গোসলের সময়ের এই ১২টি সাধারন ভুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সচেতন হোন

গবেষকরা দেখেছেন, আমরা আমাদের জীবদ্দশায় দেড় বছর সময় বাথরুমে কাটে আর এর মধ্যে ৬ মাস সময় স্নান বা গোসল করে কাটাই। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ পরিচ্ছন্নতা আমাদের সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক মানুষই গোসল বা স্নানের সময় কোনো ভুল করেন না।

আমরা এমনই ১২টি ভুলের তালিকা তৈরি করেছি যা গোসলের সময় প্রায় প্রত্যেকেই করেন। আসুন দেখে নেই ভুলগুলো কী কী। আশা করি নিজেকে শুধরে নেবেন।

১. ঘামানোর পর গোসল না করা

অনেকেই বাইরে থেকে এসে ঘরের অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, অথবা সকালে গোসল করেছেন বলে এবেলায় আর গোসল করতে চান না। এতে শরীরে যেমন দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় তেমনি ত্বকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া লাফিয়ে বাড়তে থাকে। ফলে ত্বকে র‌্যাশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেয়। সুতরাং আমাদের পরামর্শ হলো বাইরে থেকে এসে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে নেওয়া।

২. পা পরিষ্কারের আগে লোম পরিষ্কার করা

কখনোই পা পরিষ্কারের আগে লোম পরিষ্কার করতে যাবেন না। বরং আগে পা পরিষ্কার করে তারপর লোম পরিষ্কার করুন। অন্যথায় অপরিষ্কার পায়ে লেগে থাকা জীবাণুরা শেভের সময় সৃষ্ট ক্ষতে গিয়ে আক্রমণ চালাবে।

৩. এক তাপমাত্রার পানিতেই গোসল করা

আমাদের মধ্যে তাপমাত্রা পরিবর্তন করে গোসলের প্রচলন নেই বললেই চলে। কিন্তু স্বাভাবিক পানি দিয়ে গোসল শেষে ৩০ সেকেন্ড ঠাণ্ডা পানি শরীরে দিলে বিষণ্ণতা দূর হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মন ভালো করে। কিন্তু মনে রাখবেন রাতে ঘুমানোর আগে গোসলে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করলে অনিদ্রা হতে পারে।

৪. প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করা

আমরা অনেকেই আছি যারা প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করে থাকি। কিন্তু প্রতিদিন শ্যাম্পু করার ফলে অনেকের মাথার ত্বক আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আবার অনেক সময় বেশি শুষ্কও হয়ে যায় চুল।

তাই ২ দিন পর পর শ্যাম্পু করা উচিত। এতে করে আপনার চুল থাকবে ভালো ও মাথার ত্বকের তেল ভাব চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিবে। আবার বেশি দেরি করে শ্যাম্পু করলেও কিন্তু হবে না। তাতে মাথার ত্বকে ময়লা জমে যাবে।

৫. তোয়ালে দিয়ে শরীর বেশি জোরে মোছা

আমরা অনেকেই গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে খুব জোরে ঘষে ঘষে শরীর মুছে থাকি। কিন্তু এইভাবে শরীর মুছলে তা দেহের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ও ত্বক শুষ্ক করে দেয়। তাছাড়া বিশেষ করে নারীরা গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে চুল অনেকক্ষণ পেঁচিয়ে রাখে এই কাজটিও করা ঠিক না। গোসল শেষ হওয়ার সাথে সাথেই চুলের পানি ঝেড়ে নিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল শুকাতে দিন।

৬. প্লাস্টিকের শাওয়ার হেড ব্যবহার

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ধাতব শাওয়ার হেডের চেয়ে প্লাস্টিকের হেড বেশি জীবাণুপ্রবণ। প্লাস্টিকের শাওয়ার হেড ব্যবহার না করে ধাতব হেড ব্যবহার করা উচিত।

৭. সাবানদানী পরিষ্কার না করা

সাবানদানী থেকে পানি ঝরে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই মাথায় রাখেন না। এতে সাবান যেমন গলে ক্ষয় হতে থাকে তেমনি সাবানে ব্যাকটেরিয়াও জন্ম নেয়। তাই নিয়মিত সাবানদানী পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

৮. গোসলখানায় রেজার রেখে আসা

আমরা প্রায় সবাই এই কাজটি করি। গোসলের সময় শেভ করে রেজারটি গোসলখানাতেই ফেলে আসি। এতে রেজারের গায়ে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। পরবর্তীতে কোনো কারণে ত্বক কেটে গেলে এই জীবাণুগুলো ক্ষত স্থানে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই গোসল শেষে রেজার অবশ্যই ঘরে নিয়ে আসবেন। আর একটি তোয়ালের মধ্যে কিছু সময় রেখে শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না।

৯. এক তোয়ালে অনেকবার ব্যবহার করা

এক তোয়ালে বার বার ব্যবহার করবেন না। যদি পুরোপুরি শুকায়নি এমন তোয়ালে ব্যবহার করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়ার কবলে পড়া কোনো জটিল বিষয় না। চিকিৎসকরা ধোয়া তোয়ালে ৩ বারের বেশি ব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং পরবর্তী ব্যবহারের আগে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

১০. বাথটাব ভালোভাবে না ধোয়া

গোসলের পর বাথটাব পরিষ্কার করতে কখনোই ভুলবেন না। আর্দ্র পরিবেশে ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত বাথটাব পরিষ্কার রাখলে ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

১১. শরীর পরিষ্কারের জন্য স্পঞ্জের ব্যবহার

গোসলের সময় আমরা শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য নানারকম স্পঞ্জ ব্যবহার করি। কিন্তু যে স্পঞ্জ দিয়ে আমরা শরীর পরিষ্কার করি সেটিই আমাদের জন্য ক্ষতিকর জীবাণুর কারণ হতে পারে। স্পঞ্জ সবসময় ভেজা পরিবেশ থাকায় তা ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত আবাস। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞগণ স্পঞ্জ ব্যবহারের কিছু নিয়ম অবশ্য বাতলে দিয়েছেন- ১. প্রতিবার স্পঞ্জ ব্যবহারের পর তা শুকিয়ে ফেলতে হবে। ২. স্পঞ্জ মুখে এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে ব্যবহার না করা। কারণ শরীরের এই অঙ্গগুলোতে সহজে জীবাণু আক্রান্ত হয়। ৩. প্রতি সপ্তাহে স্পঞ্জ একবার জীবাণুমুক্ত করার দ্রবণে ভিজিয়ে নিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রাকৃতিক স্পঞ্জ (ধুন্দল শুকিয়ে যেটি তৈরি করা হয়) হলে তিন সপ্তাহ পর আর প্লাস্টিকের স্পঞ্জ হলে এক মাস পর পাল্টে নতুন স্পঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

১২. পা পরিষ্কার না করা

অনেকে এই মনে করে পা ধোয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না যে, শরীর থেকে সাবান পানি পায়ে গড়িয়ে এমনিতেই পা পরিষ্কার হয়ে যায়। দুঃখজনকভাবে এই ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক, এবং এতে পায়ের নখে ফাঙ্গাসের আক্রমণ হতে পারে।

আমরা আশা করি এই পরামর্শগুলো আপনাদের উপকারে আসবে, কারণ স্বাস্থ্যের চেয়ে দামী কিছুই আর নেই। আপনার কি অন্য কোনো টিপস জানা আছে? থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখে জানানোর অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ দেহ’র সাথে থাকার জন্য।