যে সকল কারনে হাঁটুর ব্যথায় অবশ্যই তেল মালিশ করবেন

হাঁটুর ব্যথার জন্য ভুরি ভুরি ওষুধ তো খান নিশ্চয়ই? কিন্তু কতটা শান্তি পাচ্ছেন তাতে?টাকা তো খরচা হচ্ছেই।কিন্তু ভালো আছেন কতটুকু?হাঁটুর ব্যথায় তেল কখনো ম্যাসাজ করেছেন নকি? অসাধারণ উপকারিতা আছে আপনার এই তেল ম্যাসাজে।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে

সঠিক ভাবে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং এই হাঁটু ম্যাসাজের ফলে,শরীরের সব দিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক হয়।এই ম্যাসাজ পায়ের সব দিকে অক্সিজেন ও রক্তের ফ্লো বাড়িয়ে দেয়,যেটা দ্রুত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

হাঁটুকে রিলাক্স করে

হাঁটু ম্যাসাজ হাঁটুকে রিলাক্স করতে সাহায্য করে।পুরো শরীরকে রিলাক্স করে তোলে।তার ফলে হাঁটুর ক্লান্তি অনেকটা দূর হয়।শুধু হাঁটু কেন, শরীরের ক্লান্তিও অনেকটা দূর হয়,যেটা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।তাই হাঁটু ম্যাসাজের পর দেখবেন কত ভালো লাগবে।

ব্যথা উধাউ

হাঁটুর ব্যথার সমস্যায় হাঁটু ম্যাসাজের থেকে ভালো বোধহয় কিছু নেই। মুহূর্তেই হাঁটুকে আরাম দিতে,এবং ভেতর থেকে একটু একটু করে ব্যথা কমাতে এর জুরি মেলা ভার।তবে এর জন্য সঠিক তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে।যেটা হাঁটুর ব্যথার ক্ষেত্রে উপকারী এবং অবশ্যই সঠিকভাবে ম্যাসাজ।আপনি কতটা প্রেশার দিচ্ছেন হাঁটুতে ম্যাসাজের সময় সেটা গুরুত্বপূর্ণ।খুব বেশী চাপ না দিয়ে একদম হালকা হাতে ম্যাসাজ করবেন,যাতে আরাম হয়।আর আগেই বলেছি এতে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়।তাই ব্যথা তো কমবেই।

মন ভালো রাখে

এই পা দিয়েই তো হেঁটে,দৌড়ে সারাদিন কত কাজ।তাই সারাদিনের পর শরীরের সাথে সাথে পাও ক্লান্ত হয়ে যায়।আর এই পায়েরই যত্ন নিতে আমরা ভুলেই যাই।তাই মাঝে মাঝে শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা।তাই এক্ষেত্রে ম্যাসাজ শুধু যে শরীরকে ভালো রাখে শরীরকে চনমনে করে দেয় তাই নয়,মনকেও রিলাক্স করে তোলে।ভরিয়ে তোলে এনার্জিতে আর অনেকের হাঁটুর ব্যথার জন্য,যতটা না ব্যথায় কষ্ট পান তার থেকে অনেকবেশী মনে থাকে ভয় কষ্ট।

অথচ আগে থেকে মনে মনেই যদি ধরে নেন,এই ব্যথা আর কমবে না,আর কিছু করতে পারব না ইত্যাদি।তাহলে কিন্তু কোনোদিনই দাঁড়াতে পারবেন না।কারণ আপনার শরীর পারলেও আপনার মন আপনাকে বাধা দেবে।তাই ম্যাসাজ করুন যেটা আপনার মনকেও ফুরফুরে করে দেবে।

ওষুধের থেকে অনেক ভালো

হাঁটুর ব্যথা কমাতে রোজ তো ভুরি ভুরি ওষুধ খান,সত্যি বলুন তো কতটা আদৌ ভালো আছেন?হ্যাঁ ব্যথা কম থাকছে ঠিকই।শরীরকে এতো ওষুধের,কেমিক্যাল ড্রাগসে ভরিয়ে ফেলাও কি ঠিক?অনেক সময় অতি হাই ডোজের ওষুধে,শরীরে অন্যান্য সমস্যা,প্রচণ্ড অস্বস্তি হয়।

তাই ম্যাসাজের মত ভালো থেরাপি যখন আছে,যেটার খরচাও কম আবার ভেতর থেকে কাজ করে,তখন শুধু শুধু ওষুধে কেন পয়সা নষ্ট করবেন?হাঁটুর ব্যথার কমানোর জন্য দরকার সঠিক তেলের যেটা ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।কীভাবে বানাবেন তেল দেখে নিন।

আদার তেল

এই আদার তেল শুধু যে,পায়ের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে তাই নয়।এটা হার্টের জন্য ভালো,হাইপারটেনশন কমায়,আবার যাদের ঠাণ্ডা লাগার ধাত তাদের জন্যও ভালো।এছাড়াও আছে এর আরও হাজারো গুণ।

উপকরণ

ফ্রেশ আদা ও ১কাপ নারকেল বা অলিভ তেল।

পদ্ধতি

প্রথমে আদা গ্রেট করে নিন বা কুড়িয়ে নিন।এরপর নারকেল তেল বা অলিভ তেলের মধ্যে এগুলো দিন।কম আছে ফোটান।কম আঁচেই ফোটাতে হবে,নাহলে কিন্তু তেল পুড়ে যাবে।তাই একদম কম আঁচে,ভালো করে ফোটান অনেকক্ষণ ধরে।প্রায় একঘণ্টার বেশী সময় ফোটাবেন।আস্তে আস্তে আদার নির্জাস তেলে বেড়িয়ে আসবে।এরপর আদার ছিবড়ে চিপে তেল সংগ্রহ করুন।তেল একটা এয়ারটাইট কন্টেইনারে রেখে দিন। এবার এটা হাঁটুতে ম্যাসাজ করুন হালকা হাতে।রোজ সম্ভব না হলে সপ্তাহে তিন চারদিন করুন।

সরষের তেল

কি ভাবছেন সরষের তেল ব্যথা কমাবে?হ্যাঁ সরষের তেল শুধু হাঁটুর ব্যথাই নয়,পায়ের ব্যথা,ব্যাক পেইন,পেশীতে ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে এবং সর্দি-কাশির সমস্যার ক্ষেত্রেও এই তেল দারুণ উপকার।

উপকরণ

এককাপ সরষের তেল ও কয়েকটা রসুন।

পদ্ধতি

এই তেল যতটা কার্যকরী ততোটাই বানানো সহজ।কিছুই না,জাস্ট সরষের তেল নিন।এবার এতে কয়েক কোয়া রসুন দিন।ভালো করে কম আঁচে ফোটান।একদম কম আঁচে অনেকক্ষণ ফোটান।একঘণ্টা ফোটাবেন।রসুনের নির্জাস তেলে বেড়িয়ে গেলে,নামিয়ে নিন।ঠাণ্ডা হলে ম্যাসাজ করুন।সপ্তাহে তিনদিন করুন।দেখবেন ব্যথায় কত আরাম পাবেন।

তাহলে দেখলেন তো কত উপকার পেতে পারেন এই ম্যাসাজ থেকে।সাথে দিয়েও দিলাম কীভাবে বানাবেন বাড়িতেই তেল।তাহলে বাড়িতেই তেল বানিয়ে নিন আর হাঁটুর এই জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকুন।