ইউরিক এসিডের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? জেনে নিন কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

ইউরিক অ্যাসিড এক ধরণের রাসায়নিক যা খাবার হজম করবার সময় শরীরে উৎপন্ন হয়। মদ্যপান ও কার্বোনেটেড কোলা জাতীয় ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ম করে খেলেও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু-সহ বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে এবং তাতে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে থাকে।

কেউ টমেটো বর্জন করেছেন, কেউ ঢ্যাঁড়শ পাতে নেন না। জিজ্ঞাসা করলে একটাই উত্তর— ইউরিক অ্যাসিড আছে! বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ এই কারণে কষ্ট পাচ্ছেন। প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ইউরিক অ্যাসিডে গাঁটের ব্যথায় শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা প্রত্যেকদিন প্রচুর পরিমাণে মাছ-মাংস খান, তাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। মদ্যপান ও কার্বোনেটেড কোলা জাতীয় ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ম করে খেলেও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। স্বাভাবিকের থেকে বেশি ওজন হলেও ঝুঁকি থাকে বলে মনে করা হয়।

অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কিছুটা বংশগত। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার ঝুঁকি বেশি। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিডনির অসুখ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রার উপস্থিতির ফলে গেঁটে বাত বা গিঁটে গিঁটে ব্যথার মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু-সহ বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে এবং তাতে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে থাকে।

ইউরিক অ্যাসিড কী?

ইউরিক অ্যাসিড এক ধরণের রাসায়নিক যা খাবার হজম করবার সময় শরীরে উৎপন্ন হয়। ইউরিক অ্যাসিডে ‘পিউরিনস’ নামে এক ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা কিছু কিছু খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়। ইউরিক অ্যাসিড রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে কিডনিতে পরিশ্রুত হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু মাঝে মধ্যে শরীর এতটা বেশি পরিমাণের ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে ফেলে যে তা ঠিক মতো পরিশ্রুত হতে পারে না। পারিবারিক রোগভোগের ইতিহাস, কর্মঠ না হওয়া এবং প্রচুর পরিমাণ আমিষ খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক ইউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে: ৩.৪–৭.0 mg/dL এবং মহিলার ক্ষেত্রে: ২.৪–৬.0 mg/dL। এর চেয়ে বেশি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সমস্যা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

১. কৃত্রিম রং, চিনি বা কর্ন সিরাপ খাবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম রং, চিনি বা কর্ন সিরাপ দেওয়া খাবার একেবারে বন্ধ করা উচিত। কোলা জাতীয় পানীয়, রং দেওয়া জেলি, জ্যাম, সিরাপ, কৌট বন্দি ফ্রুট জ্যুস খাওয়া চলবে না। স্মোকড ও ক্যানড ফুড খাওয়া চলবে না।

২. সমুদ্রের মাছ খাওয়া উচিত নয়
আচার, চানাচুর, নোনা মাছ খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। পালং শাক, বিনস, বরবটি, রাজমা খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। পালং শাক, পুঁই শাক, মুসুর ডাল, বিউলি ডাল, মটন, সমুদ্রের মাছ খাওয়া উচিত নয়।

৩. মাছের মুড়ো, চিকেন বা মাটনের মেটে বাদ দিন
মাছ, চিকেন বা ডিম খাওয়া যায়। তবে সব মিলিয়ে দিনে ৫০ গ্রামের বেশি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ বা চিকেন খাওয়া গেলেও, মাছের মুড়ো, চিকেন বা মাটনের মেটে বাদ দিন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেলে মূত্রনালীতে ইউরিক অ্যাসিড জমে স্টোন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার জল খান।

৪. তেল মশলা কম খান
রান্নায় তেল মশলা কম দিন। এছাড়াও বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, চিনি এড়িয়ে চলুন। তালিকা থেকে অ্যালকোহল বাদ দিন। হ্যাম এবং বিফ একদম খাবেন না। ডিম, সামুদ্রিক মাছও এড়িয়ে চলুন।

৫. লো ক্যালোরির খাবার খান
ফ্যাট ফ্রি দুধ খাওয়া শুরু করুন। এছাড়াও পিনাট বাটার, ফল, শাকসব্জি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু চলতে পারে। দুধ ও চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাওয়া অভ্যেস করুন।

৬. কোনও রকম ড্রাগ নেবেন না
এমনকী অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকেও দূরে থাকুন।

৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
জিম, হাঁটা, সাঁতার যে কোনও একটা প্রতিদিন রুটিনে রাখুন। ওজন কোনও ভাবেই বাড়তে দেবেন না। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হার্টের রোগ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে সবসময় নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন।

৮. ভিটামিন সি খান
খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি রাখুন। লেবু খান। ফল খান। মনে রাখবেন ভিটামিন সি ইউরিক অ্যাসিডের অব্যর্থ ওষুধ।