আদা-দারচিনির-দুধ ঠান্ডা মোকাবিলায় দারুন উপকারি, দেখুন বিস্তারিত

শীতের সঙ্গে লড়াই করতে গরম চা বা কফি পানের রেওয়াজ পুরনো। তার সঙ্গে আছে সুযোগ পেলেই সুরুত করে কম্বল বা লেপের তলায় গুটিসুটি মেরে থাকা। কিন্তু অতিমাত্রায় চা বা কফি পান করলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। হতে পারে ঘুমের সমস্যাও। তাই এই শীতে শরীর সুস্থ ও উষ্ণ রাখতে চা বা কফির বদলে বেছে নেওয়া যায় আদা ও দারচিনির সুগন্ধ মেশানো দুধ। এটি একটি আয়ুর্বেদিক পানীয় যা অত্যন্ত কার্যকরী।

কেন পান করা উচিত আদা দারচিনির দুধ?

এক গ্লাস উষ্ণ দুধ স্বাস্থ্যের জন্য সর্বদাই ভালো। তবে এতে মশলা এবং ভেষজ যোগ করলে দুধের উপকারিতা আরও বেড়ে যায়। দারচিনি এবং আদা উভয়ই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং খনিজ উপাদানের গুণাগুণে ভরপুর, যা ঋতুকালীন অ্যালার্জি, ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা, হজমের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ভালো এবং হার্টের জন্যও দুর্দান্ত। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া, আদার মধ্যে জিঞ্জেরল এবং শোগাওল নামক দু’টি উপাদান থাকে, যা মূলত বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ যা শরীরে প্রদাহ রোধ করে এবং বিভিন্ন সমস্যা নিরাময় করে।

মশলা হিসাবে দারচিনি শরীরে উষ্ণতা বৃদ্ধি করতে পারে, যা বিপাকীয় ক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দারচিনির অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও যথেষ্ট কাজে দেয়। এটি ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি সামগ্রিক পুষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে এবং হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

কীভাবে তৈরি করতে হবে:

১ গ্লাস দুধ নিতে হবে এবং ১ ইঞ্চি গ্রেট করা আদা এর মধ্যে দিতে হবে। মিশ্রণটি তৈরি করে এর মধ্যে দারচিনির একটা স্টিক দিতে হবে। দুধ ছেঁকে নিয়ে সামান্য মধু দিতে হবে এবং এক চিমটি কালো মরিচ দিতে হবে।

এই পানীয়টি তৈরি করার আরও একটি উপায় হল দুধ ফুটিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে ১ চা চামচ তাজা আদার পেস্টের সঙ্গে ২ চিমটি দারচিনি, ৩-৪টি জাফরান এবং গুড় মিশিয়ে নেওয়া।