বিভিন্ন সময় শরীর ফুলে পানি আসার আসল কারন ও প্রতিকার

শরীর, হাত, পা ও মুখ ফুলে যাচ্ছে। পেট সব সময় ভরাভরা ভাব, খেতে ইচ্ছা করে না, পেটে গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। কাজ করতে গেলে সহজে হাঁপিয়ে উঠছেন, শরীর অত্যধিক ঘেমে যাচ্ছে এবং কাজ করার সময় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, বুক ধড়ফড় করছে। এ অবস্থায় কি করবেন বা কোন ধরনের চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। কেউ বলছে কিডনির সমস্যা, আবার কেউ বলছে হার্টের সমস্যা— এসব শুনে আপনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন।

উপরোল্লিখিত সমস্যাগুলোর মূল কারণ আপনার শরীরে অত্যধিক পানি জমা হয়ে যাওয়া। শরীরে পানি জমা হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে হার্ট ফেইলুর, কিডনি ফেইলুর, লিভারের সমস্যা, রক্তশূন্যতা, থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া— এসব কিছুকেই বিবেচনায় আনা হয়। এসবের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ কারণ হিসেবে হার্ট ফেইলুরকে দায়ী করা হয়।

হার্ট ফেইলুর কেন হয়?

যারা দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন, যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, যাদের হার্টের রক্তনালিতে ব্লক আছে (এর লক্ষণ হিসেবে পরিশ্রমকালীন সময়ে বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা ও বিশ্রামে এসব উপসর্গ দ্রুত নিরাময় হওয়া), যারা হার্টে রিং পরেছেন বা বাইপাস অপারেশন করেছেন, যাদের হার্টের বাল্বের সমস্যা আছে, যারা জন্মগত ও বংশগত হৃদরোগে ভুগছেন এসব কিছু হলো হার্ট ফেইলুরের প্রধান কার, তাছাড়াও অন্য যেসব কারণে পানি জমা হয়ে থাকে যেমন কিডনি ফেইলুর, লিভারের সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি এবং রক্তশূন্যতা ইত্যাদিতে দীর্ঘসময় ধরে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পর্যায়ক্রমে হার্ট ফেইলুরে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

তাই একসময় এ ধরনের সব রোগীই হার্ট ফেইলুরে আক্রান্ত হবে, এটাই এসব রোগের পরিণতি এবং জটিল পর্যায়ে হার্ট ফেইলুরের চিকিৎসাই এসব রোগীর জন্য কার্যকর চিকিৎসা বলে বিবেচিত। প্রথমে উল্লিখিত লক্ষণগুলো হলো হার্ট ফেইলুরের চরম পর্যায়ের উপসর্গ। সাধারণভাবে হার্ট ফেইলুর খুব ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে। ফলে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় ধরে আস্তে আস্তে এর প্রকোপ বাড়তে থাকে।

প্রাথমিক অবস্থায় অনেক রোগীই তাতে তেমন গুরুত্ব দেন না, তাই প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের শরণাপন্নও হন না বা চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা হার্ট ফেইলুরকে প্রতিরোধ করতে পারবেন বা এর জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন অথবা হার্ট ফেইলুরের অগ্রগতিকে শ্লথ করে, হার্ট ফেইলুরে আক্রান্ত হওয়াকে বিলম্বিত করে অনেক দিন তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। হার্ট ফেইলুরের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক রয়েছে, যেমন—

শারীরিক যোগ্যতা কমতে থাকা, মানে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা, পরিশ্রম করার দক্ষতা কমে যাওয়া, কম পরিশ্রমে বেশি ক্লান্তি বোধ করা, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, হজম প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হওয়া, বুকে হালকা ব্যথা ও চাপ অনুভূত হওয়া বিশেষ করে কাজ-কর্ম সম্পাদনের সময়, কাজের আগ্রহ কমে যাওয়া, আগের চেয়ে বেশি অলসতা বোধ করা, শারীরিক ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকা, পরিশ্রমের সময় হালকা কাশি হওয়া ও দম কমে যাওয়া, পেটভরে খাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ করা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া।

খাওয়ার পর রাতে বিছানায় শুতে গেলে হালকা কাশির উদ্বেগ হওয়া বা শ্বাসকষ্ট হওয়া, কারও কারও মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঘুমের সময় নাক ডাকার প্রবণতা বাড়া। অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়ে মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়, তার সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে এবং হাইপ্রেসারের রোগীদের রক্তচাপ বৃদ্ধি ঘটে থাকে। তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

