নারীদের জন্য মাছের তেলের অসাধারন কিছু উপকারীতা এবং কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জেনে নিন

তৈলাক্ত মাছের টিস্যু থেকে উৎপন্ন তেলকেই আমরা মাছের তেল বা ফিশ অয়েল বলে জানি। এতে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ইকোসাপেন্টাইয়েনিক অ্যাসিড (ইপিএ) এবং ডোকোসেহেক্সায়েকনিক অ্যাসিড (ডিএইচএ) থাকে।

মাছের তেলের উপকারী দিক অনেক যেমন এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে খুবই কার্যকরী, হার্ট ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। মহিলাদের প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মাছের তেল। লিভারের চর্বি হ্রাস করতে এবং শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ সাধনে এই ফিশ অয়েল বা মাছের তেলের জুড়ি নেই।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেলস কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্বও কমতে শুরু করে ফলে বেশিরভাগ নারী-পুরুষ বিশেষ করে নারীরা অস্টিওপরোসিস রোগসহ নানারকম হাড়ের সমস্যায় ভোগেন। মাছের তেল এ ক্ষেত্রে তাদের সমস্যার সমাধান হতে পারে। কারণ মাছের তেলে ফ্যাটি অ্যাসিড ছাড়াও ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে যা হাড়কে মজবুত করে।

সাধারণত ফ্যাটি ফিস থেকে মাছের তেল সংগ্রহ করা হয়। পুষ্টিবিদ ও পেশাদার স্বাস্থ্যবিদদের মাছের তেল নিয়ে আগ্রহের কারণ হচ্ছে ডোকোসা হেক্সানোইক এসিড (DHA) ও ইকোসাপেন্টানোইক এসিড (EPA) নামক ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতি। তৈলাক্ত মাছের এক টুকরাতে ৩০% এর বেশি তেল থাকে। তৈলাক্ত মাছে ভিটামিন এ ও ডি থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যবিদেরা মাছের তেলের স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য তৈলাক্ত মাছ খাওয়ার বা সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। মাছের তেলের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো জেনে নেই আসুন।

হৃদস্বাস্থ্যের জন্য: আমেরিকান হার্ট এ্যাসোসিয়েশনের মতে, কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ কমাতে সাহায্য করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড খারাপ কোলেস্টেরল LDL এর লেভেল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল HDL এর লেভেল বৃদ্ধি করে। মাছের তেল স্ট্রোক প্রতিরোধ করে।

ওজন কমানোর জন্য: ওজন কমাতে মাছের তেল অনেক জনপ্রিয়। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রফেসর Peter Howe তার একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, মাছের তেল ব্যায়াম করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন।

অষ্টিওআরথ্রাইটিসের উপসর্গ কমায়: University of Bristol এর একটি গবেষণায় ফলাফলে জানা যায় যে, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড অষ্টিওআরথ্রাইটিসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনার অস্থি সন্ধিতে ব্যাথা থাকে তাহলে প্রতিদিন মাছের তেল খেলে অস্থি সন্ধির প্রদাহ কমবে।

ইমিউনিটির উন্নতি করে: মাছের তেলের ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে ঠান্ডা, কাশি ও ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মাছের তেলে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান আছে যা রক্ত ও কোষ কলার ইনফ্লামেশন কমায়। এছাড়াও গেস্ট্রোইন্টেসটাইনাল ডিজঅর্ডার, সিলিয়াক সমস্যা, অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, অ্যাংজাইটি, বিষণ্ণতা, চোখের সমস্যা, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার্স ইত্যাদি রোগের নিরাময়ে সাহায্য করে। শুষ্ক ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে, তরুণদের স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায় মাছের তেলের ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। Investigative Ophthalmology & Visual Science এ প্রকাশিত কানাডিয়ান গবেষকদের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, “পর্যাপ্ত পরিমাণে DHA সমৃদ্ধ খাবার খেলে বয়সের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে”। সাধারণত সাধু পানির মাছের চেয়ে সামুদ্রিক মাছে ফ্যাট বেশি থাকে যেমন- স্যামন, টুনা ইত্যাদি। কোন প্রকার সম্পূরক ঔষধ গ্রহণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।

নারীর দেহে মাছের তেল ক্যাপসুলের ১০টি উপকারিতা!

