মাগুর মাছ যেভাবে সংগ্রহ করলে লাভ হবে দ্বিগুণ

ব্রুড শিং বা মাগুর মাছ সংগ্রহ ও প্রজনন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা মৎস্য চাষিরা অনেকেই জানেন না। বর্তমানে অনেক মৎস্য চাষিই তাদের পুকুরে মাছের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। পুকুরে মাছ চাষে ভালো মানের মাছের পোনা সংগ্রহ ও প্রজনন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আজকে জানবো ব্রুড শিং বা মাগুর মাছ সংগ্রহ ও প্রজনন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে-

 

 

ব্রুড শিং বা মাগুর মাছ সংগ্রহ ও প্রজনন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনাঃ
১। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুস্থ, সবল ও পরিপক্ব ব্রুড মাছ সংগ্রহ করতে হবে।

 

 

২। ব্রুড মাছের মজুদ পুকুরটি শুকিয়ে শতাংশে ১ কেজি চুন, ১০ কেজি গোবর এবং পানি দেয়ার পর শতাংশে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫ গ্রাম এমপি প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করতে হবে।

 

 

৩। পানির গভীরতা ১.২৫-১.৫ মিটার বা ৪-৫ ফুট রাখা প্রয়োজন।

 

 

৪। পুকুরের প্রতি শতাংশে ৪০-৬০টি থেকে ১০০-১৫০ টি ব্রুড শিং বা মাগুর মাছ রাখা যায়।

 

 

৫। মাছের মোট ওজনের ৫-৭% সম্পূরক খাবারের এক চতুর্থাংশ প্রতিদিন সকালে বাকী তিন ভাগ সন্ধ্যার পর পুকুরের চার কোণায় স্তূপাকারে ফিডিং ট্রেতে দিতে হবে।

 

 

৬। পুকুরের পানির উপযুক্ত তাপমাত্রা ও আলোর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

 

 

৭। কাঁচা গোবর মাসে ১০ দিন অর্থাৎ তিন দিন পর পর শতাংশে ১ থেকে ১.২৫ কেজি হারে প্রয়োগ করলে ডিম দ্রুত পরিপক্ব হয়। ১০০ কেজি গোবর ১০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডারের সাথে একত্রে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রাখলে গোবর ক্ষতিকারক জীবাণু মুক্ত হয়।

 

 

৮। পুরুষ ও স্ত্রী শিং বা মাগুর মাছ ১:১ অনুপাতে রাখতে হবে। শিং ও মাগুর উভয় প্রজাতির ব্রুডকে একই পুকুরে একত্রে না রাখাই উত্তম।

 

 

৯। খাবারের সাথে অনুমোদিত এন্টিঅক্সিডেন্ট নির্ধারিত মাত্রায় এবং ভিটামিন-ই ২ গ্রাম/কেজি হিসাবে দিলে দ্রুত গোনাডের বৃদ্ধি ঘটে।

 

 

১০। পুকুরের চারপাশ বানা বা জাল দ্বারা ঘেরাও করে নেয়া সবচেয়ে ভালো হয়।

 

তথ্যসূত্রঃ এগ্রি ফারমস ২৪