পিঠব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

পিঠে ব্যথা শুধু যে বয়স্কদের সমস্যা তা নয়। অল্প বয়সেও এই সমস্যা হয়। অনেকক্ষণ একইভাবে শুয়ে বা বসে থাকলে পেশিতে টান ধরে, তার ফলে হয়। আবার খুব ভারী ওজন বইলেও পেশিতে খুব টান ধরে, তার ফলেও পিঠে ব্যথা হয়। এছাড়াও মেয়েদের পিরিয়ডের সময় অনেক সময় পিঠে ব্যথা করে, এবং মেরুদণ্ডের হাড়ের দুর্বলতাও পিঠে ব্যথার একটি কারণ।

তবে সমস্যাও যেমন আছে তেমনি তার প্রতিকারও আছে। অনেকেই এর জন্য নিয়মিত ওষুধ খান। তবে শরীরকে সারাক্ষণ ওষুধে ভরিয়ে রাখাও কিছু ভালো কথা নয়। তাই অনেকে ওষুধ খেতেও চান না। তাই ব্যথা কমাতে কিছু ঘরোয়া ব্যবস্থাও আছে।

ব্যাক পেন

আগে সঠিক কারণটা জানুন

সঠিক ট্রিটমেন্ট নিলে সাধারণত ব্যাথা কয়েক সপ্তাহেই কমে যায়। কিন্তু দুসপ্তাহের বেশি যদি ব্যথা থাকে একইরকম ভাবে, তখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান। ব্যথার অনেক কারণই থাকতে পারে। তাই সেই কারণ অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করা ভালো। না হলে কোন লাভ হবে না। তাই আগে ব্যথার সঠিক কারণটা জানুন।

রেস্ট নিন

অনেক সময় একটানা অনেকক্ষণ হাঁটলে, বা দাঁড়িয়ে কোন কাজ করলে ব্যথা হয়। এর জন্য রেস্টের দরকার পড়ে। রেস্ট নিলে কিচ্ছুক্ষণ পর আবার ব্যথা কমে যায়। এর জন্য যে বিছানায় শুচ্ছেন সেটার কোয়ালিটি দেখাও দরকার। কোমরের কাছে বালিশ দিয়ে ঘুমোন। এতে কোমর এক্সট্রা সাপোর্ট পাবে।

সঠিক বালিশ

ঘুমোবার সময় সঠিক বালিশ নির্বাচন করা খুব জরুরী। বালিশের জন্যও পিঠে ব্যথা হয়। খুব বেশি উঁচু বালিশ ব্যবহার করবেন না। এমন বালিশ ব্যবহার করবেন, যাতে ঘাড় ও পিঠ সমান থাকে। মেরুদণ্ড সোজা করে শোয়ার চেষ্টা করবেন। যদি পাশ ফিরে শোবার অভ্যাস হয়, তাহলে হাঁটুর মাঝে বালিশ দিয়ে ঘুমোন। আর যদি উলটে শোয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে, হাঁটুর নীচে বালিশ দিয়ে দিন।

সঠিক ব্যায়াম

শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রোজ ব্যায়াম করছেন খুব ভালো। কিন্তু এমন কোন ব্যায়াম করছেন না তো যাতে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখুন। মেরুদণ্ডে খুব বেশি চাপ লাগছে এমন ব্যায়াম করার দরকার নেই। তবে মেরুদণ্ডের জন্য উপকারি একটা ব্যায়াম করতে পারেন। সেটা হল ক্রাঞ্চ। এটা মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য খুব উপকারি। প্রথমে দুই হাতের চেটোর ওপর মাথা রেখে শুন। তারপর হাতের সাহায্যে শরীরকে একটু একটু তুলুন।

অনেকক্ষণ একটানা একইভাবে থাকবেন না

আপনি কি অনেকক্ষণ একইভাবে বসে থাকেন? এটা কিন্তু ক্ষতিকর মেরুদণ্ডের জন্য। জানি অফিসের কাজে এইভাবে বসে কাজ করতেই হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে ১ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ান। সম্ভব হলে একটু পায়চারি করে নিন। অফিসের কাজের মাঝে এটা অসম্ভব? তাহলে বসার মাঝেই একটু এদিক ওদিক কোমর নাড়িয়ে বসুন। শোয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। একইভাবে অনেকক্ষণ শুয়ে থাকবেন না। তাহলে ব্যথা বাড়বে বই কমবে না।

ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার

অনেক সময়ই দেখা যায়, উপযুক্ত ভিটামিনের অভাবে মেরুদণ্ডের হাড় খুব দুর্বল হয়ে যায়। তার ফলে ব্যথা করে। তাই বেশি করে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান, বিশেষত ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি এর অভাবে এই ব্যথা আরও বেশি হয়। তাই ভিটামিন ডি কে বেশি করে প্রাধান্য দিন। এছাড়াও ভিটামিন বি ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ডিম, দুধ, কলা, আলু খান।

স্নানের জলকে হালকা গরম করে নিন। তাতে অল্প ল্যাভেন্ডার বা ইউক্যালিপটাস তেল ফেলে স্নান করুন।

মাঝে মাঝে কোমরের পিছনে হট ব্যাগ দিয়ে বসুন। আরাম পাবেন।

নারকেল তেল নিশ্চয়ই আছে বাড়িতে? আর একটু কিনে আনুন কপ্পুর।দুটো একসঙ্গে গরম করুন। ঠাণ্ডা হলে কোমরে মালিশ করুন। এটা সপ্তাহে তিন দিন করুন। রাতে শোবার আগে করুন যাতে সারা রাত সেটা থাকে।

আদা চা খান। আদা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

এই টিপস গুলি মেনে চলুন। অনেকটাই উন্নতি হবে। ব্যথা কমবে। এতেও যদি ব্যথা না কমে, খুব বেশি ব্যথা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।