এই ৭টি পরিস্থিতিতে আপনার সঙ্গীর সাথে মিথ্যা বলা অপরাধ নয়, দেখুন বিস্তারিত

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ‘নির্দোষ মিথ্যা’ সম্পর্ককে মজবুত করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, অনেকেই ভালো উদ্দেশ্যে এমন কিছু মিথ্যা বলেন যা দোষের কিছু নয়, বরং সত্য বললে সম্পর্কে ফাটলও দেখা দিতে পারে। তার মানে এই যে, যখন আপনি আপনার সঙ্গীর অনুভূতিতে আঘাত করতে নারাজ কিংবা তাদের ভালো চাইছেন, তখন আপনি মিথ্যা বলতে পারেন এবং এ নিয়ে অপরাধ বোধে ভোগার কোনো কারণ নেই।

আমরা দেহ এমনই ৭টি পরিস্থিতির তালিকা তৈরি করেছি যেখানে আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে মিথ্যা বলা গ্রহণযোগ্য, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে উপকারও করে।

১. যখন আপনি প্রতারণামূলক সম্পর্কের ফাঁদে পড়েছেন

প্রতারণামূলক সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়ে অনেকে বাজে দিন যাপন করেন। সেখানে সত্যিকার ভালোবাসা অথবা বোঝাপড়ার কোনো বিষয় থাকে না। এই সম্পর্কগুলোতে নিজের নিরাপত্তা এবং ভালো থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন সম্পর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চান, তাহলে আপনি তার সাথে বেশি ঝামেলায় জড়াতে চাইবেন না এটাই স্বাভাবিক। এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে তাকে এড়িয়ে চলা বা সম্পর্ক ছিন্ন করা দোষের কিছু হবে না।

২. আপনার সঙ্গী বিব্রতকর প্রশ্ন করলে

সম্পর্কের যেকোনো পর্যায়ে সামনে আসতে পারে বিব্রতকর কিছু প্রশ্ন। যে প্রশ্নের উত্তর দিলে সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর হতে পারে। যদি এমন প্রশ্ন আসে, আমার চেয়েও কাউকে বেশি ভালোবেসেছো কখনো? এই প্রশ্নের উত্তরে যদি আপনি সত্যিটা বলে ফেলেন, তাহলে সম্পর্ক কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে বুঝতে পেরেছেন? যদি সম্পর্ক বাঁচাতে চান, তাহলে ছোট্ট একটি মিথ্যা বলে দিন ‘না’।

. সম্পর্ক ছিন্ন করে কষ্ট পেতে না চাইলে

সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া খুব কঠিন একটি বিষয় এবং না বলতে আশ্রয় নিতে হতে পারে কোনো কৌশলের। সঙ্গীকে বুঝিয়ে বলার জন্য আপনাদের সুন্দর সময় এবং সঙ্গীর ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। আপনি কোনো সম্পর্ক রাখতে চাইছেন না সেটা শুনে যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য একটু মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারেন।

৪. ঝগড়া মেটাতে চাইলে

কোনো বিষয়ে একমত না হতে পারলে দুজনের জন্যই তা মারাত্মক দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে একজনকে এই ঝগড়া মেটানোর উদ্যোগ নিতে হবে এটাই সম্পর্কের নিয়ম। ঝগড়া মেটাতে কিছু মিথ্যা বলা যেতেই পারে। বরং এতে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং ভাঙ্গন ঠেকিয়ে দেয়।

৫. উপহার বা রান্না অপছন্দ হলে

আপনার জন্য তৈরি করা খাবার বা কোনো উপহার যদি পছন্দ না হয়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই মিথ্যা বলতে হবে। মুখের উপর সত্যিটা বলে দেওয়ার মানে হলো, আপনার প্রতি তার যে ভালোবাসা সেটাকে ছোটে করা। একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, হয়তো তার রান্না ভালো না, কিংবা উপহার পছন্দ করায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই বলে যে ভালোবাসা নিয়ে সে আপনার জন্য এগুলো করেছেন তার কোনো তুলনা হয় না।

৬. দেখা করার পূর্ব নির্ধারিত সময় বাতিল করা

হতেই পারে, তার সাথে দেখা করার চেয়ে আপনার পুরনো কোনো বন্ধুর সাথে সময় কাটালে অনেক বেশি আনন্দ পাবেন। এই ক্ষেত্রে ডেটের সময় পরিবর্তন বা বাতিল করতে আপনাকে মিথ্যা বলতে হতেই পারে। আপনার বন্ধুকে সময় দিন, বন্ধুকে তো আর প্রতিদিন সময় দিতে পারেন না। বন্ধুর জন্য একটু মিথ্যা বলাই যায়, নাকি?

৭. নতুন হেয়ার স্টাইল বা পোশাক পছন্দ না হলে

যদি তার নতুন হেয়ার স্টাইল বা পোশাক পরিচ্ছদ পছন্দ না হয়, তাহলেও তাকে বলা যাবে না যে তাকে দেখতে অদ্ভুত লাগছে। এতে সে লজ্জা পেতে পারে। ভালোবাসার মানুষকে লজ্জা দেওয়াটা মোটেই উচিৎ নয়। বরং তার নতুন লুক সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলুন। নিজে নিজেই হয়তো একসময় সে এই বিষয়গুলো সংশোধন করে নেবে।

আপনি কি কখনও ভালোবাসার মানুষের সাথে মিথ্যা বলেছেন? আপনি কি মনে করেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে মিথ্যা বলা যায়?