শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিতে পারে জেনে নিন প্রতিকার এর উপায়

ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) রোগটি একজন মানুষের জীবনে ফেলতে পারে মারাত্মক প্রভাব! মুশকিল হল, এই জটিল রোগটি বেশিরভাগ সময়ই ধরা পড়তে চায় না। আর যখন ধরা পড়ে, তখন সমস্যা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।

হাইলাইটস

ইউরিক অ্যাসিড রোগটি হল একটি বিপাকীয় সমস্যা।

গাঁটে গাঁটে জমে ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল হিসেবে।

ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ সম্পর্কে অনেকেরই তেমন কোনও ধারণা নেই।

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক:

রক্তে থাকা এক ধরনের রাসায়নিকের নাম ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid)। তবে ইউরিক অ্যাসিডের কথা শুনলেই ভয়ে শিউরে উঠবেন না। কারণ ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) সকলের শরীরেই রয়েছে। এক্ষেত্রে খাদ্যে উপস্থিত পিউরিন নামক একটি যৌগ ভেঙে তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। তবে ইউরিক অ্যাসিড শরীরে স্বাভাবিক মাত্রায় তৈরি হলে তেমন কোনও সমস্যা নেই। বেশি মাত্রায় তৈরি হলেই দেখা দেয় সমস্যা। এক্ষেত্রে শরীরে বেশি মাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হলে কিডনি তা প্রস্রাবের (Urine) মাধ্যমে বাইরে করে দিতে পারে না। ফলে রক্তে থাকে বেশি পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড। এই ইউরিক অ্যাসিড আবার শরীরের নানা জায়গায় জমে। এক্ষেত্রে শরীরের গাঁটে গাঁটে জমে ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল (Uric Acid Crystal) হিসেবে। তখন প্রচণ্ড ব্যথা হয়। হাঁটা-চলা করা যায় না। হাতে হলে হাত নড়ানোও সম্ভব হয় না।

ইউরিক অ্যাসিড রোগটি হল একটি বিপাকীয় সমস্যা। এক্ষেত্রে শরীরের বিপাকে জটিলতা দেখা দেয় বলেই মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। মূলত হাড় ও কিডনিতেই ইউরিক অ্যাসিড বেশি প্রভাব ফেলে। তবে ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণ সম্পর্কে অনেকেরই তেমন কোনও ধারণা নেই। সেক্ষেত্রে এই কয়েকটি বিষয়ের দিকে রাখতে হবে সজাগ নজর।

প্রস্রাবে রক্ত-

শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে বারবার প্রস্রাব পাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। কারণ কিডনি চায় শরীরে থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডকে বের করে দিতে। তবে বারবার প্রস্রাব ছাড়াও ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে প্রস্রাব থেকে বেরতে পারে রক্তও। এছাড়া হতে পারে ইউটিআই বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন। তাই ইউরিক অ্যাসিডকে হালকা চালে নিলে চলবে না।

প্রস্রাবের সময় জ্বালা-

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ব্যক্তির প্রস্রাব করার সময়ও দেখা দিতে পারে সমস্যা। এক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় অনেকেরই জ্বালা করে। এই জ্বালা এতটা বেশি হয় যে মানুষটি প্রস্রাব আসলেও অনেক সময় করতে চান না। তাই আপনার সঙ্গেও এমনটা ঘটলে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সমস্যা তাড়াতে

এই সমস্যা তাড়াতে চাইলে খাবারদাবারের দিকে নজর দিতে হবে। কফি, কোল্ড ড্রিংকস, মদ, ফুলকপি খাওয়াটা এবার কমান। করা যাবে না ধূমপানও। এছাড়া বেশি চিনি যুক্ত খাবার খাবেন না। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রোটিন যেমন- রেড মিট, সি ফুড ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের খাবারে থারে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন।

এছাড়া আপনার ওজন কমাতে হবে। ওজন বেশি থাকলেও এই সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই আপনি অবশ্যই সতর্ক থাকুন। পাশাপাশি ব্যায়াম করাও জরুরি। ব্যায়াম করলে বিপাক সংক্রান্ত নানা সমস্যা কমে। তাই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম হল জরুরি।

ওষুধ

ইউরিক অ্যাসিডের চিকিৎসায় অত্যাধুনিক সব ওষুধ চলে এসেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেই ওষুধও (Uric Acid Medicine) খেতে হতে পারে। তবে চিকিৎসক না বলা পর্যন্ত একেবারেই বন্ধ করবেন না ইউরিক অ্যাসিডের ওষুধ। তবেই ভালো থাকবেন।