রাতের অবশিষ্ট ভাত পান্তা না করে বানিয়ে ফেলুন এই ১০টি মুখরোচক খাবার

আমরা খাওয়া দাওয়া সারার পরে ভাত বেচে গেলে এমনি বা জল দিয়ে ফ্রিজে রেখেদি। পরের বেলা সেই ভাত খাই। মাঝে মাঝে দেখা যায় পান্তাও ফ্রিজে থেকে নষ্ট হয়ে যায় যদি সময় মতো খাওয়া না হয়। সাধের ভাত এরকম নষ্ট হলে কার ভালো লাগে বলুন? এজন্য অবশিষ্ট ভাত বা লেফটওভার রাইস পান্তা না করে বানিযে ফেলুন এই ১০টি মুখরোচক খাবার।

১. ভেজ রাইস কেকঃ

লাঞ্চ বা স্ন্যাকসের জন্য মজাদার ভেজ রাইস কেক বানাতে যা যা লাগবে-

ভাত – ২ কাপ

রান্না করা সবজি – ১ কাপ

ফেটানো ডিম – ২টি

ময়দা – ২ টেবিল চামচ

গ্রেট করা পনির – ১ কাপ

পেঁয়াজ কুচি – ১টি

পুদিনাপাতা (রোদে শুকানো) – ১ টেবিল চামচ

তেল – ২ টেবিল চামচ

সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মাখিয়ে নিন। প্যাটির শেইপ করে কাটুন। ফ্রাই প্যানে তেল দিয়ে গরম করে নিন। এবার প্যাটি গুলোর উভয় সাইড ৩ মিনিট করে ভাজুন। সোনালী রং ধারণ করলে নামিয়ে সসের সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

২. রাইস পিজ্জাঃ

অবশিষ্ট ভাত দিয়ে বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু পিজ্জা।

রাইস পিজ্জা বানাতে লাগবে-

ভাত – ৩ কাপ

ফেটানো ডিম – ২টি

টমেটো পেস্ট – ২ টেবিল চামচ

গ্রেট করা পনির (ফ্যাট কম থাকতে হবে) – ২ টেবিল চামচ

প্রথমে ভাত, ডিম, এবং টমেটো একসাথে মাখিয়ে নিন। তারপর বেকিং ট্রেতে হালকা তেল মাখিয়ে মিশ্রণটা ঢেলে ৪টা পিজ্জার বেইস তৈরি করে নিন। পিজ্জার উপরে গ্রেট করা পনির ছড়িয়ে দিন। পনিরের পরিমান চাইলে কমবেশি করা যাবে। এবারে ১০ মিনিট পিজ্জা বেক করুন। ১০ মিনিট পরে বের করে নিজের পছন্দমতো টপিং দিয়ে আরো ১০ মিনিট বেক করুন। তৈরি হয়ে গেল রাইস পিজ্জা।

৩. এশিয়ান ফ্রাইড রাইসঃ

এতোদিন নিশ্চয়ই চাইনিজ ফ্রাইড রাইস খেয়ে এসেছেন? এখন জানতে পারবেন এশিয়ান ফ্রাইড রাইসের রেসিপি সম্পর্কে।

এর জন্য আপনাকে নিতে হবে-

জেসমিন চালের ভাত

পেঁয়াজ

রসুন

রান্না করা চিংড়ি (খোসা ছাড়ানো)

গাজর কুচি

ফ্রোজেন মটরশুঁটি

বিন স্প্রাউটস

পেঁয়াজ পাতা কুচি

সোয়া সস

ওয়েস্টার সস

ভাজা ডিম কুচি করা

ফ্রাই প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন, চিংড়ি, এবং গাজর কুচি স্টার-ফ্রাই করুন। এবারে এতে মটরশুঁটি, বিন স্প্রাউটস, পেঁয়াজ পাতা কুচি, সামান্য পরিমাণে সয় সস, এবং ওয়েস্টার সস দিয়ে নাড়তে থাকুন। ফ্রাই প্যানটা টস করুন। সবশেষে জেসমিন চালের ভাত এবং কুচি করা ভাজা ডিম দিন। নাড়তে থাকুন আর মাঝে মাঝে ফ্রাই প্যানটা টস করতে থাকুন গরম না হওয়া পর্যন্ত। রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে শসার স্লাইসের সাথে পরিবেশন করুন। এছাড়া বাসি ভাত দিয়ে লেমন

৪. রাইস বার্গারঃ

কি? নাম শুনে অবাক হচ্ছেন? লেফটওভার রাইস দিয়ে রাইস বার্গার বানানো কিন্তু খুব সোজা। খেতেও বেশ সুস্বাদু।

রাইস বার্গার বানাতে লাগবে-

ভাত
সোয়া সস

ভাজা ডিম

শসা বা টমেটোর স্লাইস

প্রথমে গোল দুইটি বাটিতে সমপরিমাণে ভাত ঢেলে চামচ দিয়ে চেপে চেপে প্যাটির শেইপ দিন। তারপর এতে সোয়া সস ব্রাশ করুন। ফ্রাই প্যানে তেল দিয়ে গরম করে তাতে প্যাটিগুলো বাদামি করে ভেজে নিন। এবার প্যাটিগুলোর মাঝে ভাজা ডিম এবং শসা বা টমেটোর স্লাইস দিয়ে বার্গার বানিয়ে ফেলুন। চাইলে ডিমের পরিবর্তে মাংসের প্যাটিও দিতে পারেন। বার্গারটাকে মাঝখানে কেটে রাইস স্যান্ডউইচ হিসেবেও খেতে পারবেন।

৫. রাইস সালাদঃ

রাইস সালাদ বানাতে লাগবে ঢেঁকিছাটা লাল চালের ভাত। সাদা ভাত দিলে স্বাদ অতোটা ভালো না-ও লাগতে পারে।

আরো লাগবে-

আমন্ড

ভাজা পাইন নাট (না দিলেও চলবে)

টমেটোর স্লাইস

ফেটা চিজের টুকরা

লাল পেঁয়াজের স্লাইস

পার্সলে পাতা কুচি

অলিভ অয়েল

রেড ওয়াইন (ঐচ্ছিক)

ভিনেগার

লেবুর রস

অলিভ অয়েল, রেড ওয়াইন, ভিনেগার, এবং লেবুর রস বাদে সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন। ড্রেসিং হিসেবে বাকি উপকরণগুলো মিলিয়ে নিন। হয়ে গেল ঝটপট রাইস সালাদ।

৬. রাইস পুডিংঃ

বেচে যাওয়া ভাত দিয়ে বানিয়ে ফেলুন রাইস পুডিং তাও মাত্র আধা ঘন্টায়।

জেনে নিন কি কি লাগবে রাইস পুডিং বানাতে-

ভাত – ২ কাপ

দুধ – ২ কাপ

চিনি – ৩ টেবিল চামচ

লবণ – ১ চা চামচের আট ভাগের এক ভাগ

ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট – ১ চা চামচ

দারচিনি – ছোট সাইজের ২ টুকরা

জায়ফল – খুব সামান্য

বড় একটি সসপ্যান নিয়ে তাতে ভাত, দুধ, চিনি, এবং লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। মাঝারি আঁচে ১৫-২০ মিনিট ধরে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত পুডিংয়ের মতো কনসিসটেন্সি আসছে। এরপর গ্যাস থেকে নামিয়ে ভ্যানিলা নির্যাস দিয়ে আবারও কিছুক্ষণ নাড়ুন। সার্ভিং ডিশে ঢেলে উপরে দারচিনি আর জায়ফল দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। ঠান্ডা হলে পুডিং ঘন হয়ে জমে যাবে। যদি পুডিংয়ের ঘনত্ব বাড়াতে চান তাহলে গ্যাসে থাকা অবস্থাতেই একটি ডিম ফেটিয়ে দেবেন। ডিম ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকবেন।

৭. টমেটো রাইস/পুর ভরা টমেটোঃ

এই খাবারটা বানানো খুব সোজা। সিম্পল টমেটো অনায়াসে হয়ে যাবে মুখরোচক।

টমেটো রাইস বা পুর ভরা টমেটোর জন্য লাগবে-

বাদামি চালের ভাত

মাঝারি সাইজের টমেটো

ফেটা চিজের টুকরা

তাজা পার্সলে পাতা কুচি

পুদিনাপাতা

গোল মরিচের গুঁড়া

অলিভ অয়েল

টমেটো এবং অলিভ অয়েল বাদে সব উপকরণ মাখিয়ে ফেলুন। টমেটো কেটে এর ভিতরের মাংস ও পাল্প বের করে ফেলুন। তারপর এতে ভাতের মিক্সচারটা পুরে দিন। স্টাফিং দেওয়া হয়ে গেলে টমেটোর উপরে অলিভ অয়েল স্প্রে করে দিন৷ ওভেনে মিডিয়াম হিটে বেক করুন টমেটো নরম না হওয়া পর্যন্ত।

