অনলাইন ক্লাসে স্মার্টফোনের ব্যবহারে শিশুর চোখের ক্ষতি! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

করোনার (Corona) জেরে স্কুল বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা চালু রাখতে অনলাইন ক্লাসই (Online Class) হাতিয়ার। তবে অনলাইনে এভাবে পড়াশোনা করলে বাচ্চাদের চোখের উপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব (Eye Strain)। গবেষণায় উঠে আসছে এমনই তথ্য।

৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ৩০৫ জন পড়ুয়ার উপর এই গবেষণা করা হয়।

বাচ্চাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের রয়েছে মাথা ব্যথা।

গবেষণাটি করেছে কয়েকজন চক্ষু চিকিৎসক মিলে।

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক:

করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল স্কুল। তারপর ২০২১ সালের শেষদিকে এই রাজ্যের স্কুলগুলি খোলা হয়। তবে আবার নতুন বছর পড়তে না পড়তেই বিপত্তি। করোনার বাড়বাড়ন্তে ফের বন্ধ হল স্কুলের দরজা। পড়াশোনা রক্ষায় ফের একবার হাতিয়ার ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন (Smartphone)। অনলাইনে সুরক্ষিত হবে আগামীর ভবিষ্যৎ।

তবে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের দিকে চোখ রাখলে যে আদতে চোখের ক্ষতি হতে পারে, এমনটাই জানাচ্ছে নতুন এক গবেষণা। এক্ষেত্রে বাচ্চার চোখের উপর পড়ে মারাত্মক চাপ। হতে পারে মাথা ব্যথা (Headache)। এছাড়া কিছু বাচ্চা (Children) অকুলার পেইন অর্থাৎ চোখে ব্যথার সমস্যাতেও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই সবাধান।

গবেষণাটি করেছেন কয়েকজন চক্ষু চিকিৎসক মিলে। এক্ষেত্রে ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ৩০৫ জন পড়ুয়ার উপর এই গবেষণা করা হয়। এই বাচ্চাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের রয়েছে মাথা ব্যথা। দুই তৃতীয়াংশের ছিল ডিজিটাল স্ট্রেন, ১৯ জনের রয়েছে অক্যুলার পেইন।

এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৬৩ জন অনলাইন ক্লাস করেছে স্মার্টফোনে, ৬২ জন ব্যবহার করেছে ল্যাপটপ। ৩২ জন ব্যবহার করেছে ট্যাবলেট এবং ১৬ জন ব্যবহার করেছে স্মার্ট টেলিভিশন। মাত্র ৫ জন ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করেছে।

গবেষক দল জানিয়েছে, খুব কাছ থেকে ডিজিটাল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা প্রয়োজন।

কলকাতার বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

বিশিষ্ট চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: হিমাদ্রী বিশ্বাস বলেন, মোবাইলে কম আলোয় ছোট লেখা পড়তে গিয়ে বাচ্চাদের মায়োপিয়া বা মাইনাস পাওয়ারের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া এত কাছ থেকে মোবাইল দেখার কারণে চোখে পড়ছে চাপ। তাই সতর্ক থাকুন।

হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালের বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: সুজয় চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, অনলাইন পড়াশোনা ছাড়া এখন গতি নেই। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি করে সচেষ্ট হতে হবে। পড়াশোনার সময়ের বাইরে আর কোনওভাবেই মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে প্যারেন্টাল লক যাতে বাচ্চা খারাপ কোনও ওয়েবসাইটে চলে না যায়।

কী করতে হবে?

১. একনাগাড়ে বাচ্চাকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

২. এক ২০.২০.২০ নিয়ম মানতে হবে। এক্ষেত্রে ২০ মিনিট ক্লাস করার পর ২০ সেকেন্ড ধরে ২০ মিটার দূরের জিনিস দেখতে হবে।

৩. ক্লাস করে ওঠার পর বাচ্চাকে বাইরের দিকে দূরে কোথাও তাকাতে বলুন।

৪. ক্লাসের পর মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ থেকে থাকুন দূরে।

৫. বাচ্চার সামনে আপনি মোবাইল, টিভি ঘাটতে বসবেন না। তবে সেও এই একই বিষয় শিখবে।

৬. বাচ্চার চোখের সমস্যা থাকুক না থাকুন, বছরে একবার করতে হবে চক্ষু পরীক্ষা।

৭. বাচ্চার কোনও সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। ফেলে রাখবেন না।

৮. পরিশেষে বলি, বইয়ের কোনও বিকল্প নেই। পাঠ্যপুস্তক হোক বা গল্পের, বাচ্চাকে বই পড়ার নেশা ধরিয়ে দিন। দেখবেন চোখের সমস্যা মিটেছে।