জ্বর ঠোসা বা কোল্ড সোর থেকে নিরাময়ের ১০টি ঘরোয়া টিপস

কোল্ড সোর বা জ্বর ঠোসা একটি কষ্টকর ব্যাপার। দেখতেও খুব কুরুচিকর এবং বিব্রতকরও বটে। সুতরাং, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এদের থেকে পরিত্রাণ পাওয়াই বাঞ্ছনীয়। দুই থেকে চার সপ্তাহই এদের স্থায়িত্ব। কিন্তু, আপনি যদি এই সময়সীমাটি হ্রাস করতে চান এবং পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনার থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে আমরা আপনাকে অ্যাসিওর করছি যে এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্যই।

কোল্ড সোর আসলে কি?

কোল্ড সোর কে আমরা “জ্বর ঠোসা” বলেও অভিহিত করে থাকি। আয়তনে এরা ক্ষুদ্র এবং তরলে ভরা থাকে। সাধারণত ঠোঁটেই এদের আধিক্য দেখা যায়। এই জাতীয় ফোসকা ফেটে যাওয়ার পরে একটি ক্রপ ফর্ম তৈরি করে।

জ্বর ঠোসা

কোল্ড সোর, চুম্বনএর মত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দ্বারা এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর মূল কারণ হারপিস সিম্পলক্স ভাইরাস (HSV-1) যা জিনাল হার্পিস (এইচএসভি -২) সৃষ্টি করে। এই দুইটি ভাইরাসই ওরাল সেক্সের মাধ্যমে খুব সহজেই ছড়িয়ে যায়। এগুলি খালি চোখে দেখা যায় না কিন্তু খুবই ছোঁয়াচে।
যদিও ঠান্ডা ঘাগুলি নিজেরাই নিরাময় হয়, তবে সম্পূর্ণরূপে দূরে যেতে চার সপ্তাহ সময় নিতে পারে। দ্রুত পুনরুদ্ধারের সহায়তার জন্য, এখানে আছে কিছু দুর্দান্ত ঘরোয়া প্রতিকার, যা আপনাকে সাহায্য করবে।

স্বাভাবিকভাবে কোল্ড সোর এর প্রতিকার

ঘরোয়া ১০টি উপায়ের যেকোনো একটি ব্যবহার করে জ্বর ঠোসার কষ্ট থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পেতে পারেন। উপকরণ সবই ঘরে পেয়ে যাবেন। তবে এই ১০টি টিপস যে ভাবে নীচে করতে বলা হয়েছে ঠিক সে ভাবেই করবেন ভালো ফল পেতে হলে।

১. টি ট্রি অয়েল

আপনার প্রয়োজনঃ টি ট্রি অয়েল এবং সুতির কাপড়

আপনাকে যা করতে হবেঃ প্রথমেই সুতির কাপড়টিকে, টি ট্রি অয়েলএ ভিজিয়ে নিন এবং আপনার ঘা-এর ওপরে এপ্লাই করুন। এই পদ্ধতি রিপিটেডলি, ঘুমোতে না যাওয়া পর্যন্ত প্রয়োগ করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ অ্যান্টি ভাইরাল প্রপার্টি সমৃদ্ধ টি ট্রি অয়েল ভাইরাস ইনফেকশন রোধ করে।

২. আইস কিউব

আপনার প্রয়োজনঃ একটি আইস কিউব অর্থাৎ বরফ টুকরো।

আপনাকে যা করতে হবেঃ এই আইস কিউব-টিকে কিছুক্ষণ ঘা এর ফোলা অংশে ধরে রাখুন। কিন্তু স্ক্রাচিং করবেন না। এক দিনে কয়েক বার পুনরাবৃত্তি করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ আইস কিউব আপনার ফোলা ভাব কে দূর করবে এবং দ্রুত ঘা সারিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

৩. কোকোনাট অয়েল

আপনার প্রয়োজনঃ কোকোনাট অয়েল বা নারকেল তেল এবং সুতির কাপড়।

আপনাকে যা করতে হবেঃ সুতির কাপড় কোকোনাট অয়েল-এ ভিজিয়ে আপনার ক্ষতস্থানে এপ্লাই করুন। প্রত্যেক ঘন্টায় এটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ কোকোনাট অয়েল একটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এতে ট্রাইগ্লিসারাইডস রয়েছে, যেমন লৌরিক এসিড এবং ওলিক এসিড, যা ভাইরাসকে মারতে পারে এবং ঠান্ডা কালশিটে দ্রুত অপসারণ করতে পারে।