বিভিন্ন গবেষণাতেই বের হয়েছে যে নারী দেহে মাছের তেলের উপকারিতা অনেক বেশি। ২০-৩০ বছর অথবা মধ্যবয়স্ক সব নারীরাই মাছের তেল ক্যাপসুল খেতে পারেন। এবং প্রতিদিন ব্যবহারে শারীরিক ভাবে অনেক উপকারিতা লাভ করতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নিই মাছের তেলের উপকারিতা সম্পর্কে।

স্তন ক্যান্সার রোধ করে: দৈনিক ওমেগা-৩ মাছের তেল সেবন করলে স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি কবে যায়। ওমেগা-৩ ও ডিএইচএ-৩ তে প্রাকৃতিক ভাবেই অ্যান্টি প্রদাহজনক পদার্থ আছে যা ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বাধা প্রদান করে এবং তা শরীর থেকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

ব্যাথা কমাতে: অনেক নারীদের menstruation এর সময় শরীরের যে ব্যথা হয়, ওমেগা-৩ এর ফ্যাটি এসিড সেই ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

সুস্থ ভ্রুণ উৎপাদনে সহায়তা করে: নারীদের গর্ভধারণ সময়ে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এবং এটি সন্তান ও মায়ের মধ্যে অক্সিজেন ও পুষ্টি বিনিময় করতে সহায়তা করে।

শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশ ঘটতে সাহায্য করে: একটি শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রচুর পারিমানে ডিএইচএ ওমেগা-৩ এর প্রয়োজন হয়। যদি কোন গর্ভবতী নারী যথেষ্ট পরিমানে ডিএইচএ সেবন না করে থাকে তখন মায়ের মস্তিষ্ক থেকে শিশুরা ডিএইচএ পেয়ে থাকে। এবং গবেষণায় বলা হয়েছে যে একজন নারী সন্তান জন্মদানের পর তারা তাদের মস্তিষ্কের কোষ হারাতে পারেন।

হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে: গর্ভকালে অনেক নারীদেরই হাই ব্লাড প্রেশার থাকে যা গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর। তাই এই সময় ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে ওমেগা-৩ এর উপকারিতা অনেক।

সঠিক তারিখে সন্তান প্রসব: ওমেগা-৩ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের পূর্বে প্রসবের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এবং সন্তান সন্তান সুস্থ ও সম্পূর্ণরূপে বিকশিত কিনা তা নিশ্চিত করে।

সন্তান প্রসবের সময়ের বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করে: ক্লিনিকাল গবেষণায় বলা হয়েছে যে, একজন নারী সন্তান জন্মদানের পর যদি ওমেগা-৩ সেবন করে তাহলে তার প্রসব কালীন বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।

নারীদের সঠিক বয়সে মেনোপজ: মাছের তেল প্রতিদিন নারীর শরীরের হরমোনের ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়তা করে এবং মেনোপজ উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।

অস্টিওপোরোসিস রোগ সারাতে: অস্টিওপোরোসিস সাধারণত হাড়ক্ষয় রোগ। নারীদের মেনোপজের পর এই রোগটি দেখা দেয়। কিন্তু মাছের তেলের ফ্যাটি এসিড অস্টিওপোরোসিস রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে: হৃদরোগ এমন একটি রোগ যা নারীদের হলে মৃত্যুর সম্ভবনা থাকে অনেক বেশি। এবং অন্য যেকোন রোগ যেমন স্তন ক্যান্সার থেকেও হৃদরোগ খুব ক্ষতিকর। কিন্তু ইপিএ ও ডিএইচএ ওমেগা-৩ হৃদরোগ ঝুকি কমাতে সহায়তা করে এবং নিম্ন রক্তচাপ, কলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসেরাইড নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

চুলের বৃদ্ধিতে মাছের তেলের উপকারিতা

আনমনে চুলের মধ্যে হাত বোলাতে বেশ ভালোই লাগে কিন্তু হাত ভরে যদি ঝরা চুল বেরিয়ে আসে তখন এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা ও ঘন চুল আঁচড়াতে বা প্রিয় মানুষটিকে সুন্দর লম্বা চুল দিয়ে মুগ্ধ করতে কার না ভালো লাগবে। কিন্তু এটা বর্তমানে স্বপ্ন বললেই ভালো মানাবে কারণ এখন সেই আগের মতো ঘন কালো লম্বা চুল দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

দিনের পর দিন বিভিন্ন রকম দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি, ইউভি রশ্নির মাত্রা বৃদ্ধি ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা-এই সব কিছুর প্রভাব সব থেকে বেশি পড়ে আমাদের চুলে। অতিরিক্ত চুল পড়া ও চুলের সঠিক বৃদ্ধি না হওয়া বর্তমানে অধিকাংশ মহিলাদের একটা বড় সমস্যা।

অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিউটি ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অনেকেই এখনো হাল ছাড়েননি, বিশেষ করে যাদের চুল পাতলা ও চুল পড়ছে তাদের চুলের বৃদ্ধি একটা চ্যালেঞ্জের মতো।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক জিনিস যা আপনাকে আপনার চুল পড়া রোধ করতে ও চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যেমন আমলকি, পেঁয়াজ, ইত্যাদি। আজ এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদানের নাম বলবো যার কথা হয়তো আপনি আগে শুনেছেন কিন্তু চুলের যত্নে এর ব্যবহারের কথা নাও শুনে থাকতে পারেন।

গবেষণা অনুসারে ফিশ অয়েল বা মাছের তেলে উপস্থিত উচ্চ মাত্রার ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের শরীরের অনেক উপকার করে। এটি শরীরের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে এবং এর ফলে ত্বক স্বাস্থ্যকর ও চুল উন্নত হয়।

২০০৯ সালে এক প্রবন্ধে ডার্মাটোএন্ডোক্রিনোলজিরা দাবি করেন, মাছের তেলে যে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায় তা চুলের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে। চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। চুলপড়া কমায় এবং চুল পড়া বা বৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখে।

কিভাবে কাজ করে?

