রুক্ষ চুল কালো করতে ব্যবহার করুন এই ৫টি তেলের যেকোনো একটি

পাকা চুল ঢাকতে ঘরেই আছে সম্পূর্ণ নিরাপদ সমাধান। জানেন সেগুলো কি? চিরাচরিত হেয়ার অয়েলের সাথে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের কম্বিনেশন। চুল কালো করতে ব্যবহার করুন এই ৫টি তেলের যেকোনো একটি। আর পেয়ে যান ঝলমলে কালো চুল মাত্র এক মাসে, তাও আবার বাড়িতে বসেই।

১. নারিকেল তেলঃ

নারিকেল তেল ও আমলকির সম্মিলিত অ্যাকশনে চুল কালো হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়াও বন্ধ হয়৷ আমলকিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট৷ এটি চুলের কোলাজেন এবং ফলিকল উন্নত করতে সাহায্য করে৷ চুলের যত্নে আমলকি বিভিন্নভাবে তেলের সাথে ব্যবহার করতে পারেন।

অন্যদিকে, নারিকেল তেলের সাথে লেবুর রস, মেহেদিপাতা, কারিপাতা, মেথি ইত্যাদি ব্যবহার করলেও চুল সাদা হওয়া থেকে রক্ষা পাবে৷ হেনার বাদামি রং চুলে বাদামি আভা তৈরি করে, যা চুলের সৌন্দর্য একধাপ বাড়িয়ে দেয়। লেবুর ভিটামিন সি এবং ফসফরাস চুলের স্বাভাবিক কালো রং অটুট রাখতে সাহায্য করে। কারিপাতাও ভিটামিন সি-র আরেকটি চমৎকার উৎস। সাথে আছে মেলানিন, যা চুলকে কালো রাখে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

পদ্ধতি ১

নারিকেল তেল – ৩ টেবিল চামচ

আমলা পাউডার – ২ চা চামচ

তেল গরম করে আমলা পাউডার মিশিয়ে নিন৷ মিশ্রণটি ঠান্ডা করে চুলের গোড়ায় মাসাজ করে ১ ঘন্টা রেখে দিন। তারপরে সালফেটমুক্ত মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে নিন। দ্রুত ঘন কালো চুল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে ৩ দিন এভাবে তেল মাসাজ করে শ্যাম্পু করবেন।

পদ্ধতি ২

নারিকেল তেল – ১ কাপ

শুকনো আমলকী – ৩-৪ টি

তেল আর আমলকী একসাথে গরম করুন। তেল যখন ফুটতে শুরু করবে তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে কাচের বোতলে ভরে রাখুন। ব্যবহারের সময় দুই টেবিল চামচ নিয়ে স্ক্যাল্পে ও পুরো চুলে ১৫ মিনিট ধরে ভালো করে মাসাজ করুন। মাসাজের পরে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ভালো হয় যদি রাতে ঘুমানোর আগে মাসাজ করে সকালে শ্যাম্পু করে ফেলেন। এই মিশ্রণটিও সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করতে হবে।

পদ্ধতি ৩

নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল – ৩ টেবিল চামচ

মেথি গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ

আমলকী – ৬-৭ টি

প্রথমে তেল ভালোমতো গরম করে আমলকীগুলো দিয়ে দিন এবং ১০ মিনিট নাড়ুন। তারপর এতে মেথি গুঁড়া দিয়ে দিন এবং নাড়তে থাকুন। সবগুলো উপকরণ ভালোমতো মিশে গেলে নামিয়ে নিন। মিশ্রণ ঠান্ডা করে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন। ঘুমানোর আগে পরিমাণমতো তেল নিয়ে মাথায় ভালো করে মাসাজ করে নিন। সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করবেন এই প্যাকটি।

পদ্ধতি ৪

নারিকেল তেল – ৫ টেবিল চামচ

কারিপাতা – ৭-৮ টি

প্যানে নারিকেল তেল আর কারিপাতা একসাথে ফুটাতে থাকুন। মিশ্রণটি যখন কালো রং ধারণ করবে, তখন চুলা বন্ধ করে নামিয়ে নিন৷ ঠান্ডা হলে স্ক্যাল্পে ও চুলে ভালো করে মাসাজ করুন। ১ ঘন্টা চুলে তেলটা রাখতে হবে। এরপরে চুলে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ৩ দিন তেল-কারিপাতার মিশ্রণ ব্যবহার করবেন।