৪.আপেল সিডার ভিনেগার

আপনার প্রয়োজনঃ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এবং সুতির কাপড়

আপনাকে যা করতে হবেঃ সুতির কাপড় অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ভিজিয়ে কোল্ড সোর এর ওপরে এপ্লাই করুন এবং শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এতদিনে তিনবার ইউজ করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ এসিভি একটি চমৎকার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এটি সংক্রমণের কারণে ভাইরাসকে হত্যা করে এবং দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ করে।

৫.পেপারমিন তেল

আপনার প্রয়োজনঃ পেপারমিন অয়েল এবং সুতির কাপড়ের তৈরি একটি বল।

আপনাকে যা করতে হবেঃ পেপার্মিন্ট অয়েল এ, সুতির বলটি ভিজিয়ে কোল্ড সোর এর ওপরে লাগিয়ে দিন। জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার আগে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন। দিনে তিনবার এপ্লাই করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ পেপারমিন তেল, হারপিস সিম্পলক্স ভাইরাস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পেপারমিন্ট তেল পুনরাবৃত্তিমূলক হারপিস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। এই তেল, রেগুলার এপ্লাই, ঠান্ডা ঘা এর পরিত্রাণ পেতে সবচেয়ে এক ভাল উপায়।

৬. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড

আপনার প্রয়োজনঃ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এবং সুতির কাপড়।

আপনাকে যা করতে হবেঃ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড-এ এক টুকরো সুতির কাপড় ভিজিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিন। প্রত্যেক দুই থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর এটি এপ্লাই করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ হাইড্রোজেন পারক্সাইড বিভিন্ন ভাইরাসের স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। এটি রক্তপাত থামাতে পারে এবং ক্ষুদ্রতম দৃশ্যমান চিহ্নের ক্ষত সঙ্কুচিত করে।

৭.রসুন

আপনার প্রয়োজনঃ একটি ছোট রসুনের কোয়া

আপনাকে যা করতে হবেঃ রসুনের কোয়া বেটে সরাসরি ক্ষততে প্রয়োগ করুন। আপনি ভাল ফলাফলের জন্য, সকালে, খালি পেট-এ কাঁচা রসুনও খেতে পারেন। দিনে দুই থেকে তিনবার প্রয়োগ করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ রসুনের নির্যাস হার্পিস সিম্পলক্স ভাইরাসএর উপর ভিরুসইডল এফেক্টেড ফেলে।

৮.লেমন বাম অয়েল

আপনার প্রয়োজনঃ লেমন বাম অয়েল এবং সুতির বল

আপনাকে যা করতে হবেঃ লেমন বাম অয়েলে সুতির বল ভিজিয়ে ক্ষতস্থানে এপ্লাই করুন। পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অবশ্যই অপেক্ষা করার পরে স্থানটি ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। দিনে তিনবার ব্যবহার করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ এই ওয়ালে অ্যান্টি-ভাইরাল প্রপার্টি থাকার জন্য দ্রুত ঘা নিরাময় হয়।

৯. হানি বা মধু

আপনার প্রয়োজনঃ হাফ চামচ হানি

আপনাকে যা করতে হবেঃ আপনার আঙ্গুলের সাহায্যে মধু, ক্ষতস্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। দিনে দুবার ব্যবহার করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ হানি বা মধু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রোপারটিস সমৃদ্ধ। এটি যে কেবলমাত্র সংক্রামিত কালশিটে নিরাময় করতে পারে তা নয়, ফুলে থাকা ত্বককেও শান্ত করে।

১০. মিল্ক বা দুধ

আপনার প্রয়োজনঃ কটন বল এবং সামান্য দুধ

আপনাকে যা করতে হবেঃ কটন বল, দুধে ভিজিয়ে, ঘা এর ওপরে লাগিয়ে, কিছু সময় অপেক্ষা করুন। ২ ঘন্টা অন্তর এপ্লাই করুন।

কিভাবে কাজ করেঃ দুধে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল প্রপার্টি আছে। এটি কেবল সংক্রমণটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেই নয়, আপনার ত্বকে শীতল করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।