মাছের তেল ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড পুষ্টিকর ও প্রোটিন দ্বারা পরিপূর্ণ। চুলের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায়,চুল পড়া রোধ করে এবং চুল বৃদ্ধির প্রসার ঘটায়। এর সাথে সাথে চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সামগ্রিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখে এবং চুল বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করে।

সাবধানতা গ্রহণ করা: অন্যান্য তেল যেমন অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল , ল্যাভেন্ডার তেল, নারকেল তেল এবং আরও অনেক তেলের মতো এই মাছের তেলটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা যায় না। এর অবশ্যই একটা বিশেষ কারণ আছে। আর এর কারণ হলো মাছের তেলে প্রবল গন্ধ থাকে। তবে এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিত থাকতে পারেন যে মাছের তেল আপনার চুলের কোন ক্ষতি করে না। আপনার মাথার স্ক্যাল্প ও চুলকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় এই উৎস মাছের তেল এবং গভীরভাবে ময়শ্চারাইজও করে।

একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকে গেল আপনি যদি মাছের তেল অন্যান্য তেলের মতো সাধারনভাবে ব্যবহার করতে না পারেন তবে কি ভাবে বা কোন পদ্ধতিতে ব্যবহার করবেন এই উপকারী মাছের তেল? এর উত্তর ও কিন্তু তৈরি।

যে ভাবে ব্যবহার করবেন

১. এটি আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন: সামুদ্রিক অনেক মাছই আছে যা উচ্চ মাত্রার ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। যেমন ম্যাকেরেল, হেরিং, স্যামন,সার্ডিনস, আলবকর টুয়া,হ্রদ ট্রাউট। এ ধরনের মাছ সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ বার আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

চুলের বৃদ্ধির জন্য এসব মাছ বা মাছের তেল খুবই কার্যকরী। তবে যাদের ডায়াবেটিস বা এলডিএল কলেস্টেরলের মতো সমস্যা আছে তারা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

২. ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্টস: আজকাল অনেকেই মাছ খেতে পছন্দ করেন না বা সামুদ্রিক মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। তাই বলে মাছের তেল থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন না।

বর্তমানে বিভিন্ন মেডিকেল স্টোর,অনলাইন স্টোর,নামীদামি শপিংমলে সহজেই এবং আসল বিভিন্ন মাছের তেল ক্যাপসুল, পিলএবং তরল সাপ্লিমেন্টস আকারে পাওয়া যায়। এবার আপনি নিজেই ঠিক করুন কি ভাবে গ্রহন করবেন, তবে মাছের তেলের ডোজ সম্পর্কে আপনাকে সর্তক থাকতে হবে। এজন্য আপনি কোনো হেলথ কনসাল্টন্টের সাথে পরামর্শ করে নিতে পারেন। এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে বিস্ময়কর ফলাফল দিবে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন, মাছের তেল এবং মাছ দুটোতেই উচ্চ মাত্রার মার্কারি আছে। তাই ডোজ সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত এবং ডোজ গ্রহন করার আগে আপনি কোনো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট এর কিছু অপ্রিয় সাইড ইফেক্ট

হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের (omega-3 fatty acid) একটি জনপ্রিয় উৎস হল মাছের তেলের সাপ্লিমেন্ট বা ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট (fish oil supplement)। অবশ্য, এর কিছু অপ্রিয় সাইড ইফেক্ট আছে যেগুলো হয়তো আপনার অজানা। মাইল্ড (mild) সাইড ইফেক্ট হল হজমে সমস্যা, ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ এবং র‍্যাশ। একটু ভারী সাইড ইফেক্ট হল দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, অ্যারিদমিয়া (arrythmia), অ্যালার্জি এবং রক্ত পাতলা বা লঘু হয়ে যাওয়া (blood thinning)। এতে আরো হতে পারে ইনফ্লেমেশন, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস।

