কখন বুঝবেন ক্যানসার হয়েছে? জেনে নিন কিছু আগাম লক্ষন

ইরফান খানের পর এবার সোনালি বেন্দ্রে ৷ গোটা দুনিয়াকে হতবাক করে অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন, তিনি হাই গ্রেড ক্যান্সারে আক্রান্ত ৷ নিউইয়র্কে চিকিৎসা চলছে তাঁর ৷ ট্যুইটে সোনালি জানিয়েছেন, কিছুদিন যাবৎ শরীরে হাল্কা ব্যাথা অনুভব করছিলেন তিনি ৷ চিকিৎসকের কাছে গেলে, কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়, তাতেই ধরা পড়ে তাঁর এই রোগ ৷

ক্যানাসার.নেট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, চিকিৎসার ভাষায় তার নাম ‘মেটাস্ট্যাটিক ’৷ এই ধরণের ক্যানসার ধরাই পড়ে চতুর্থ স্টেজ থেকে ৷ অর্থাৎ প্রথম থেকে এই ধরণের ক্যানসারের গতি-প্রকৃতি ধরা পড়ে না ৷

ক্যানসার একটি জটিল মারাত্মক রোগ। এটি শরীরের যেকোনো অঙ্গে হতে পারে। এটি টিউমার অথবা অদৃশ্য রক্তের শ্বেতকণিকা হতে পারে। ক্যানসার একটি মাত্র কোষ থেকে সৃষ্টি হয়।

মানুষের শরীর লাখো-কোটি কোষ দিয়ে গঠিত। এই কোষের মূল উপাদান হচ্ছে ক্রমোসোম। এই ক্রমোসোমের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য জিন। প্রতিটি জিন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে বা কর্মসম্পাদনের জন্য দায়ী থাকে। এ ধরনের একটি জিন হচ্ছে প্রটো অনকোজিন, আরেকটি হচ্ছে ক্যানসার সাপ্রেসরজিন। নাম শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন, ক্যানসার সাপ্রেসরজিন শরীরে ক্যানসার না হওয়ার জন্য কাজ করে। আর প্রটো অনকোজিন অনকোজিন হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। কোনো কারণে যদি ক্যানসার সাপ্রেসর জিন তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে বা প্রটো অনকোজিন অনকোজিনে রূপান্তরিত হয়ে যায়, অথবা উভয় প্রক্রিয়া একই সঙ্গে ঘটে, তাহলে অনকোজ বা টিউমার বা নিওপ্লাসিয়া বা ক্যানসার শুরু হয়ে যায়।

ধরা যাক, যেকোনোভাবে আপনার জিহ্বায় একটি ক্ষত সৃষ্টি হলো। দু-চার দিনের মধ্যে ক্ষতটি পূরণ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেল। যদি কোষ বৃদ্ধি ব্ন্ধ না হয়ে চলতেই থাকত, তাহলে কী হতো? কোষ বাড়তে বাড়তে মুখের বাইরে চলে আসত। এই প্রক্রিয়া ওই দুটি জিনের সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের জন্য হয়ে থাকে।

জন্মগতভাবে অনেকের জেনেটিক সমস্যা থাকে। এতে খুব অল্প বয়সে, এমনকি দুই বছরের কম বয়সে চোখের ক্যানসার, কিডনির ক্যানসার, মস্তিষ্কের ক্যানসার ইত্যাদি হয়। জিনের এই নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কার্যকারিতা হারানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় সেলুলার মিউটেশন। এই সেলুলার মিউটেশন পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণেও হয়ে থাকে। যেমন: রেডিয়েশন এক্স-রে, গামা-রে, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি , তামাকের ধোঁয়া, অ্যাসবেসটর, আলকাতরা, আর্সেনিক, ডিটিটি পাউডার, কাপড়ের রং করার অ্যানিলিনডাই, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ইত্যাদি।

অধিক চর্বিযুক্ত খাবার, ছত্রাকযুক্ত খাবার, অধিক মাংসভোগী এবং কম সবজি ও কাঁচা ফল গ্রহণকারীর ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যে মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করান না এবং যে নারী সন্তান গ্রহণ করেননি অথবা আদৌ বিয়ে করেননি, তাঁদের স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ছাড়া যেসব লোক একাকী জীবনযাপন করেন এবং সদা বিমর্ষ থাকেন, তাঁদেরও ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে প্রচুর কারসিনোজেন থাকে। কারসিনোজেনই হচ্ছে সেই পদার্থ, যা ক্যানসার সৃষ্টি করে বা করাতে চায় (সেলুলার মিউটেশনের মাধ্যমে)। তামাকের ধোঁয়ার মধ্যে কারসিনোজেন হচ্ছে কেমিক্যাল কারসিনোজেন। ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার, স্বরনালির ক্যানসার, গলনালির ক্যানসারসহ প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ক্যানসার হতে পারে।

কোন ক্যানসারে কোন লক্ষণ

১. ক্যানসারের উপসর্গ নির্ভর করে শরীরের কোন অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে এবং কোন রোগ কোন পর্যায়ে আছে, তার ওপর। যেমন : মুখগহ্বরের ক্যানসার হলে দীর্ঘদিন স্থায়ী একটি ক্ষত থাকবে, ব্যথা থাকতে পারে।

