সন্তানের বিষন্নতায় ভোগার কারন পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত

আমি এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ি, ১৭বছর বয়স। পড়াশোনার জন্য বাবা মা সবসময়ই চাপ দেয় কিন্তু আমি পড়ায় আগ্রহ পাই না। আমার আগ্রহের বাহিরে কেউ প্রেশার দিলে আমি যাবতীয় সব কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।

আমি আঁকতে ভীষণ ভালোবাসি কিন্তু বাবা মা আমাকে আঁকতে দিতে চায়না। পড়াশোনা শেষ করে তারপর আর আঁকার আগ্রহ থাকে না। আজকাল সব কাজকর্মে অস্বস্তি এসেছে, এখন আর আঁকতেও ভালো লাগে না। সবকিছু অসহ্য মনে হয়।

নিজের সব ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। কথাবার্তায় অগোছালো ভাব আর কাজকর্মে পাগলামি করতে না চাইলেও নিজের অজান্তেই পাগলামি করে ফেলি৷ আমি এই অবস্থা থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছি না। আমি এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। কি করবো?

পরামর্শ

তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, তুমি বিষন্নতায় ভুগছো। তুমি যে আচরণ করছো তা যে স্বাভাবিক নয় এটা সবাই তোমাকে বলছে না কি তুমি নিজে নিজেই বুঝতে পারছো? যদি তুমি নিজে নিজেই বুঝতে পেরে থাকো তাহলে আমি বলবো, তুমি খুব সচেতন একজন মানুষ।

আমি তোমাকে বলবো, তুমি আবার ছবি আঁকানোটা শুরু করে দাও। এতে তোমার মনের উপর থেকে চাপ কমে যাবে। বাবা মা যদি না বোঝে তাদেরকে বোঝাও, খুব ধীরেসুস্থে। পড়াশোনায় একটা লক্ষ্য ঠিক করো, লক্ষ্য ঠিক করলে দেখবে সেটা পাওয়ার জন্য তুমি মরিয়া হয়ে উঠেছ, তখন আর পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে না৷

তুমি কখন বিরক্ত হচ্ছ এবং কেমন কথায় বিরক্তবোধ করছো তা নোটিশ করো। যেই মানুষটা বা যে কথাটা বিরক্ত লাগছে তা খুঁজে বের করো। একটা কথা মাথায় রাখবে যে, মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। তাই কেউ ভুল করেছে বলে তার সম্পর্কে মনে খারাপ ধারণা পুষে রেখো না। নিজের সাথে লড়াই করতে যেও না, এতে তুমি ভেঙ্গে পড়বে বরং নিজের চিন্তাভাবনার বদল ঘটানোর চেষ্টা করো। সব ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে নাও, দেখবে তুমি স্বস্তি পাচ্ছো। এতেও যদি তোমার সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে অবশ্যই মনোবিজ্ঞানীর সাথে দেখা করবে।