শরীরের কোন স্থানের ফোলাভাব কমানোর টিপস

কোন আঘাতের পরেই শরীরের আঘাত প্রাপ্ত স্থান ফুলে যায়। আঘাতের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়ার ফলেই এমনটা হয়। আপনি যখন শরীরের কোন স্থানে ব্যথা পান তখন আপনার শরীর সেই স্থানে প্রচুর তরল পাঠায়, এর ফলশ্রুতিতেই ঐ স্থানটি ফুলে যায়। যদিও ফুলে যাওয়া পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার একটি অংশ তারপর ও ফুলে গেলে ব্যথা ও অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এ কারণেই ব্যথা ও ফোলা কমানোর উপায় খুঁজি আমরা। হালকা ফোলা এমনিতেই চলে যায়। প্রাকৃতিক ভাবে ফোলা কমানোর উপায় জেনে নিই চলুন।

১. আক্রান্ত স্থানটি উপরের দিকে উঠিয়ে রাখুন: যদি তরল জমা হওয়ার কারণে ফোলার সৃষ্টি হয় তাহলে শরীরের ঐ স্থানটি উপরের দিকে উঠিয়ে রাখলেই ঐ স্থানের কিছুটা তরল সড়ে যাবে। হৃদপিন্ডের চেয়ে উপরের দিকে উঠিয়ে রাখতে হবে আক্রান্ত অংশটি।

২. পানি: প্রচুর পানি পান করুন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে আক্রান্ত স্থানের জমা হওয়া তরল ও টক্সিন দূর হয়ে যায়।

৩. ব্যান্ডেজ: ফোলা স্থানটিকে ব্যান্ডেজ করে নিতে পারেন। এর ফলে ঐ স্থানে তরল প্রবেশকে নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে ঐ স্থানের রক্ত প্রবাহ যাতে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৪. ঠান্ডা ও গরম সেঁক: একটি কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে ফোলা স্থানটির উপর ২০ মিনিট রাখুন। এর ফলে ঐ স্থানের ফোলা কিছুটা কমে যাবে। এরপর একটি কাপড় গরম করে বা হট ওয়াটার ব্যাগ ঐ স্থানে রাখুন। এর ফলে ঐ স্থানের ব্যথা কমে যাবে।

৫. ম্যাসাজ: যদি ফোলা স্থানে ব্যথা না থাকে তাহলে সেখানে ম্যাসাজ করতে পারেন। ম্যাসাজ করার জন্য জাম্বুরার তেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে ফোলা কমে যাবে।

৬. লেবু পানি: লেবু পানি এবং শসার পানি শরীরের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। তাই লেবু পানি ও শসার পানি পান করতে পারেন।

৭. সোডিয়াম: শরীরের কোন স্থানে ফুলে গেলে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাবেন না এবং লবণ খাবেন না। কারণ সোডিয়াম শরীরে পানি জমতে সাহায্য করে।

৮. বিশ্রাম নিন: শরীরের ফোলা স্থানের ব্যথা কমানোর জন্য কাজ থেকে বিরতি নিন এবং বিশ্রাম নিন। অনেকক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

উপরোক্ত প্রতিকারগুলো মেনে চলার পর ও যদি ফোলা না কমে বা ফোলা আরো বৃদ্ধি পায় এবং অন্যান্য উপসর্গ যেমন- ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট হওয়া ও মূত্র ত্যাগের পরিমাণ কমে গেলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার

পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার সমস্যাটি যে কারোই হতে পারে। এটা নিজে কোন রোগ নয় বরং অন্তর্নিহিত কোন সমস্যার লক্ষণ। সাধারণত যখন টিস্যুর মধ্যে তরল জমা হয় তখন এই সমস্যাটি উদ্ভূত হয়। একে ইডিমা বিলে। বিভিন্ন কারণে পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে যেমন- অতিরিক্ত ওজন, অনেকক্ষণ যাবত বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে, প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম (PMS), পুষ্টির ঘাটতি, শারীরিক কসরতের অভাব এবং কম রক্ত সঞ্চালন ইত্যাদি। পায়ে, গোড়ালিতে অথবা পায়ের পাতায় কোন ধরণের আঘাত বা সার্জারির কারণেও পা ফোলার সমস্যা হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, হার্টের সমস্যা আছে, কিডনি বা লিভারের রোগ আছে তাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই সমস্যাটি হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই সমস্যাটি বৃদ্ধি পেলে হাঁটতে বা দাড়িয়ে থাকতে অস্বস্তি হয়। পা ফুলে যাওয়ার সাথে আরো যে উপসর্গ গুলো দেখা যায় তা হল, ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা ও লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সৌভাগ্যক্রমে প্রচুর কার্যকরী ও ঘরোয়া উপায় আছে যার দ্বারা পা ফোলা সমস্যাটির নিরাময় করা সম্ভব। এবার তাহলে সেই উপায় গুলো জেনে নেই আসুন।

