটি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম চালাতে পারেন। এই মহান প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীগণের শ্রমলব্দ গবেষণা কার্যক্রমের ফলেই গিফট তেলাপিয়া মাছ চাষে অসাধারণ সাফল্য এসেছে বাংলাদেশে, যদিও তেলাপিয়া একটি বিদেশী মাছ।

 

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রণিত “মৎস্য সংঘ নিরোধ আইন- ২০১৭” এর আওতায় জেড পারর্স মাছটি আমদানী, চাষ ও উৎপাদনের অনুমতি দিলে এদেশের মৎস্য খাতে রপ্তানীমুখি নতুন একটি পণ্যের প্রবেশ ঘটবে। যা আমাদের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশে সমৃদ্ধি আনতে সহায়ক হবে।

 

তথ্যসূত্রঃ আধুনিক কৃষি খামার