পদ্ধতি ৫

নারিকেল তেল – পরিমানমতো (চুলের দৈর্ঘ্য বুঝে)

লেবুর রস – ৪ টেবিল চামচ

তেলে লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপরে চুলসহ স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন। ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ১ বা ২দিনের বেশি এই টোটকা ব্যবহার করবেন না।

পদ্ধতি ৬

নারিকেল তেল – ১ কাপ

মেথি দানা – আধা কাপ

প্রথমে তেল ভালো করে ফুটিয়ে নিন৷ এরপরে মেথি দানা দিয়ে আরো ১০ মিনিট ফোটান। এরপরে মিশ্রণ ঠান্ডা করে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন৷ ঘুমানোর আগে পরিমাণমতো তেল নিয়ে পুরো মাথায় মাসাজ করে নিন, সকালে শ্যাম্পু করে নিন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করবেন।

পদ্ধতি ৭

নারিকেল তেল – আধা কাপ

মেহেদিপাতা – ৩-৪ টি

তেলটা হালকা গরম করে নিন এবং মেহেদিপাতা দিয়ে নাড়তে থাকুন। তেল হালকা বাদামি হয়ে আসলে নাড়া বন্ধ করুন এবং তেল ঠান্ডা হতে দিন। চুলে এই তেল মাসাজ করে ৪৫ মিনিট রেখে দিন। এরপরে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন এভাব৷ ব্যবহার করবেন।

২. সরিষার তেল

সরিষার তেলের নিয়মিত মাসাজে মেলানিন বেড়ে যায়, যা চুলকে ঘন কালো দেখায়। এছাড়া চুলের জন্য প্রয়োজনীয় জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম সব সরিষার তেলে পাওয়া যায়। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি এসিড চুল পড়া কমায় এবং চুলের উন্নত স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। এর সাথে মেথি, ক্যাস্টর অয়েল, হেনা ইত্যাদি মিশিয়ে ব্যবহার করলে মাত্র এক মাসেই পাবেন ঝলমলে কালো চুল।

পদ্ধতি ১

সরিষার তেল – ১ কাপ

নারিকেল তেল – ১ কাপ

মেথি গুঁড়া – আধা কাপ

সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে কাচের বোতলে ১ সপ্তাহে রেখে দিন। ১ সপ্তাহ পর থেকে এই মিশ্রণ সপ্তাহে ২দিন ব্যবহার করবেন। চুলে মাসাজ করে ১ ঘন্টা রেখে তারপরে শ্যাম্পু করে ফেলবেন।

পদ্ধতি ২

সরিষার তেল – ২ টেবিল চামচ

ক্যাস্টর অয়েল – ১ টেবিল চামচ

দুটো তেল একসাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিন। ঠান্ডা হলে এটি চুলে ১০ মিনিট ধরে মাসাজ করুন এবং ৪৫ মিনিট রেখে দিন। ৪৫ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন এই মিশ্রণ ব্যবহারে চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

পদ্ধতি ৩

সরিষার তেল – পরিমাণমতো

মেহেদিপাতা – ৩-৪ টি

প্রথমে তেল ফুটিয়ে গরম করে নিন। এরপর এতে মেহেদিপাতা দিয়ে মৃদু জ্বাল করে কিছুক্ষণ ফোটান। পাতা বাদামি হয়ে আসলে জ্বাল বন্ধ করে নামিয়ে নিন। তেল ঠান্ডা করে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখুন। ঘুমানোর আগে প্রয়োজনমতো তেল চুলে মাসাজ করে সারারাত রাখুন। সকালে অবশ্যই হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিবেন।

পদ্ধতি ৪

সরিষার তেল – ১ কাপ

মেথি দানা – আধা কাপ

তেলে মেথি ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিন, পরেরদিন মৃদু জ্বালে ফোটান। মেথির রং পাল্টে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন তবে পুরোপুরি ঠান্ডা করবেন না। হালকা গরম থাকতে তেলটি চুলে মাসাজ করে ৩ ঘন্টা রেখে দিন। এরপরে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল কালো এবং চুল পড়া রোধ করতে সপ্তাহে ২ দিন এটি ব্যবহার করুন।

পদ্ধতি ৫

সরিষার তেল – ১ কাপ

কারিপাতা – এক মুঠো

প্রথমে সরিষার তেলটা মৃদু আঁচে ভালো করে গরম করে নিন। তারপরে কারিপাতা দিয়ে আরো কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করুন, কুসুম গরম থাকতে স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করুন। ২ ঘন্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন এভাবে কারিপাতা-সরিষার তেল ব্যবহার করবেন।

