বাড়িতে বানানো রুটি নরম করতে হলে দেখে নিন স্টেপ বাই স্টেপ

অন্যান্য সব মুখরোচক খাবার পরিশ্রম করে বানানো গেলেও রুটি বানাতে গেলেই শুরু হয় যত ঝক্কিঝামেলা। আটা মাখানো ঠিক হয়না, মাখানো ঠিক থাকলে শেইপ ঠিক থাকেনা, সব ঠিক থাকলে দেখা যায় সেঁকা ঠিকমত হয়না। আবার ঘন্টার পর ঘন্টা রুটি ফ্রেশ রাখাটাও কঠিন হয়ে যায়।

এইসব সমস্যা থেকে বাঁচাতে আজকে নিয়ে এসেছি পারফেক্ট রুটি বানানোর ইজি স্টেপ। কিভাবে অল্প সময়ে রুটি বানিয়ে অনেকক্ষণ পর্যন্ত নরম রাখতে পারবেন জানতে পড়ে ফেলুন এই লেখাটি।

আটার রুটি বানানোর পদ্ধতিঃ

যা যা লাগবেঃ

পরিমাণমতো লাল আটা/সাদা আটা (চাইলে ময়দাও ব্যবহার করতে পারেন)

১ চিমটি লবণ

১ টেবিল চামচ সাদা তেল

পরিমাণমতো গরম পানি

যেভাবে বানাবেনঃ

আপনি চাইলে আগে থেকে তৈরি ফুটন্ত গরম পানি আটায় ঢালতে পারেন, অথবা চুলায় পানি ফুটে উঠলে তাতে সরাসরি আটা দিতে পারেন।

গরম পানি শেষে ঢাললে আগে আটার সাথে লবণ ও তেল ভালো করে মিশিয়ে নিবেন তারপর পানি দিবেন। আর যদি চুলায় আটা সরাসরি দিতে চান, তাহলে পানি যখন ফুটে উঠবে তখন প্রথমে লবণ আর তেল দিবেন এবং সবশেষে আটা দিবেন।

যেভাবেই করুন না কেন, মিশ্রণ বানানো হয়ে গেলে হাতে মেখে নিন। আটা যেন খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি নরম না হয় মাখার সময়। মাঝারি রকমের থাকবে, যদি মাখানোর সময় হাতে না লেগে থাকে তাহলেই বুঝবেন সব ঠিকঠাক আছে।

এরপরে মাখানো আটা কমপক্ষে ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন, সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট ঢেকে রাখতে পারবেন। তবে ৩০ মিনিটের বেশি রাখলে আটা নরম হয়ে যাবে। এরপরে ছোট ছোট লেচি কেটে পাতলা করে বেলে নিন। লেচি বড় হলে রুটি বড় আর মোটা হবে, তখন ঠিকভাবে ফুলে উঠবেনা। বেলা হয়ে গেলে গরম তাওয়ায় সেঁকে নিন রুটিগুলো।

চালের গুঁড়ার রুটি বানানোর পদ্ধতিঃ

যা যা লাগবেঃ

দেড় কাপ চালের গুঁড়া

১ চিমটি লবণ

পরিমাণমতো পানি

যেভাবে বানাবেনঃ

চুলায় একটি হাঁড়িতে পানি গরম করে নিন। ফুটে উঠলে লবণ ও চালের গুঁড়া দিয়ে ৫ মিনিট মৃদু আঁচে জ্বাল দিন, অবশ্যই এই ৫ মিনিট হাঁড়ি ঢাকা থাকবে, তাতে চালের গুঁড়া ভালোমতো সিদ্ধ হবে।
৫ মিনিট পরে হাঁড়ি নামিয়ে খুন্তি দিয়ে চালের গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে নিন। যদি শুকনো মনে হয় তাহলে আরেকটু পানি দিতে পারেন মাখানোর সময়। মাখানো হয়ে গেলে ১০ মিনিট রেখে দিন গরম ভাবটা কমানোর জন্য।

হালকা গরম থাকতেই মিশ্রণটা মথতে শুরু করুন। ভালোমতো মথে কাই বানিয়ে লম্বা রোলের মতো খামির বানিয়ে নিন। তারপর ছোট ছোট টুকরা করে কেটে গোল বল বানিয়ে বেলে নিন এবং ভেজে নিন। গরম গরম রুটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।

