এই ১০ নিরীহ লক্ষণ দেখলে বুঝতে হবে আপনার শরীর বিষে ভরে উঠেছে, সচেতন হন

আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে নানা রকম বিষ, বাতাসে বিষ, পানিতে বিষ, খাবারে বিষ। এমনকি আপনার প্রিয় ফোনটিও একটি বিষের আস্তানা যেখান বাস করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা আপনাকে মারাত্মক অসুস্থ করে দিতে পারে। এসব উৎস থেকে বিষ প্রতিদিন আমাদের শরীরে জমা হয় এবং যদি তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তাহলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

আমরা ১০টি লক্ষণ খুঁজে বের করেছি যা দেখে বোঝা যাবে আপনার শরীরে বিষে ভরে উঠেছে। আর শরীরকে কিভাবে বিষমুক্ত করবেন তা জানতে পড়তে হবে একদম শেষ পর্যন্ত।

১. কোষ্ঠকাঠিন্য

খাবারের সাথে অসাবধানতাবশত অনেক রাসায়নিকও আমাদের পেটে চলে যায়, যেমন প্রিজারভেটিভস, কৃত্রিম রং এবং কৃত্রিম স্বাদ বর্ধক উপাদান। আমাদের পেট সহজে এসব হজম করতে পারে না। যার ফলে পেট খারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়। তাজা বিষমুক্ত খাবার খাওয়া, বাইরের খাবার না খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাই এর স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

২. মাথা কাজ না করা

মাথা ঘুরানো, সিদ্ধান্তহীনতা, এবং রাতে চমৎকার ঘুম হওয়ার পরও দিনের বেলা কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পরা শরীরে বিষের উপস্থিতির লক্ষণ। শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের অভাব দেখা দিলে দেহে বিষ জমতে শুরু করে। আর এই বিষ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উপরের উল্লেখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে শুরু করে।

৩. শরীরে দুর্গন্ধ

সকালে গোসল করে সুগন্ধি মেখে বের হওয়ার পরও যারা আপনার কাছাকাছি আসছেন তারা নাক কুচকোচ্ছেন, তার মানে আপনার শরীর থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হচ্ছে যা সহ্য করার মতো নয়। শরীরে বিষ জমে গেলে ত্বকের লোমকূপগুলোর ভেতর দিয়ে মারাত্মক দুর্গন্ধময় গ্যাস বের হতে থাকে।

৪. শরীর ব্যথা

অতিরিক্ত পরিশ্রম না করেও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে এবং মাংসপেশিতে ব্যথা হলে বুঝতে হবে ইতোমধ্যে আপনার দেহে বিষের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রদাহজনিত এসব ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে শরীরকে বিষমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।

৫. চর্ম রোগ

ত্বক আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ এবং তা প্রায়ই মারাত্মক দূষণের স্বীকার হয়। ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত প্রসাধনী সামগ্রী যেমন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সাবান এবং লোশন থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান ত্বকে জমতে থাকে যা এক সময় বিষে পরিণত হয়। ফলে দেখা দেয় ব্রণ, অ্যাকজিমা ইত্যাদি চর্ম রোগ।

৬. অনিদ্রা

শরীর বিষে ভড়ে উঠলে নানা রকম অস্বস্তি শুরু হয়, যার ফলে নষ্ট হয় রাতের ঘুম। উচ্চ মাত্রার বিষ ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কর্টিসোল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে অনিদ্রা হয় নিত্যসঙ্গী। অনিদ্রার কারণে শরীরে অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়।

৭. স্থূলতা

কঠোর ব্যায়াম করেও শরীরের ওজন কমছে না যখন, ধরে নিতে হবে আপনার হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। শরীরে অতিরিক্ত বিষের উপস্থিতি ওজন নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকটি হরমোনের উপর বাজে প্রভাব ফেলে।