২. খাদ্যনালিতে হলে ক্রমান্বয়ে খাবার গিলতে অসুবিধা হয়, শক্ত খাবার থেকে শুরু করে তরল খাবার পর্যন্ত। এবং গলার মধ্যে আটকে থেকে বমি হয়ে বেরিয়ে যায়।

৩. পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব এবং পেটব্যথা হওয়া, কালো মল ইত্যাদি হয়।

৪. ফুসফুসের ক্যানসার হলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, গলার স্বর বসে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৫. স্তন ক্যানসার হলে একটি পিণ্ড বা চাকা হতে পারে। স্তনের চামড়া কুঁচকে যেতে পারে এবং বোগলে চাকা হতে পারে।

৬. বৃহদান্ত্রের ক্যানসার হলে মল ত্যাগে অনিয়ম, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া অথবা তৈলাক্ত পদার্থ যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। একপর্যায়ে পায়খানা বন্ধ হয়ে গিয়ে পেট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

৭. মলদ্বারের ক্যানসারে মলত্যাগে অসুবিধা, ব্যথা, রক্ত যাওয়া হতে পারে। রোগ বেশি বেড়ে গেলে পায়খানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

৮. নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, অল্প বয়সে বিয়ে, সন্তান হওয়া এবং অধিক সন্তান প্রসব ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সাদাস্রাব যাওয়া, সহবাসের সময় রক্তক্ষরণ হওয়া, ব্যথা ইত্যাদি এ ক্যানসারের উপসর্গ।

৯. মস্তিষ্কের টিউমার হলে মাথাব্যথা করা, শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, হঠাৎ চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া, হঠাৎ খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া—এসব উপসর্গ এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে হতে পারে।

১০. ব্লাড ক্যানসার বা রক্তের ক্যানসার একটি মারাত্মক ব্যাধি। এটি হলে দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, দাঁতের মাড়ি বা অন্য স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া, জ্বর হওয়া, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, কাশি, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

১১. যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় এগুলোর ক্যানসার হলে খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব, বদহজম, পেট ফাঁপা, পায়খানা পরিষ্কার না হওয়া, পেটে ব্যথা হতে পারে।

১২. আরো অনেক ধরনের ক্যানসার আছে, যেগুলো বিভিন্ন অঙ্গে হতে পারে। এদের উপসর্গগুলোও ভিন্ন রকম। তবে ক্যানসার বলতেই কমবেশি রক্তশূন্যতা হবেই। খাবারে অরুচি, বমি ভাব, ক্লান্তি এবং অবসাদ, শরীরের ওজন কমে যাওয়া এইসব উপসর্গ থাকবে।

ক্যানসার তৈরি করে যেসব খাবার

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং অনেক খাবার আবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। যেসব খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় তা নিজে জানুন এবং অন্যকে জানিয়ে সচেতন করে দিন।

১. আলুর চিপস:

চিপসের স্বাদ মচমচে করার জন্য কৃত্রিম রং, ফ্লেভার, ট্রান্স ফ্যাট ও প্রচুর লবণ মিশানো হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. ফ্রেঞ্চ ফ্রাই:

আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির সময় উচ্চ তাপ ও তেলের সংস্পর্শে অ্যাক্রাইলেমাইড সৃষ্টি হয়ে ক্যানসার হয়।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংসের খাবার:

বেকন, হটডগ, মিডলোফ, সসেজ, বার্গার ইত্যাদি খাবারে সোডিয়াম নাইট্রেট থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সোডিয়াম নাইট্রেটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস মানবদেহে এন নাইট্রোসোতে পরিণত হয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করে।

৪. সফট ড্রিংকস:

বাজারের কোমল পানীয়তে থাকে ক্ষতিকর রং, অতিরিক্ত সোডা ও কৃত্রিম চিনি। এটি রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বাড়িয়ে মেটাবলিক সিনড্রোম ও ক্যানসার তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোমল পানীয়তে ‘৪-মিথাইলমিডাজল’ নামের যে রং থাকে, এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. কৃত্রিম চিনি:

কৃত্রিম চিনি অ্যাসপার্টের চিনির চেয়ে ১০ গুণ বেশি মিষ্টি এবং ক্যালোরি শূন্য। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই খুব জনপ্রিয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে কৃত্রিম চিনি খেলে ব্রেইন ক্যানসার হতে পারে।

৬. অ্যালকোহল:

অতিরিক্ত অ্যালকোহল মানব দেহে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাসিটেলডিহাইডে পরিণত হয়ে ডিএনএ ভেঙ্গে ক্যানসার তৈরি করে।

৭. গ্রিল, বারবিকিউ:

গ্রিল, বারবিকিউ এ ধরনের মাংসে উচ্চ তাপে হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইন তৈরি হয়। এ থেকে ক্যানসার হতে পারে।

৮. বিষাক্ত কীটনাশক ও ক্যামিক্যাল যুক্ত ফলমূল:

আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ৩০ ভাগ কীটনাশক হচ্ছে কারসিনোজেন। এটি মানব দেহে কোনো না কোনো ক্যানসার তৈরি করে।

৯. খোলা বাজারের শরবত:

বাজারের শরবতে থাকে দূষিত পানি, বরফ ও ক্ষতিকর রং। এগুলো জন্ডিস, হেপাটাইটিস ও লিভার ক্যানসার সৃষ্টি করে।

১০. পুরোনো তেল:

পুরোনো তেল দিয়ে বারবার খাবার রান্না করলে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়ে ডিএনএ কে ভেঙে ক্যানসার হতে পারে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সাত পরামর্শ

যেকোনো রোগেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আর ক্যানসারের বেলাতেও প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা।

ক্যানসার থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায় সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাকিল মাহমুদ। আসুন জানি সেগুলো।

১.স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্যামিক্যালমুক্ত হলুদ ফলমূল ও রঙিন শাকসবজি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

২. ফাস্টফুড এড়িয়ে যান

ফাস্টফুডে ট্রান্সফ্যাট থাকে। বিভিন্ন ক্যামিক্যালের সংস্পর্শে আসে বলে এতে ক্ষতিকর এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। এটি স্বাভাবিক ডিএনএ- এর গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই ফাস্টফুডকে এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম।

৩. অস্বাস্থ্যকর রঙিন খাবার

অনেক সময় খাদ্য ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার জন্য খাবারে ফুড কালার না ব্যবহার করে টেক্সটাইল কালার ব্যবহার করে। এ ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে আইসক্রিম, চকলেট, মিষ্টি, লাড্ডু, বাইরের খোলা চটকদার খাবার, রঙিন খাবার ইত্যাদি। এগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

৪. স্থূলতা

অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে স্থূলতা হয়। এতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। খাদ্যনালীর ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৫. পরিবেশ দূষণ

পরিবেশ দূষণ থেকেও ফুসফুসের ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার, হাড়ের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, গাড়ির কালো ধোঁয়া নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে, বনায়নের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং যতটুকু সম্ভব দূষিত এলাকা থেকে দূরে থাকতে হবে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত রেডিয়েশনও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।অনেকে অযথাই এক্সরে করে। অতিরিক্ত এক্সরে করার জন্য জিনগত বিবর্তন ঘটে। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

৬.নিয়মিত হাঁটা

ক্যানসার প্রতিরোধ করতে নিয়মিত হাঁটতে হবে বা ব্যায়াম করতে হবে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে,অসুখ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

৭. ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাক্সিন

কিছু কিছু ক্যানসার প্রতিরোধে এখন বাজারে ভ্যাক্সিন রয়েছে। যেমন, জরায়ুর ক্যানসার বা লিভার ক্যানসার। তাই ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনও ব্যবহার করতে পারেন।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে যে ৬ খাবার

যতই নিরাময়যোগ্য বলা হোক না কেন, ক্যানসারকে এখনো মারণব্যাধি হিসেবেই গণ্য করেন সবাই। তাই এর থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু সতর্কতা মেনে চললে আমাদেরই উপকার। বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলোর পুষ্টি উপাদান ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরে শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করে। আসুন জেনে নেই ক্যানসার প্রতিরোধী খাবারগুলোর নাম।

১. ব্রকলি

ব্রকলি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে গ্লুকোসিনোলেটস, যা শরীরকে সুরক্ষিত রাখার এনজাইমগুলোকে বাড়ায়। রয়েছে সালফোরাপেন, এটি ক্যানসার তৈরিকারী রাসায়নিক পদার্থগুলো শরীর থেকে বের করে দেয়; ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

২. গ্রিন টি

গ্রিন টি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। গ্রিন টি-র মধ্যে থাকা উপাদানগুলো ক্যানসার কোষ তৈরি প্রতিরোধ করে। এটি ফ্রি র‍্যাডিকেল প্রতিরোধেও কাজ করে। প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ গ্রিন টি খাওয়া ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

৩. টমেটো

রসালো এই ফলের মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে। লাইকোপেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়।

৪. আদা

বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে আদা সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি কমাতে কাজ করে। এটি জরায়ুমুখের ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলরেক্টাল ক্যানসার, ফুসফুস ও ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। দিনে দুই থেকে তিন কাপ আদার চা খেতে পারেন। এ ছাড়া আদা রান্নাতেও ব্যবহার করতে পারেন।

৫. রসুন

রসুনের মধ্যে রয়েছে আরজিনাইন, ফ্লাবোনয়েডস, সেলেনিয়াম ইত্যাদি উপাদান। এগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত রসুন খাওয়া ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।

৬. আনার

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আনার বেশ চমৎকার একটি খাবার। এ ছাড়া এটি ক্যানসার প্রতিরোধেও কার্যকর। এর মধ্যে রয়েছে ভালো পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রয়েছে ফ্লেবোনয়েড, ফেনল, ট্যানিন—এগুলো ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ করে। এটি স্তন, কোলন, লিভার ও ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।