বিপরীত জলচিকিৎসা: আপনার পায়ের পাতার ফোলা কমানোর জন্য অনেক কার্যকরী একটি পদ্ধতি হচ্ছে ঠান্ডা ও গরম পানির থেরাপি। যেখানে গরম পানি রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে আর ঠাণ্ডা পানি ফোলা ও জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে। এই প্রকার জল চিকিৎসার জন্য ২টি বালতি বা গামলার প্রয়োজন হবে।

১. একটিতে ঠান্ডা পানি ও অন্যটিতে গরম পানি নিন

২. গরম পানির বালতিতে আপনার পা ৩-৪ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

৩. তারপর আপনার চরণযুগল গরম পানি থেকে উঠিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ১ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

৪. এভাবে পর্যায়ক্রমে ১৫-২০ মিনিট করুন

৫. দিনে কয়েকবার এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন যতক্ষণ না আপনার পায়ের ফোলার উপশম হয়।

মালিশ করা: পা ফুলে যাওয়ার সমস্যার প্রতিকারে পা মালিশ করা সবচেয়ে ভালো উপায়। এটা আক্রান্ত স্থানে চাপ প্রয়োগ করে কঠিন মাংসপেশিকে শিথিল বা ঢিলা হতে সাহায্য করে এবং রক্ত চলাচলের উন্নতি ঘটায়। এছাড়াও অতিরিক্ত তরল নিষ্কাশনকে প্রণোদিত করে ফোলা কমায়।

১. সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল সামান্য গরম করে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করুন

২. পায়ের পাতার নীচ থেকে উপরের দিকে উঠিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না।

৩. এভাবে দিনে কয়েকবার করুন।

৪. গোসলের সময় বা গোসলের পরে মালিশ করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পা উত্তোলন: যেহেতু পানি জমে থাকার কারণে পা ফুলে যায় তাই এই পানিকে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যাটি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এজন্য আপনার ফুলে যাওয়া পা দুটো উপরের দিকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

১. আপনার পা দুটো এমন উচ্চতায় রাখুন যাতে হার্ট থেকে উপরের দিকে থাকে

২. এর ফলে পায়ে আবদ্ধ পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে এবং পা ফোলা কমবে।

৩. দিনে ৪-৫ বার এভাবে করুন এবং প্রতিবার এক ঘন্টা করে রাখুন।

লেবু পানি: লেবু পানি খেলে শরীরের অতিরিক্ত তরল ও বিষাক্ত পদার্থ বাহির হয়ে যায় যা পা ফোলা কমতেও সাহায্য করে। এটা শরীর কে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং এর প্রদাহরোধী উপকারিতাও আছে।

১. ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ১ কাপ উষ্ণ গরম পানিতে মিশান

২. সামান্য মধু মিশিয়ে মিষ্টি স্বাদ করে নিতে পারেন

৩. দিনে কয়েক বার এই পানীয়টি পান করুন

টি ট্রি অয়েল: ফোলা কমাতে টি ট্রি অয়েল চমৎকার কাজ করে। অন্য এসেনশিয়াল অয়েলের মত টি ট্রি অয়েল পাতলা করার প্রয়োজন হয়না। এটি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার: শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য লবনের প্রয়োজন আছে কিন্তু অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমতে সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বর্জন করতে হবে। ক্যাফেইনকেও একই অপরাধে অভিযুক্ত করা যায়। তাই কফি গ্রহণের মাত্রাও সীমিত করা প্রয়োজন।

যদি আপনার পা ফোলার সমস্যাটি প্রায়ই হয়ে থাকে এবং সেই সাথে ব্যথাও থাকে তাহলে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। কারণ এটি অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে যার জন্য সময়মত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।

শরীরে আঘাত লেগে ফুলে গেলে করণীয়

শরীরের কোনো জায়গায় জোরে আঘাত লাগলে বা থেঁতলে গেলে সে জায়গাটা প্রথমে লাল হয়ে ফুলে যায় এবং বেশ ব্যথা করতে থাকে। পরে জায়গাটি নীল ও ক্রমশ কালো হয়ে যন্ত্রণাদায়ক কালশিরার সৃষ্টি করে। পরে আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে এই আঘাতজনিত ফোলা ও কালশিরা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

১. আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে আঘাতের জায়গাটিতে বরফ চেপে ধরুন। আঘাতের প্রাথমিক অবস্থায় ঠান্ডা দিলে ওই জায়গার রক্তনালি সংকুচিত হয়। এতে বেশি রক্তপাত হয় না এবং ফোলা ও ব্যথা কম হয়। অভ্যন্তরীণ রক্তপাত না হওয়ায় কালশিরা পড়ে না।

