শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে নতুন বছরের পার্টিকে না বলুন, নিজের যত্ন নিন

ভাবলে অবাক লাগে, এই কিছুদিন আগেই আমরা কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ কাটিয়ে এসেছি। কাতারে কাতারে মানুষ করোনার (Corona) এই দ্বিতীয় ঢেউতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালগুলির অবস্থা হয়েছিল তথৈবচ! সারাদিন ব্যস্ততা লেগে থাকত চিকিৎসকদের জীবনে। তারপরও ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা। ছিল না বেড। কত রোগীর হয়নি হাসপাতালে ঠাঁই। তবে সেই সময়টা আমরা আজ পেরিয়ে চলে এসেছি। দ্বিতীয় ঢেউ এখন অতীত। তবে করোনার বোধহয় আমাদের পিছু ছাড়ার কোনও লক্ষণই নেই। তাই বছর শেষ হতে না হতেই আবারও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। ফের বাড়ছে সংক্রমণ।

আবারও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। রোজই করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধি। আর এই নিয়েই শঙ্কিত রয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এভাবে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ফের খারাপ দিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই আজ থেকেই হতে হবে সাবধান। বিশেষত, সাধারণ মানুষকে আরও বেশিরকম সতর্ক হতে হবে। তবেই এই রোগের হাত থেকে কিছুটা হলেও পাওয়া যাবে মুক্তি। ছবি সৌজন্যে: পিক্সেলস

​বিপদের নাম ওমিক্রন

এই তো নভেম্বরের কথা। এই মাসের শেষ দিকে শোনা গিয়েছিল ওমিক্রনের কথা। সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের জন্য এই ভাইরাসের দেখা মেলে। তবে প্রথম থেকেই এই ভাইরাস নিয়ে আমাদের সকলেক সচেষ্ট করে এসেছে বিজ্ঞানীরা। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা দেখেন, এই ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে ঘটে গিয়েছ বড়সড় মিউটেশন। অর্থাৎ সোজা ভাষায় ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে ঘটেছে বড় পরিবর্তন। ফলে ওমিক্রন (Omicron) স্ট্রেন আগের থেকে হয়ে উঠেছে অনেক বেশি সংক্রামক। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কথায়, এই ভাইরাস হল চিন্তার কারণ। আর এই ভাইরাসকে কেন্দ্র করেই গোটা বিশ্বে শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধ প্রস্তুতি। বহু দেশে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। তাই প্রতিটি দেশই অত্যন্ত সতর্ক। বহুদেশ বিমান পরিষেবা বন্ধ রেখেছে যাতে এই ভাইরাস ঢুকতে না পারে।

​ভারতে ওমিক্রন

সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম দেখা মিললেও ভারতেও ইতিমধ্যেই এসে হাজির হয়েছে এই ভাইরাস। এমনকী আমাদের রাজ্যেও এখন ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। আর এই নিয়েই চিন্তায় রয়েছে, দেশের বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ তাঁরা জানেন একবার যদি এই ভাইরাস নিজের খেল দেখাতে শুরু করে তাহলে আর রক্ষে নেই। তখন ফের কাতারে কাতারে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হবেন। ফের দেখা দিতে পারে করোনা ঢেউ। তখন আবার হাসপাতালে হবে বেডের অভাব। তাই ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যে প্রথমে থেকেই বেশ সচেতন রয়েছে দেশের প্রশাসন। সেই মতো নেওয়া হয়েছে বহু ব্যবস্থা। এখন বিদেশ থেকে ভারতে আসা প্রতিটি মানুষের করনো টেস্ট হচ্ছে। কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ওমিক্রনের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে করা হচ্ছে জিনোম সিকোয়েন্স।

ওমিক্রন আটকাতে একেবারে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যগুলি। ইতিমধ্যেই করোনার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দিল্লিতে জারি হয়ে গিয়েছে হলুদ সতর্কতা। সেই রাজ্যে বন্ধ হয়েছে স্কুল, কলেজ। সব অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। গণ পরিবহণ চলবে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে। অর্থাৎ আবার শুরু হয়েছে বিধি নিষেধ। তবে আমাদের রাজ্য এখনও সেই পথে না হাঁটলেও ইতিমধ্যেই গুছিয়ে রেখেছে সরকার। এক্ষেত্রে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং চালু হয়েছে। দ্রুত যাতে করোনা চিহ্নিত করা যায় তাই নিয়েও দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশ।

বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, করোনার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই মানুষের কিন্তু কোনও হেলদোল নেই। তাঁরা বেহিসেবি ঢঙে বড়দিন পালন করেছেন। ঘুরেছেন, ফিরেছেন মাস্ক ছাড়া। ভিড় বাস-ট্রেনে বেশ আনন্দের সঙ্গেই উৎসব উদযাপনের জন্য পৌঁছে গিয়েছেন। আর দেখা যাচ্ছে, তারপরই বাড়তে শুরু করেছে করোনা। তাই নতুন বছরে (New Year) তাঁদের মতে এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে একেবারেই পার্টিতে যাওয়া চলবে না-

১. জ্বর বা জ্বর জ্বরভাব।

২. শরীরে ব্যথা।

৩. গলা ব্যথা।

৪. স্বাদ, গন্ধ না পাওয়া।

৫. কাশি।

৬. সর্দি।

৭. শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

সুস্থ থাকতে চাইলে এই লক্ষণগুলি নিয়ে কোনওভাবেই আর বাইরে বেরতে যাবেন না। পার্টিতে যাওয়ার কথা ভুলে যান। বাড়িতেই কাজ করুন। আর কোনওভাবেই উপসর্গগুলি দেখা দিলে ফেলে রাখবেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে তাঁর পরামর্শমতো করে ফেলুন করোনা পরীক্ষা। করোনা পজিটিভ আসলে শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বাড়িতে থাকুন বা হাসপাতালে ভর্তি যান। চিকিৎসা হলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। আর যাঁরা এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিত এড়াতে চাইছেন, তাঁরা করোনা বিধি মানুন। মাস্ক পরুন, হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এই কয়েকটি নিয়মেই দূরে থাকবে করোনা। ভালো থাকবেন। আর নতুন বছর ভালো থাকবেন। ছবি সৌজন্যে: পিক্সেলস