শত চেষ্টায়ও কম বয়সী শিশুর ঘুম না আসার কারন ও প্রতিকার জেনে নিন

অনেক মা-বাবা শিশুকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টায় প্রতিদিন গলদঘর্ম। ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি একেবারে ব্যর্থ; ঘুমপাড়ানি ছড়া, তাল, সুর নিঃশেষ হয়ে যায়, দোলনা ঠেলতে ঠেলতে হাত ব্যথা, তবু কোনো কোনো শিশুর চোখে ঘুম নেই।

কিন্তু কেন?

ঘুম নিয়ে লড়াই শিশু বয়সের জন্য সচরাচর ঘটনা। ঘুমের এই গন্ডগোল আবার বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে—সাময়িক, কিছুদিন পর পর অসুবিধা অথবা দীর্ঘমেয়াদি।
যেসব শিশু একটা নির্দিষ্ট সময়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস রপ্ত করতে পারে না তাদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

একেবারে কম বয়সী শিশুর মধ্যে ঘুম না আসার একটা কারণ হলো মা-বাবার কলহ বা উদ্বেগের ফল। অধিক বয়সী কোনো কোনো শিশু ঘুমোতে যাওয়ার সময় ভীতিকর শব্দ শুনে, বজ্রপাত-বিজলি, সিঁধেল চোর কিংবা কেউ তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে ভেবে ভয় পেতে পারে। এই যে মনের বাঘে সে সন্ত্রস্ত হয়ে আছে, কোনো কোনো শিশু তা জানিয়ে দেয়।

আবার কেউ কেউ তা কখনো জানাতে চায় না, বরং কৌশল অবলম্বন করে যেনতেনভাবে ঘুমানোর সময়টি পার করে দিতে চায়। এ পর্যায়ে ভয়ে জবুথবু শিশুটি একা না শুয়ে মা-বাবার বিছানায় শোবার বায়না ধরে কিংবা মা-বাবার কাছে অর্ধেক ঘুমের পর উঠে চলে আসতে পারে।

মা-বাবা থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার ভয় কখনো কখনো এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটায়। মা-বাবা ও ঘর ছেড়ে প্রথম স্কুলে যাওয়ার ও আলাদা থাকার দুশ্চিন্তা গ্রাস করার কারণে না ঘুমানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর বাইরে পরিবারের যেকোনো কিছু নিয়ে সহপাঠী কিংবা স্কুলের ফলাফল ইত্যাদি বিষয়ে মন খারাপ থাকা বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকার কারণে ‘ঘুম নেই’ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

কী করবেন?

এ ব্যাপারে মা-বাবাকে ধৈর্য ধরে, শিশুকে পূর্ণ সহযোগিতা জুগিয়ে চেষ্টা চালাতে হবে। এ নিয়ে রাগ করা, বকাঝকা বা পিটুনি দেওয়া কখনো চলবে না। শান্ত, অবিচল অথচ অনমনীয় আচরণের সাহায্যে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি অনুধাবন করে মা-বাবাকে এগোতে হবে। শিশুকে ঘুমোতে নেওয়ার সময়টি নির্দিষ্ট করে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, যেন একেক দিন একেক সময় না ঘুমায়, এমনকি ছুটির দিনেও।

শিশু খুব ভয়ার্ত হয়ে থাকলে ঘরে হালকা আলো জ্বালিয়ে রেখে, প্রয়োজনে ঘরের দরজা খুলে রেখে আশ্বাস দিন যে আপনি পাশেই আছেন। ঘুমানোর আগে শান্ত আরামদায়ক স্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করুন। শিশুর হাতে তার প্রিয় কোনো বই পড়তে দিন। ঘুমের আগে শিশুকে টেলিভিশনে কোনো উত্তেজক দৃশ্য দেখা বা উত্তেজক গেম খেলতে দেওয়া যাবে না। ঘুমের বেশ কিছু আগেই খাওয়া-দাওয়া সমাপ্ত করুন, সন্ধ্যার পর চকলেট ও কৃত্রিম রংযুক্ত খাবার দেবেন না, এগুলো শিশুকে উত্তেজিত করে।