হাতের কয়েকটি লক্ষণেই বুঝতে হবে শরীরে সুগার বেড়েছে, আজই মিলিয়ে দেখুন

ভারতে ডায়াবিটিস (Diabetes) আক্রান্তের সংখ্যা রোজই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসুখে আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে মূলত জীবনযাত্রা ও খাদ্যভ্যাসের ভুলত্রুটি। এক্ষেত্রে কম ঘুমানো, পরিশ্রম না করা, হাই ক্যালোরি ডায়েট করা ইত্যাদি বদভ্যাস এই সমস্যাকে ডেকে আনে। এছাড়া এই রোগের নেপথ্যে বংশগতিরও একটা ভূমিকা রয়েছে।

তবে বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এই রোগটিকে সহজেই আয়ত্বে আনা যায়। তবে সেক্ষেত্রেও আপনাদের অনেকবেশি মাত্রায় হতে হবে সতর্ক।

ডায়াবিটিস

শরীর যখন রক্তে থাকা শর্করাকে ব্যবহার করতে পারে না তখন ডায়াবিটিস হয়। এক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা ইনসুলিন তৈরি হলেও দেখা তা শরীর ব্যবহার করতে পারে না (Insulin Resistance)। তাই প্রথম থেকেই সতর্ক থাকুন।

রোগের ভাগ

ডায়াবিটিস রোগটিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- টাইপ ১, টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবিটিস (Type 1 Diabetes) রোগটি ছোটদের হয়। এক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন (Insulin) তৈরি হয় না। অপরদিকে টাইপ ২ ডায়াবিটিস (Type 2 Diabetes) রোগটি বড় বয়সে হয়। এক্ষেত্রে শরীরে ভালো পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা ইনসুলিন তৈর হলেও তা ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারে না শরীর।

ডায়াবিটিক নিউরোপ্যাথি

ডায়াবিটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে হতে পারে ডায়াবিটিক নিউরোপ্যাথি (Diabetic Neuropathy) । এক্ষেত্রে হাত-পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। সাধারণত ৪ ধরনের ডায়াবিটিক নিউরোপ্যাথি হয়। তবে এরমধ্যে মোনোনিউরোপ্যাথির (Mononeuropathy) ক্ষেত্রে দেখা দেয় জটিল লক্ষণ (Diabetic Neuropathy Symptoms)। তাই এই রোগ থেকে থাকুন সাবধান।

মনোনিউরোপ্যাথি রোগটির ক্ষেত্রে হাতে দেখা দিতে পারে অবশভাব। হাতের উপরিভাগের পাশাপাশি হাতের সমস্ত আঙুলেও দেখা দিতে পারে অবশভাব।

এছাড়াও শরীরে ফুটে উঠতে পারে এই লক্ষণগুলি-

১. হাতে দুর্বলতা।

২. মুখের একদিকে প্যারালিসিস।

৩. একদিকের চোখের পিছনে ব্যথা।

৪. ডবল ভিসন।

৫. চোখের ফোকাসে সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবিটিস থাকা মানুষের এই সমস্যাগুলি দেখা দিলেই সোজা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবেই হবে সমস্যার সমাধান।

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে

সুগার রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কাজগুলি করুন-

১. ওজন কমাতে হবে।

২. নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। দিনে ৩০ মিনিট এক্সারসাইজ হল মাস্ট।

৩. চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে।

৪. কার্বোহাইড্রেট কম খান। অর্থাৎ ভাত, রুটি, আলু কমান। বদলে ফাইবার মানে সবজি, ওটস, ঢেঁকি ছাঁটা চাল বেশি মাত্রায় খান।

৫. নিয়মিত বাড়িতে সুগার পরীক্ষা করুন। কমবেশি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আশা করি এই নিয়ম মেনেই ভালো থাকবেন।