হাঁস পালন করে প্রতি মাসে আয় ৫০ হাজার টাকাও বেশি

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কশবা গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের কারণে কঠোর পরিশ্রম করতে পারছিলেন না তিনি। এমতাবস্থায় হাঁস পালনের কথা চিন্তা করেন তিনি। ২৫টি দিয়ে শুরু করলেও এখন তার হাঁসের সংখ্যা ৭০০। এখান থেকে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয়।

 

 

জানা যায়, হাঁস পালনের আগে ছেলের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। পরে হাঁস পালনের মাধ্যমে নিজের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। হয়েছেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। এখন তার খামারে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ ডিম উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব ডিম পাইকারি দরে প্রতিটি ৭-৮ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তা দিয়ে কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করে মাসে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হয়।

 

 

খামারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিজে কিছু একটা করার চিন্তা থেকেই হাঁস পালন শুরু করি। প্রথমে ২৫টি হাঁসের দল নিয়ে ছেউটিয়া নদীতে ছেড়ে দিয়ে আসি। সারা দিন হাঁসগুলো নদীর শামুকসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে কাটিয়ে দেয়।

 

 

দিন দিন আমার হাঁসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর নদীর দুই পাশে নেট জাল দিয়ে হাঁসগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকানোর ব্যবস্থা করেন। সন্ধ্যা হলেই হাঁসগুলো তুলে এনে খামারে রাখি। এখন প্রতিদিন খামারে প্রায় ৩০০ ডিম উৎপাদন হয়।

 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার হাঁসের দল নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে। হাঁস দেখাশোনা করার জন্য তার দুইজন কর্মচারীও আছে। পানিতে ডিঙি ভাসিয়ে হাঁসের দলগুলোর নজরদারি করছেন তারা।

 

 

ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান বলেন, যুব সমাজের জন্য সিরাজুল ইসলাম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। বৃদ্ধ বয়সেও হাঁস পালন করে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ আধুনিক কৃষি খামার