মহামারী পরবর্তী শৈশবে প্রয়োজন বিশেষ নজর, জেনে নিন নতুন বছরে কেমন হবে পেরেন্টিং টিপস

প্রতিটা বিপর্যয়ের সঙ্গে থাকে কোল্যাটেরাল ড্যামেজ৷ করোনা ভাইরাস মহামারিতে এই ক্ষতির মাশুল দিয়েছে এবং দিচ্ছে শিশুরা৷ তাদের সামাজিক জীবন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়েছে৷ ক্রমাগত অনলাইন ক্লাস করতে করতে চোখের স্বাস্থ্যরও দফারফা৷

তাদের বড় করে তোলা র জন্য পেরেন্টিং টিপসও পাল্টে গিয়েছে অনেক দিন৷ অতিমারির পরোক্ষ প্রভাব থেকে শিশুদের বাঁচানোর জন্য নতুন বছরে কী কী বিষয় মনে রাখতে হবে, দেখে নিন (parenting tips)৷

শিশুদের ক্ষেত্রেও কিন্তু মানসিক আঘাত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে৷ জীবনের পথে আঘাতের মুখোমুখি হলে কী করে তা সামলাবে, সে বিষয়ে তৈরি করুন শিশুকে৷ এ সময় শিশুর প্রতি স্পর্শকাতর না হলে পরবর্তীতে কিন্তু সেই আঘাতের জের রয়ে যাবে৷ তার প্রভাব পড়ে শিশুর ব্যক্তিত্বেও৷

পরিবর্তিত এই সময়ে ইন্টারনেট এখন শৈশবেরও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ইন্টারনেটকে এড়িয়ে চলা এখন অসম্ভব৷ কিন্তু অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে দেখতে হবে যাতে ইন্টারনেটের অপপ্রয়োগ না হয়৷ ইন্টারনেট যেন আপনার সন্তানের কাছে নিরাপদ ক্ষেত্র থাকে, খেয়াল রাখতে হবে সেদিকেও৷

বাচ্চাদের জীবনে নানা উপলক্ষে উপহার এসেই থাকে৷ কিন্তু উপহার মানেই যে দামি জিনিস, সেই ধারণা যেন তাদের মনে তৈরি না হয়ে যায়৷ বস্তুতান্ত্রিক উপহারের পাশাপাশি অন্য উপহারও যে অপেক্ষা করে থাকে, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন৷ উৎসাহ দিন ছবি আঁকতে৷ সন্তানকে বলুন তার নিজের শোওয়ার ঘর নিজেকেই সাজাতে৷ তার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে সাজাতে বলুন৷

জেন্ডার নিউট্রাল পেরেন্টিং খুবই প্রয়োজন সন্তানকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে৷ ছেলে বা মেয়ে-লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় ছাপিয়ে বড় করে তুলুন সন্তানকে৷ ছোট থেকেই ছেলে মানেই নীলরং এবং মেয়ে মানেই গোলাপি-এই ধারণা বদ্ধমূল হতে দেবেন না৷ ছেলে হলেই ‘হুইলস’ বা মেয়ে হলেই ‘হিলস’ ভাল লাগবে-এ কথা চিরদিনের জন্য সরিয়ে দিন নিজের মাথা থেকেও৷

সন্তানের সঙ্গে বাবা মায়ের সম্পর্কে মন দিয়ে শোনার বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ সব সময় সন্তানই যে আপনার কথা শুনবে, তা নয়৷ আপনিও ওর কথা শুনুন মন দিয়ে৷ তাহলে দু’পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হবে৷ আপনি সন্তানকে বুঝতেও পারবেন৷