২. এর সঙ্গে ব্যথার ওষুধ, যেমন : প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।

৩. আক্রান্ত জায়গাটিতে প্রথমে মালিশ করলে ভালো লাভ হয় না। কিন্তু পরবর্তীকালে মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মালিশ করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে হাড় ভেঙেছে কি না। হাড় ভাঙার আশঙ্কা থাকে, তাহলে মালিশ করা যাবে না।

৪. আঘাত পাওয়ার পরের দিন আঘাতের জায়গায় গরম সেঁক দেবেন। তখন আর ঠান্ডা সেঁকের প্রয়োজন নেই। গরম সেঁকের কারণে ফোলা জায়গা থেকে জমে থাকা রক্তগুলো সরে যায়, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং আক্রান্ত জায়গাটা দ্রুত সেরে ওঠে।

৫. তীব্র ব্যথা না কমলে এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে ফোলাও অপরিবর্তিত থাকে কিংবা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে হাড় ভাঙার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে নিজে কিছু না করে হাসপাতালে যান।

আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে কখনো গরম কিছুর সেঁক দেবেন না। কারণ, গরম সেঁক দিলে ওই জায়গায় রক্ত এসে জমা হয়। পরে ওই রক্ত জমাট বেঁধে গেলে জায়গাটা বেশি ফুলে যায় এবং ফুলে ওঠা জায়গাটিতে প্রচণ্ড ব্যথা করে। সে জন্য প্রথমে ওই স্থানে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক দিতে হয়, তাহলে রক্তনালির সংকোচনের জন্য ওই স্থানে রক্ত আসে না। পরের দিন অবশ্য গরম সেঁক দিতে হবে।

শিশুর শরীর ফুলে গেলে

শিশুদের কিডনি রোগ ও জটিলতা একেবারে বিরল সমস্যা নয়। প্রায়ই শিশুরা নানা ধরনের কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কিডনি ও প্রস্রাবে সংক্রমণ, প্রদাহ ও নেফ্রোটিক সিনড্রোম উল্লেখযোগ্য। কিডনির বিশেষ ধরনের রোগে শিশুর শরীর ফুলে যায় ও শরীরে পানি আসে। একে বলে নেফ্রোটিক সিনড্রোম।
এই রোগে আক্রান্ত শিশুর প্রস্রাবে অত্যধিক পরিমাণে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, ফলে রক্তে এলবুমিনের পরিমাণ কমে যায়। রক্তে চর্বির মাত্রাও বেড়ে যায়। অবশেষে সারা শরীর ফুলে যায়।

২-৫ বছর বয়সের শিশুদের সাধারণত এই রোগ হতে দেখা যায়। ছেলেদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক কিছুটা বেশি। প্রথম দিকে দুচোখের পাতা ফুলে যাওয়া, মুখে ফোলা ভাব দেখা যায়। ২-৩ দিনের মধ্যে পেটে, হাতে, পায়ে পানি আসে এবং সারা গা ফুলে যায়। এর সঙ্গে কখনো প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে রং সাধারণত স্বাভাবিক থাকে। রোগনির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেমন প্রস্রাবে দৈনিক প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ পরীক্ষা করা। রোগীর শয্যাপাশেই টেস্টটিউবে প্রস্রাব নিয়ে ‘হিট কোয়াগুলেশন টেস্ট’ করে সহজেই এটা ধরা পড়ে।

চিকিৎসা:

১. প্রথম দু-এক সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রাম। স্বাভাবিক খাবার খাবে। তবে খাবারে অতিরিক্ত লবণ নিষেধ।

২. সঙ্গে কোনো জটিলতা দেখা গেলে তার প্রতিকার করতে হবে। যেমন পেটে বেশি পানি জমলে তা বের করা বা বুকে পানি জমলে তার জন্য ইনজেকশন।

৩. কোনো সংক্রমণ থাকলে তার চিকিৎসা।

৪. শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমের চিকিৎসায় স্টেরয়েড খুব কার্যকর ওষুধ, তবে তা অবশ্যই সঠিক ডোজ ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। এই ডোজ-শিডিউল অবশ্যই শিশুবিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি করে শুরু করতে হবে।

নেফ্রোটিক সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরোগীদের প্রায় ৯৩ শতাংশ পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসার পরও ঘন ঘন শরীর ফোলা দেখা যেতে পারে। পরে ১৪-১৫ বছরের মধ্যে বেশির ভাগই ভালো হয়ে যায়।