৩. অলিভ অয়েল

চুলের যত্নে অলিভ অয়েলের উপকারিতা নতুন করে বলার কিছু নেই। ত্বকের সাথে সাথে এটি চুলেরও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। চুলের স্বাভাবিক রং তো ফিরে আসেই, তার সাথে চুল হয় দারুণ শাইনি। অলিভ অয়েলে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান আছে। নিয়মিত ব্যবহারে স্ক্যাল্পের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে, তাতে চুল পড়াও বন্ধ হয়। এই তেলের সাথে অন্যান্য তেল ও উপাদান মিশিয়ে এক ধরণের বিশেষ তেল বানাতে পারেন। যা ব্যবহারে অল্পদিনেই ঢেকে যাবে পাকা চুল।

অলিভ অয়েল – ২ টেবিল চামচ

নারিকেল তেল – ২ টেবিল চামচ

তিলের তেল – ২ টেবিল চামচ

সরিষার দানা – ১ চা চামচ

কারিপাতা – ৩-৪ টি

শুকনো আমলকী – ৩-৪ টি

মেহেদিপাতা – ১০ টি

প্রথমে তেলগুলো একসাথে মিশিয়ে হালকা আঁচে ভালোমতো গরম করে নিন। আরেকটি কড়াইতে সরিষা, কারিপাতা, মেহেদিপাতা৷ এবং আমলকী দিয়ে টালতে থাকুন। একদম শুকিয়ে ভাজা ভাজা হয়ে আসলে এতে গরম তেল ঢেলে আরো ১০ মিনিট গরম করুন। নামিয়ে ঠান্ডা করে কাচের বোতলে এয়ারটাইট করে ৪ দিন রোদে রেখে দিন। এতে উপাদানগুলোর নির্যাস তেলের সাথে ভালো করে মিশে যাবে, ছাঁকার দরকার নেই। এই মিশ্রণ প্রতিদিন স্ক্যাল্পে আর চুলে মাসাজ করতে পারবেন।

৪. তিলের তেল

তিলের তেলে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, থিয়ামিন, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, প্রোটিনসহ আরো নানা উপকারী উপাদান। এগুলো চুল ভাঙা কমায়, চুল ঝরা কমায়, ধূসর চুল কালো করে। এর সাথে যদি মিশে আমন্ড অয়েল, তাহলে তো কথাই নেই। আমন্ড অয়েল দূষণজনিত কারণে চুলের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা পুনরুদ্ধার করে।

তিলের তেল – ২ টেবিল চামচ

আমন্ড অয়েল – ২ টেবিল চামচ

তিল আর আমন্ডের তেল একসাথে মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন এবং স্ক্যাল্পে ৫ মিনিট ধরে মাসাজ করুন। এরপরে হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে নিন, এটা দিয়ে চুল ৩০ মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন। সবশেষে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২ দিন এভাবে তিলের তেল ব্যবহার করবেন।

৫. অ্যালোভেরার তেল

কি অবাক হচ্ছেন? জ্বি হ্যাঁ,অ্যালোভেরা দিয়ে বানাতে পারেন চমৎকার এক হেয়ার অয়েল, যা চুলে ঝলমলে ভাব এনে দিবে। এটি চুল পড়া বন্ধ করে, খুশকির সমস্যা কমায়, রুক্ষ-শুষ্ক চুল কোমল করে, স্ক্যাল্পের চুলকানি ভাব কমায়, চুলের ঘনত্ব বাড়ায়, চুল ও স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে, এবং চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

অ্যালোভেরা জেল – আধা কাপ

রোজমেরি বা অন্য যেকোন এসেনশিয়াল অয়েল – ৫ ফোঁটা

নারিকেল তেল – আধা কাপ

অ্যালোভেরা জেল ও নারিকেল তেল একসাথে মিশিয়ে মৃদু আঁচে ৫-৭ মিনিট গরম করুন। এরপর নামিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা করে নিন। ঠান্ডা হলে এতে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। সবশেষে মিশ্রণটি কালো কাচের বোতলে ঢেলে এয়ারটাইট করে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে আগে ২ সপ্তাহ রেখে দিন। তারপর সপ্তাহে ২ দিন চুলে ও স্ক্যাল্পে মাসাজ করে কোমল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।