যখন তখন বাচ্চা কাঁদে? জেনে নিন বিভিন্ন সময় বাচ্চার কান্নার কারণ ও প্রতিকার

বাচ্চার কান্না (Baby Cry) খুবই স্বাভাবিক। কারণ তাঁর কাছে খিদে পাওয়া বা অন্য কোনও সমস্যা হচ্ছে বোঝানোর অন্য কোনও রাস্তা থাকে না। তাই সে কাঁদে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অনেকে মনে করেন বাচ্চা কাঁদছে মানেই শুধু খিদে পেয়েছে। তাই তখনই তাকে খাওয়াতে শুরু করে দেন। যদিও এই ভাবনার কিন্তু কোনও অর্থ নেই।

রেসপন্সিভ ফিডিং

বাচ্চা কাঁদলে প্রাথমিকভাবে তা খাবার সংকেতই হয়। তখনই তার মা তাকে খাওয়াতে শুরু করেন। এই ধরনের খাবারকে বলে রেসপন্সিভ ফিডিং (Responsive Feeding)। আমরা প্রত্যেকেই ছোটবেলায় এই রেসপন্সিভ ফিডিং-এর মাধ্যমেই বড় হয়েছি। বাচ্চার বড় হওয়া এবং তার সঠিক পুষ্টি হওয়ার নেপথ্যে থাকে খাওয়ানোর এই বিশেষ পদ্ধতি। তবে বারবার বাচ্চা কাঁদলেই আবার খাওয়াতে যাবেন না। হয়তো তখন তার খিদে পায়নি। তখন খাওয়ালে বাচ্চার শরীরটাই খারাপ হবে

বাচ্চার খিদে পেয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

এর পিছনে কোনও রকেট সায়েন্স নেই। বাচ্চার খিদে পেলে সে মুখে হাত দেবে। আপনার মুখের দিকে তাকাবে। ব্রেস্টের দিকে মাথা তুলবে। এই সংকেত দেখলে বুঝতে হবে আপনার বাচ্চার খিদে পেয়েছে।

প্রতিটা কান্না খাওয়ার সংকেত নয়

আপনার বাচ্চা কাঁদছে মানেই খিদে নয়। আপনাকে একটা হিসেব করে চলতে হবে। বাচ্চাকে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ালে একটু বাচ্চার দিকে তাকান। বাচ্চা কি ইউরিন বা পটি করেছে? তার পেট কি খালি খালি লাগছে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর না হলে আপনার বাচ্চার খিদে পায়নি। আর হ্যাঁ হলে, তার খিদে পেলেও পেতে পারে।

তবে বাচ্চা কাঁদে কেন?

নানা কারণে বাচ্চা কাঁদতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাবা-মাকে কাছে চাওয়া, ইউরিন- পটি করে ফেলা, ব্যথা লাগা, গরম লাগা, শীত লাগা, ভয় লাগা ইত্যাদি।

বাচ্চা কাঁদলে কী করবেন?

অনেক বাবা-মা বাচ্চা কাঁদলে অস্থির হয়ে ওঠেন। যদিও বিষয়টা একেবারেই এমন নয়। কোনও চাপ নেওয়ার প্রয়োজনই নেই। বরং এই বিষয়গুলি লক্ষ করুন-

বাচ্চার খিদে পেয়েছে?

বাচ্চা কি প্রস্রাব, পায়খানা করে ফেলেছে?

মশা, পিঁপড়ে কিছু কামড়াচ্ছে না তো?

বাচ্চার ব্যথা লেগেছে কি? বাচ্চা কি শরীরের কোথাও বারবার হাত দিচ্ছে?

এই সকল সংকেতগুলি দেখার পরও কিছু না বুঝতে পারলে বাচ্চাকে কোলে তুলে নিন। হয়তো ও আপনার স্নেহের স্পর্শ চাইছে। হয়তো সে কিছুতে ভীষণ ভয় পেয়েছে বা ঘাবড়ে গিয়েছে।

এরপরও বাচ্চা অনেকক্ষণ ধরে কাঁদতে থাকলে বাড়িতে বসে থাকবেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন।