দেরিতে রাতের খাবার খেলে এই ১০টি স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হয়, সচেতন হোন

নানা কারণে রাতের খাবার খেতেও দেরি হয় অনেকের, গভীর রাতে খান রাতের খাবার। আপনিও যদি গভীর রাতে খাবার পর্ব সারেন, তবে এটি আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই খাবার রাত ৮টার মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো।

রাতের খাবার দেরিতে খেলে কী সমস্যায় পড়তে পারেন তার একটি তালিকা করেছি আমরা। আর এই তালিকায় এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা সত্যি আপনাকে সতর্ক হতে বাধ্য করবে।

১. ওজন বৃদ্ধি করে

রাতে শরীরের বিপাক দিনের থেকে ধীর এবং দুর্বল থাকে, যার কারণে গভীর রাতে খাওয়া খাবার হজম করতে অসুবিধা হয়। এই কারণে রাতে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালোরি বার্ন হতে পারে না। ফলাফলস্বরূপ ওজন বেড়ে যায়।

২. রক্তচাপ বৃদ্ধি করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপের পাশাপাশি রক্তে সুগারের মাত্রাও বাড়ায়, যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আগেভাগে রাতের খাবার সারুন।

৩. ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়

বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে ক্ষুধা লাগতে পারে। তখন হাতের কাছে যা পাওয়া যায় কিংবা মুখরোচক কিছু খেয়ে পেট ভরান অনেকে। বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, গভীর রাতে স্ন্যাকস বা খাবার খেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

৪. বিরক্তি ভাব বেড়ে যায়

বেশি রাতে খাচ্ছেন মানে রাতে ঘুমের রুটিন আপনি ঠিকভাবে মানছেন না। এ কারণে দেখা দিতে পারে খিটখিটে স্বভাব। আপনার যদি পর্যাপ্ত মাত্রায় ঘুম না হয় তাহলে এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, ফলে বিরক্তির সৃষ্টি হয়।

৫. মানসিক সমস্যা তৈরি হয়

রাতে দেরিতে খেলে মানসিক চাপের হরমোন বাড়ে। এতে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যায়। এটি হৃৎপিণ্ডের কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয় এবং হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ তৈরি করে। পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

৬. ক্যান্সারের ঝুঁকি

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, দেরি করে রাতের খাবার খেলে স্তন ক্যানসার আর প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকখানি।

৭. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা রাতে দেরি করে খান, তাঁদের শরীরে ইনসুলিন ও লেপটিনের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে ক্ষতিকর চর্বি বেড়ে যায়। ফলে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

৮. রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

রাতে দেরি করে খেলে হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এতে বিপাকের বিঘ্ন ঘটে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নানা রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৯. হজমের সমস্যা তৈরি হয়

রাতে দেরি করে খেলে হজমে সমস্যা হয়। এটি এসিডিটি, বুক জ্বালার সমস্যা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ডিনার করার ২ ঘণ্টার মধ্যে শুয়ে পড়বেন না। হাঁটাচলা করুন। এতে খাবার হজম সঠিক পদ্ধতিতে হবে।

১০. ক্লান্তি তৈরি হয়

রাতে দেরি করে খেলে দেহে ফ্রি রেডিক্যাল বেড়ে গিয়ে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। ফলে শরীরের মাইট্রোকন্ডিয়ার এটিপি (ATP) তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। এতে শরীরে সব সময় ক্লান্ত অনুভব হয়।