মেয়েরা চুলের সঠিক যত্নে এড়িয়ে চলুন এই পাঁচ ভুল

সাজগোজ করতে কার না ভালো লাগে! আর সাজগোজের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো কেশসজ্জা। কেবল চুলের ভিন্ন ভিন্ন সাজেই বদলে যায় মুখের লুক। চুলের নানা স্টাইল করতে গিয়ে আবার চুলগুলো নষ্ট করে ফেলছেন না তো? তবে চুলের সুস্থতাই নিশ্চিত করে চুলের সৌন্দর্য। প্রত্যেক মানুষই আলাদা, নিজস্বতায় অনন্য। চুলের বেলায়ও তাই। একেক জনের চুল একেক রকম সুন্দর। তবে কেশসজ্জায় একটু সতর্ক থাকলে স্টাইল আর চুলের সুস্থতা একসঙ্গেই থাকতে পারে। সতর্ক থাকুন নিচের এই পাঁচ ক্ষেত্রে।

১. আমরা অনেকেই ঘুমানোর আগে চুলে দুটি বেণি করি। তারপর বেঁধে রেখে দিব্যি ঘুমিয়ে পড়ি। প্রতিদিন একইভাবে বাঁধার কারণে চুলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বারবার চাপ পড়ে। তাতে চুল ভাঙা শুরু হয়। তাই প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পনিটেইল করতে হবে। দুই বেণি, এক বেণি, ফ্রেঞ্চ বেণি—চলতে পারে সবই।

২. শক্ত করে ঝুঁটি না করলে আপনার চলেই না? তবে সাবধান। এতে খুলির ওপর বেশি চাপ পড়ে। চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটিই হতে পারে অস্বাভাবিক চুল ঝরার মুখ্য কারণ। খুব শক্ত করে চুল বাঁধার দরকার নেই। আর একান্তই যদি এভাবে চুল বাঁধেন, তাহলে চুল খোলার পর স্কালে ভালোভাবে ঘষে ঘষে ময়েশ্চারাইজার, তেল লাগাতে হবে। আর চুল বাঁধার জন্য অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে কাপড়ের ব্যান্ড ভালো।

৩. ভেজা চুল বাঁধলে অনেক ক্ষতি। তাই আগে চুল শুকিয়ে নিন। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে হলেও। ফটোশুট বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ওয়েট গ্লসি লুকের জন্য ভালো মানের স্প্রে ব্যবহার করুন।

৪. চুল স্ট্রেইট করা তো এখন রীতিমতো ট্রেন্ডি। হাতে চুল স্ট্রেট করার মতো টাকা জমলেই নারীরা সবার আগে এটিই করেন! কিন্তু স্ট্রেইট করা চুলের চাই আলাদা যত্ন। স্ট্রেইটনারের থার্মাল হিটে অনেক ক্ষেত্রেই বদলে যায় চুলের অভ্যন্তরীণ মলিকিউলের গঠন। এতে চুলের বাইরের লেয়ার ভেঙে যায়। চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এটি চুলের আগা ফাটার অন্যতম কারণ। স্ট্রেট না করে চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। তাতে দুধের স্বাদ ঘোলে হলেও মিটবে। চুলগুলো সোজা দেখাবে। আর চুলেরও বিশেষ ক্ষতি হবে না।

৫. মহামারিকাল এসে চুলে রং করায় আগ্রহ কিছুটা কমেছে। তবে ট্রেন্ডে নেই, তা নয়। তবে চুলে রং করা ক্ষতিকর। হালকা রঙে বেশি ক্ষতি। তাই চুল বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যে রঙের চুল, তার কাছাকাছি কোনো রঙে রাঙাতে।

চুলে একাধিক রঙের ব্যবহারও এখন বেশ দেখা যাচ্ছে।

এতে ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়। অস্থায়ী হেয়ার কালারগুলো কম ক্ষতিকর। এ ছাড়া অনেকে চুল ঘন করতে আলগা চুল লাগান। এতে যে চুলগুলো আছে তার সঙ্গে আরও চুল জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে আসল চুলের ওপর চাপ বাড়ে। আর যে স্থানে অন্য চুল জোড়া দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে চুল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।