৮. চিকেন বিরিয়ানিঃ

সাধারণত বিরিয়ানি রান্না করা হয় পোলাও চাল, মাংস, ঘি, এবং গরম মশলা দিয়ে। ভেজ পোলাও বানাতেও সময় লাগে। এটা বানাতেও সময় লাগে খরচও বেশি পড়ে। লেফটওভার রাইস দিয়ে তুলনামূলক কম খরচ ও সময়ে চিকেন বিরিয়ানি বানাতে পারেন। কিভাবে বানাবেন?

চলুন দেখে নিই কি কি উপকরণ লাগবে-

ভাত – আধা কাপ

মুরগির মাংস (রান্না করা) – ৫০০ গ্রাম

পেঁয়াজ কুচি – ১টি

রসুন কুচি – ২ কোয়া

চিকেন স্টক – ১ কাপ

হলুদ গুঁড়া – আধা চা চামচ

আদা বাটা – ১ চা চামচ

জিরা বাটা – ১ চা চামচ

তেল – ১ চা চামচ

প্রথমে লো হিটে পেঁয়াজ আর রসুন অল্প তেলে ভেজে নিন। তারপর এতে ভাত আর চিকেন স্টক দিয়ে ঢেকে দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নাড়বেন। চিকেন স্টক ভাতের সাথে পুরোপুরি মিশে গেলে মুরগির মাংস, হলুদ, আদা বাটা, এবং জিরা বাটা দিয়ে রান্না করুন। হয়ে গেলে চুলা বন্ধ করে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। দেখলেন কতো সহজে হয়ে গেল সিম্পল চিকেন বিরিয়ানি।

৯. রাইস অ্যাভোকাডো সালাদঃ

এই খাবারটি মেইন কোর্স হিসেবে খেতে পারেন। আবার গ্রিলড চিকেন বা মাছের সাথেও সার্ভ করতে পারেন। একটি বোলে ব্রাউন রাইস, টমেটো কুচি, ক্যাপসিকাম কুচি, ধনেপাতা কুচি, এবং অ্যাভোকাডোর স্লাইস দিয়ে মাখিয়ে নিন। সালাদটি সিজন করুন গোলমরিচ দিয়ে।

১০. রাইস ওয়াফলঃ

একদিনের বাসি ভাত দিয়ে তৈরি করতে পারেন মজাদার রাইস ওয়াফল। পাবেন ক্রিস্পি ক্রাস্ট এবং সফট অ্যান্ড চিউয়ির এমন অতুলনীয় কম্বিনেশন, একবার খেলে বারবার খেতে মন চাইবে।

রাইস ওয়াফল বানাতে লাগবে-

সাদা বা লাল চালের ভাত – দেড় কাপ

ডিম – ২টি

সয় সস – দেড় টেবিল চামচ

বাঁধাকপি কুচি – ১ কাপ

গাজর ঝুরি কুচি – আধা কাপ

পেঁয়াজ পাতার সাদা অংশ কুচি – ৩টি

রসুন কুচি – মাঝারি সাইজের ১ কোয়া

আদা কুচি – ১ চা চামচ

ওয়াফল মেকার প্রি-হিট করে রাখুন। একটি মিক্সিং বোলে ডিম, বাসি ভাত, এবং সয় সস নিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর বাঁধাকপি, গাজর, পেঁয়াজ পাতার সাদা অংশ, আদা, এবং রসুন দিয়ে আবারও মাখিয়ে নিন ভালো করে। ওয়াফল মেকারে ‘ননস্টিক স্প্রে’ দিয়ে নিন। তারপর এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ মিক্সচার নিয়ে মেশিনের মাঝখানে দিয়ে ঢেকে দিন। ওয়াফল তৈরি হয়ে গেলে বাকি মিক্সচার একইভাবে বানিয়ে নিন। পেঁয়াজ পাতা কুচি বা মেয়োনিজ দিয়ে পরিবেশন করুন রাইস ওয়াফল।