শীতে শরীর-মন তরতাজা রাখতে গোসলের পানিতে মিশিয়ে নিন এই কয়েকটি উপাদান…

বিজ্ঞাপনে দেখা যায় বাথ টবে শুয়ে থাকা সুন্দরী নায়িকা মেক আপ করা মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে সাবান দিয়ে স্নান করছেন। বাথটাবজুড়ে শুধুই সাবানের ফেনা। নায়িকার চুল পরিপাটি করে বাঁধা, এমনকি হাতের সাবানটি এক্কেবারে নতুন। সাবানের সুন্দর গন্ধ বোঝাতে নায়িকার নাকের কাছে নিয়ে গিয়ে ঘ্রাণ নেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিমেশনে সুগন্ধী ফুল উড়ে যাওয়া দেখানো হলেই বোঝা যায় সাবানটি মাখলে আর পারফিউমের দরকার পড়বে না। আর ওই সাবান মেখেই নায়িকা সারাদিন তরতাজা থাকেন। একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন। অটোগ্রাফ বিলি করেন। ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং বছরের সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কারও পেয়ে যান। মোদ্দা কথা হল এই সাবানটি মাখলে নায়িকার মতো আপনার জীবনে সাফল্য উপচে পড়বে। অফিসে প্রোমোশন হবে, ব্যবসায় উন্নতি হবে, বাড়িতে কাজের মাসি না এলে বাড়ির সকলে হাতে হাতে কাজ করবে, ছেলে-মেয়েকে এমন পড়া পড়াবেন যে তারা ডবল প্রোমোশন পেয়ে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

সাবান মেখে জীবনে উন্নতি হয় কিনা তা নিয়ে তর্ক করাটাও সময় নষ্ট করা। তবে হ্যাঁ, স্নানের সময় কিছু ভেষজ বা প্রাকৃতিক জিনিস ব্যববার করলে দিনভর শরীর এবং মন তরতাজা থাকে। আর তার প্রমাণ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই স্নানের সময় এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করেন। এতে মস্তিষ্কের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মন, শরীর তরতাজা থাকে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে আপনার ত্বক যেমন ভালো থাকবে, মন এবং শরীরও সতেজ হয়ে উঠবে৷ আর সমস্ত উপাদান রয়েছে ঘরের মধ্যেই।

​আদা

রান্নায় স্বাদ আনতে, সর্দি, কাশি সারাতে আদার গুণাগুণের কথা সবাই জানে। কিন্তু তা বলে আদা দিয়ে স্নান? একবার ব্যবহার করে দেখুন। ফল হাতে নাতে পাবেন। এক বালতি জলে এক টুকরো আদা কিংবা বাথটবের জলে চার-পাঁচটি টুকরো আদা ফেলে দিন। আদার জলে স্নান করলে শরীরের ব্যথা দূর হয়। এতে শরীর সতেজ থাকে আবার সর্দি কাশিতেও উপকার পাওয়া যায়।

​গ্রিন টি

প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীর ভালো থাকে। এর ভেষজ গুণের কথা বলে শেষ করা যায় না। এই যেমন এক বালতি জলে দুটি টি ব্যাগ চুবিয়ে রাখুন। বাথটবে স্নান করলে ছয়-সাতটি টি ব্যাগ ব্যবহার করুন। জলের তাপমাত্রা সাধারণ হতে হবে। গরম জল যেন একেবারেই না হয়। গরম জলে গ্রিন টি দিয়ে স্নান করলে আবার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

​দুধ

দুধে স্নান করার রেওয়াজ বহু যুগ ধরেই চলে আসছে। প্রাচীনকালে রাজা-রানি, সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, সুলতান-বেগমরা ধদুধের মধ্যে স্নান করতেন। আজও করা যায়। এক বালতি জলে এক কাপ দুধ মিশিয়ে নিন। আর তা দিয়ে স্নান করে ফেলুন। নিয়মিত দুধ জলে স্নান করলে ত্বকের মৃত কোষগুলো ঝরে যায়।

​ওটমিল

ওটমিল স্বাস্থ্যকর খাবার। যে কোনও বয়সের যে কোনও মানুষই এটি খেতে পারে। কিন্তু এটি যে স্নানের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায় তা হয়তো অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে শীতকালে ওটমিল দিয়ে স্নান করা খুব উপকারী। অলিভ অয়েল বা যে কোনও তেলের সঙ্গে ওটমিল মিশিয়ে গায়ে মাখুন। কিংবা গরম জলে এক দুই কাপ ওটমিল এবং অল্প মধু দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সাধারণ জলের মধ্যে সেই জল মিশিয়ে স্নান করুন। ত্বকের রুক্ষতা কমবে। শরীর তরতাজা থাকবে।

মধু

মধু দিয়ে স্নান করার প্রথার বয়স দশ হাজার ছাড়িয়েছে। স্নানের জলে দুই চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মিনিট পনেরো জলটি রেখে দিয়ে তাতে দিন বেকিং সোডা। আরও পনেরো মিনিট রাখুন। এবার সেই জল দিয়ে স্নান করে ফেলুন।