৮. মুখে দুর্গন্ধ

মুখে দুর্গন্ধ হওয়া মূলত হজমজনিত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এটা তখনই ঘটে যখন আপনি যা খাচ্ছেন তা পেট পুরোপুরি হজম করতে পারে না। আবার যকৃত যখন শরীরে জমে যাওয়া বিষ পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারে না তখনো হজমের গণ্ডগোল হয়।

৯. পায়ের নখ দুর্বল

মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে দেহের বিষ নিচের দিকে নামতে শুরু করলে পায়ের নখের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমাদের পা দিনের বড় একটা সময় জুতো আর মুজার কারাগারে বন্দি থাকে, যা ফাঙ্গাসের জন্য খুব ভালো পরিবেশ। বিষ আর এই অসুস্থ পরিবেশ দুয়ে মিলে ফাঙ্গাসের চারণভূমিতে পরিণত হয় পায়ের নখ। ফলে নখে দেখা দেয় নানা অসুখ।

১০. চুল পড়া

শিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ যখন শরীরে বেশি পরিমাণে হয় তখন প্রচুর চুল পড়তে শুরু করে। তাই হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে।

বোনাস: বিষমুক্ত করবেন কীভাবে?

উপরে উল্লেখিত বর্ণনার সাথে যদি কিছু লক্ষণ আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে আপনার শরীর বিষমুক্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য অনেক করম জটিল প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু আমাদের প্রতিদিনকার জীবনযাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধান করা যায়।

১. চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন: Mirbeau Inn & Spa এর পরিচালক Matt Dower বলেন, “শরীরকে বিষ মুক্ত করার কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে সিজনাল ডিটক্স যা মেটাবোলিজম এর গতি বাড়ায় এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এটা শুরু করতে পারেন চিনি গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে”।

২. দিনের শুরুতে লেবু-পানি পান করুন: Dower আরো বলেন, “লেবু অন্ত্রকে জলীয় অংশ শোষণে সাহায্য করে ও হজমের উন্নতি করে, যা শরীর থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনে সহায়তা করে”। সকালে বড় এক গ্লাস পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দেন তিনি।

৩. অরগানিক ফুড গ্রহণ করুন: কিছু ফল আছে যাদের মধ্যে অন্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি পরিমানে পেস্টিসাইড ও প্রিসারভেটিভ আশ্রয় গ্রহণ করে। এই রকম ফলমূল গুলো যেমন- স্ট্রবেরি, টম্যাটো ও আপেল অরগানিক কিনা দেখে কিনা উচিত। ডিটক্সিফিকেশনের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে অরগানিক ফল খাওয়া।

৪. ম্যাসাজ: শরীর ম্যাসাজ করা রিলাক্সেশন ও ডিটক্সিফিকেশনের ভালো একটি মাধ্যম। আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রেশার পয়েন্টে টক্সিন তৈরি হয়। যেমন- আমাদের মাথার দুই পাশে চোখ ও কানের মাঝামাঝি ছোট ও চ্যাপ্টা স্থানকে টেম্পল বলে যা একটি প্রেশার পয়েন্ট। এই স্থান গুলোতে ম্যাসাজ করলে টক্সিন হ্রাস পায়।

৫. এক্সারসাইজ: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত ও লসিকার চলাচল অনুপ্রাণিত হয়। এছাড়াও হজমের উন্নতি হয়, টেনশন কমে, জয়েন্টকে মসৃণ করে এবং শরীরকে শক্তিশালী করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের শরীরে অন্যদের তুলনায় কম টক্সিন থাকে।

৬. প্রচুর পানি পান করুন: পানি প্রাকৃতিক ভাবে শরীর থেকে টক্সিন বাহির করে দেয়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন।

৭. উপবাস করুন: শরীরকে বিষ মুক্ত করতে মাসে ১-২ দিন উপবাস করুন। এতে শরীর বিষমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি হজমও ভালো হবে। উপবাসের পর প্রচুর ফল ও সবজি খান তারপর অন্য খাবার খান।