জেনে নিন চুল আঁচড়ানোর সঠিক নিয়ম

সুন্দর ও ঝলমলে চুল নারী-পুরুষ উভয়েরই বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। তবে নানা ভুলে আমাদের চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল নির্জীব হয়ে যাওয়া, চুল পড়া ও রুক্ষতা ইত্যাদি সমস্যা চুলে দেখা দেয়। যা চুলের আসল সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।

জানেন কি, চুলের সঠিক যত্নের জন্য ভালোভাবে আঁচড়ানো অনেক জরুরি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে আমরা অনেকেই ঠিকভাবে চুল আঁচড়াতে জানি না। চিরুনির স্পর্শে স্ক্যাল্পের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে স্বাভাবিক তেল। ফলে স্ক্যাল্পের এক জায়গায় তেল জমে না থেকে ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাথায়। এজন্য ঠিক নিয়মে চুল আঁচড়ানো খুব জরুরি।

মনে রাখতে হবে শুধু জট ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে চুল আঁচড়ানো হয় না। এছাড়াও চুল আঁচড়ানোর আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-

চুল আঁচড়ানোর উপকারিতা

চুল আঁচড়ানোর ফলে সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড উজ্জীবিত হয়। এতে করে দৈনিক চুল পড়ার হার কমে যায়। তবে অবশ্যই সঠিক নিয়মে চুল আঁচড়াতে হবে, তাহলে স্ক্যাল্পে তেলের সমবণ্টন হবে। এতে করে চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ও চাকচিক্য বজায় থাকবে।

চুল আঁচড়ানোর নিয়ম

>> প্রথম ধাপ হলো মাথা নিচু করে সব চুল সামনে আনতে হবে। তারপর ঘাড় থেকে শুরু করে চুলের আগা পর্যন্ত আঁচড়াতে হবে। তারপর আবার চুল পেছনে ফেলে কপাল থেকে শুরু করে আঁচড়াতে হবে শেষ অংশ অবধি।

>> সারা দিনে কত বার চুল আঁচড়াতে হবে, তা নির্ভর করে চুলের ধরণ ও দৈর্ঘ্যের উপর। চুল যদি মোটামুটি স্ট্রেইট বা সামান্য ওয়েভি হয় সেক্ষেত্রে দিনে দু’বার আঁচড়ালেই হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেকবার।

>> চুল যদি খুব লম্বা হয় তাহলে দিনে তিন বার চুল আঁচড়াতেই হবে। চেষ্টা করুন বেশিরভাগ সময় চুল বেঁধে রাখার। এতে করে চুলের স্বাভাবিক ওয়েলিভাব বজায় থাকবে। আর চুল বেঁধে রাখলে চুলে জট বাঁধার সম্ভাবনাও থাকবে না।

>> চুল যদি খুব কোঁকড়া হয় বা তেলতেলে হয় তাহলে দিনে এক বার আঁচড়ালেই হবে। সব সময় মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। তাহলে জট দ্রুত মুক্ত হবে।

সতর্কতা

ভেজা চুলে কখনোই আঁচড়াবেন না। সে সময় চুল নরম থাকে। তাই সহজেই চুল ভেঙে যায়। এজন্য গোসলের কিছু সময় পর চিরুনি ব্যবহার করুন।