চাকি-বেলন ছাড়া রুটি বানানোর পদ্ধতি

যা যা লাগবেঃ

১ কাপ সাদা/লাল আটা

পরিমাণমতো লবণ

২ কাপ পানি

যেভাবে বানাবেনঃ

এক কথায়, চাকি-বেলন ছাড়া রুটি বানানোর পদ্ধতি ডোসা বানানোর পদ্ধতির মতোই। বাটিতে আটা আর লবণ মিশিয়ে প্রথমে ১ কাপ পানি ঢালুন। এরপরে মিশ্রণটা নাড়তে থাকুন।

প্রথমে ৫ মিনিট মিশ্রণটা নেড়ে বাকি ১ কাপ পানি একটু একটু করে ঢেলে আবার নাড়তে থাকুন। যতক্ষণ না পর্যন্ত মিশ্রণটা একদম পাতলা এবং মসৃণ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। একটু সময় লাগবে এই কাজটা করতে, প্রায় ১৫-২০ মিনিটের মতো৷

ভিতরে আটা দলা পাকিয়ে থাকলে কিন্তু হবেনা, সব আটা সুন্দরভাবে পানিতে মিশে যেতে হবে। এবারে তাওয়ায় টিস্যু বা কাপড় বা তুলি দিয়ে তেল ব্রাশ করে নিন। তারপরে হাতায় করে মিশ্রণ তাওয়ায় ঢেলে তাওয়াটা ঘুরিয়ে নিন যাতে পুরো তাওয়ায় মিশ্রণটা গোল হয়ে ছড়িয়ে যায়।

ঢালার পরে ২৫-৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন এবং উল্টান। একইভাবে অপর পাশটাও সেঁকে নিন। এপাশ-ওপাশ দুই/তিনবার সেঁকার পরে দেখবেন রুটিটা ফুলতে শুরু করেছে। তখন চেপে চেপে সেঁকবেন, না চাপলে রুটি ফুলবেনা। ভাজার সময় চুলার আঁচ মাঝারি রাখবেন৷

সেঁকা হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন। এই পদ্ধতিতে বানানো রুটি খুবই সফট হয় এবং বানাতে সময়ও অনেক কম লাগে।

দীর্ঘক্ষণ রুটি নরম রাখার টিপসঃ

রুটি ভাজার পর ঐ গরম তাওয়াতেই একটু পানি নিন এবং তাতে রুটি একবার গড়িয়েই তুলে ফেলুন। এরপরে হটপটে রেখে দিন।

ভাজার পরে রুটিগুলো না ভিজিয়ে ভেজা কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে পারেন।
রুটির উপরে হালকা তেল বা মাখনও ব্রাশ করে দিতে পারেন। রুটি অনেকক্ষণ নরম ও তুলতুলে থাকবে।

রুটি বানাবেন এখন কিন্তু খাবেন কয়েক ঘন্টা পর – এমন হলে গরম পানির পরিবর্তে গরম দুধ দিয়ে আটা মাখবেন।

অফিসে বা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় যদি রুটি লাঞ্চবক্সে নিয়ে যেতে চান, তাহলে প্রতিটা রুটি গরম থাকতেই ফয়েল পেপারে মুড়ে নিবেন। তাহলে জলীয় বাস্পে রুটি ভিজে অনেকক্ষণ নরম থাকবে।
অবশ্যই আটা মাখতে ফুটন্ত বা হালকা গরম পানি ও তেল ব্যবহার করতে যেন ভুল না হয়।

এই দুটো জিনিস আটার কনসিসটেন্সি ধরে রাখতে সহায়ক। ঠান্ডা পানি আটাকে শক্ত বানিয়ে ফেলে, আবার তেল না দিলে মাখানোর সময় হাতে শক্ত হয়ে লেগে যায়। এমনকি রুটি বেলার সময়েও হালকা তেল দিয়ে নিলে বেলতে আরাম হয়। গরম পানি ও তেল দীর্ঘক্ষণ রুটিকে ফ্রেশ রাখে।

আটাটা যেন ভুষিযুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভুষিযুক্ত আটার রুটি খেতেও যেমন স্বাদ তেমনি থাকেও নরম অনেক সময় ধরে।