খাদ্য ও পুষ্টি জগতে ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্টের খ্যাতি তুঙ্গে। এটি খাবার হিসাবে স্বাস্থ্যকর এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ, যা কি না মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পরিচিত, এবং ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride) লেভেল কমানোর ক্ষেত্রে কাজে দেয়। কিন্তু, এটি কি আসলেই এত ভাল? ফিশ অয়েলের কিছু স্বল্প-পরিচিতি পাওয়া সাইড ইফেক্ট বর্ণনা করা হল।

ফিশ অয়েলের হালকা সাইড ইফেক্ট

১. ত্বকে মৃদু র‍্যাশ: ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করলে কেউ কেউ র‍্যাশের সম্মুখীন হন। মাছের তেল গ্রহণে যদি ত্বকে র‍্যাশ দেখেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন, কারণ এটি অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের অংশ হতে পারে।

২. পিঠে ব্যাথা (Back Pain): ডাক্তারগণ এখনো নিশ্চিত না কেন এটি ঘটে, কিন্তু সাপ্লিমেন্ট শুরু করার পর যদি পিঠে ব্যাথা অনুভব করেন, ডাক্তারকে জানান। চিকিৎসা প্রয়োজন, দেহে এমন কোন লুকায়িত সমস্যার কারণে এটি হতে পারে।

৩. বাজে স্বাদ: অনেকেই অভিযোগ করেন যে এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পর মুখে মাছের আঁশটে স্বাদ থেকে যায়, যা খুবই সাধারণ। কিন্তু তাও যদি কোনটির বোতল খোলার পর খুব বাজে গন্ধ পান, তাহলে হয়তো ওটার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সাপ্লিমেন্টটি ঠিক মত সংরক্ষণ করবেন, মেয়াদ পার হয়ে গেলে ফেলে দিবেন।

৪. পেটের সমস্যা: এই সাপ্লিমেন্টগুলো খেয়ে কারো বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। খাবারের সাথে ক্যাপসুলটি খেলেই সাধারণত এগুলো সেরে যায়। বলে রাখা ভাল যে ক্যাপসুলগুলোর মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার ফলেও কিন্তু বমি আর ডায়রিয়া হতে পারে, তাই বোতলের গায়ে দেখে নিন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ।

৫. ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা: এই সাপ্লিমেন্টগুলো খেয়ে ব্লোটেড বোধ করা বা পেটে গ্যাস হতে পারে কারো। গবেষকরা নিশ্চিত নন কেন এটি হয়, কিন্তু এরকম হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিৎ।

৬. ফ্লু এর লক্ষণ: কেউ কেউ জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, গলা ব্যাথায় ভুগতে পারেন। এর কারণ হয়তো আপনার শরীর ঐ মাছের তেল ঠিক মত সহ্য করতে পারছে না অথবা ক্যাপসুলটি দূষিত ছিল।

মাছের তেলের মাঝারি থেকে গুরুতর সাইড ইফেক্ট

১. বুকের ব্যাথা ও অনিয়মিত হার্টবিট: কারো কারো ক্ষেত্রে মাছের তেল সাপ্লিমেন্টের ফলে হার্টবিট অনিয়মিত হয়ে যায় ও বুকে ব্যাথা হয়। অনিয়মিত হার্টবিট খুবই বিপজ্জনক এবং এতে হার্টের কার্যক্রম বন্ধও হয়ে যেতে পারে। মাছের তেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পর বুকে ব্যাথা অনুভব করলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন!

২. অ্যালার্জি: সামুদ্রিক মাছ ও খোলসওয়ালা মাছে যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট থেকেও দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। নতুবা অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয়ে হাইভস (hives – আমবাত), শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, অথবা চেহারা, ঠোঁট, জিহ্বা, গলা ফুলে যেতে পারে। কেনার আগে উপাদানগুলো দেখে নিন যাতে আপনার অ্যালার্জি আছে এরকম কোন উপাদান না থাকে।

৩. রক্তপাতজনিত সমস্যার ঝুঁকি: রক্তপাতজনিত সমস্যা হল যখন কোথাও কেটে রক্ত সহজে জমাট বাধে না। এটি জন্মগত সমস্যা হতে পারে, আবার কোন ওষুধের কারণেও হতে পারে যা রক্তকে লঘু বানিয়ে ফেলে। ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্টে এই ঝুঁকি থাকে। আবার, এই সাপ্লিমেন্টের কারণে ত্বকে অল্প ঘষা লাগলেই ছিলে যায়। যাদের রক্তপাত জনিত সমস্যা আছে বা রক্তকে পাতলা করে এমন ওষুধ খান, তাঁরা এই সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন।

৪. অনিদ্রা ও দুশ্চিন্তা: এগুলো বিরল, কিন্তু কেউ কেউ অনিদ্রা, দুশ্চিন্তা বা অ্যাংজাইটি এবং সার্বিক অস্থিরতায় বৃদ্ধি অনুভব করে থাকেন। সাধারণত ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করার সাথে সাথে এই লক্ষণগুলো উধাও হয়ে যায়।