যেকোন বয়সে দাঁত ফেলার আগের ৮টি সতর্কতা

দাঁত ফেলা যত সহজই মনে হোক না কেন, বিষয়টা কিন্তু অত ছোটখাটো নয়। এটাও এক ধরনের শল্যচিকিৎসা। তাই দাঁত ফেলতেও দরকার নানা সতর্কতা।
দাঁত ওঠানোর ক্ষেত্রে আটটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন:

এক. দাঁত তুলতে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হবে তা যদি জীবাণুমুক্ত না থাকে তবে হেপাটাইটিস বি অথবা সি ভাইরাস এমনকি এইডসের মতো রোগও ছড়াতে পারে। যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তাই সেখানে-সেখানে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দাঁত ফেলবেন না।

দুই. ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, উচ্চ র’ক্তচাপ, স্ট্রোক প্রভৃতি জটিলতা থাকলে র’ক্তে শর্করা, কিডনির ক্রিয়েটিনিন, র’ক্তচাপ ইত্যাদি দেখে নেওয়া উচিত।

তিন. ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে দাঁত তোলার আগে র’ক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। যাঁরা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল তাঁরা অবশ্যই দিনের প্রথম দিকে দাঁত তুলবেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তারপর চিকিৎসা নিন।

চার. কী ধরনের ও কী কী ওষুধ খাচ্ছেন তা দন্তচিকিৎসককে জানান। যদি র’ক্ত পাতলা করার ওষুধ যেমন অ্যাসপিরিন বা ক্লপিডোগ্রেল জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন তবে দাঁত তোলার পর অতিরিক্ত র’ক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত নিয়ে দাঁত ফেলার পাঁচ দিন আগে থেকে ওষুধগুলো খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

পাঁচ. ধূমপায়ী অথবা পানের সঙ্গে জর্দা ব্যবহারকারীরা অন্তত সাত দিন আগে থেকে ধূমপান, জর্দা, সাদাপাতা খাওয়া বন্ধ রাখবেন নয়তো পরবর্তী সময়ে ঘা বা ক্ষত শুকাতে দেরি হবে।

ছয়. হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে অনুভূতিনাশকের সঙ্গে অ্যাড্রিন্যালিন ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ অনেক ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে দাঁতের যেকোনো শল্যচিকিৎসার আগে প্রয়োজনে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সাত. গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সাবধানতা দরকার। এ ক্ষেত্রে পেনিসিলিন গ্রহণ করা নিরাপদ। ব্যথানাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওপিয়ড অথবা নন-স্টেরোইডেল অ্যান্টিইনফ্লামেটারি ব্যবহার করা যায়। তবে এসব ওষুধ প্রথম ও শেষ তিন মাসে নিরাপদ নয়।

আট. যাঁদের ইতিপূর্বে কোনো পরীক্ষা করা নেই এবং যাঁরা নিজেদের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি আছে কি নেই জানেন না তাঁরা দাঁত তোলার আগে এসব রুটিন পরীক্ষা করে নিলেই ভালো।