বাবারাই মেয়েদের অনুভূতি বেশি অনুভব করেন, দেখুন বিস্তারিত

সন্তান যদি মেয়ে হয়, তাহলে তার প্রতি বাবার আচরণ ভিন্ন হয়। মেয়ের বেলায় বাবার ভাষার ব্যবহারও হয় ভিন্ন ধরনের। ছেলে ও মেয়েসন্তানের প্রতি বাবার মনোযোগ ও সতর্কতা ভিন্ন ধরনের। বাবাদের প্রাত্যহিক আদর-যত্ন এবং মস্তিষ্কের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ কথা বলেছেন।

গবেষকেরা বলছেন, ছেলেসন্তানের বাবারা ছেলের প্রতি যতটুকু মনোযোগী ও যত্নবান, তার চেয়ে বেশি মনোযোগী ও যত্নবান মেয়েসন্তানের বাবারা মেয়ের ক্ষেত্রে। বাবারা মেয়েদের বেশি গান শোনান, আবেগ নিয়ে বেশি কথা বলেন। গবেষকেরা বলছেন, কারণটা সম্ভবত এই যে ছেলের তুলনায় মেয়ের অনুভূতি বাবা বেশি অনুভব করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার গবেষকেরা এই গবেষণা করেছেন। গবেষণা ফলাফল ‘চাইল্ড জেন্ডার ইনফ্লুয়েন্সেস প্যারেন্টাল বিহেভিয়ার, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ব্রেইন ফাংশন’ শিরোনামে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ‘বিহেভিয়ারাল নিউরোসায়েন্স’ সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে। গবেষকেরা দেখেছেন, শিশু যদি কাঁদে বা ‘ড্যাড’ বলে ডাক দেয়, তাহলে মেয়েশিশুর বাবার সাড়া দ্রুততর হয়।

গবেষণায় ৬৯ জন বাবাকে নেওয়া হয়। বাবাদের বয়স ছিল ২১ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। ৩৪ জন বাবার ছিল একটি মেয়ে এবং ৩৫ জন বাবার ছিল ছেলে। সন্তানদের বয়স ছিল এক থেকে দুই বছরের মধ্যে।

বাবাদের আচরণ নির্ণয় করার জন্য গবেষকেরা দুই ধনের প্রযুক্তির সহায়তা নেন। বাবাদের একটি করে ছোট কম্পিউটার দেওয়া হয় বেল্টে আটকে রাখার জন্য। বাবারা এই কম্পিউটার একটি কাজের দিনে (উইক ডে) ও একটি ছুটির দিনে (উইক এন্ড) মোট ৪৮ ঘণ্টা চালু রাখেন। কম্পিউটারগুলো প্রতি নয় মিনিট পরপর ৫০ সেকেন্ডর জন্য চালু হতো এবং সব ধরনের শব্দ রেকর্ড করত।

এতে দেখা গেছে, মেয়েশিশুর বাবা ছেলেশিশুর বাবার তুলনায় সন্তানের শরীর নিয়ে বেশি কথা বলেন, যেমন: পেট, পা বা পাকস্থলী নিয়ে বেশি কথা বলেন। ছেলেশিশুর বাবারা ছেলের সঙ্গে শক্ত ও ছুটোছুটি ধরনের খেলা খেলেন এবং ছেলের সঙ্গে কথা বলার সময় অর্জনসংক্রান্ত ভাষা, যেমন: গর্ব, জয় বা শীর্ষস্থান (প্রাউড, উইন, টপ) ব্যবহার করেন বেশি। মেয়েশিশুর বাবারা বিশ্লেষণধর্মী শব্দ বেশি ব্যবহার করেন, যেমন: সব, নিচে, অধিক (অল, বিলো, মাচ)।

দ্বিতীয়ত, বাবাদের সামনে ছবি দিয়ে তাঁদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করা হয়। একজন অপরিচিত পূর্ণবয়স্ক মানুষ, একটি অপরিচিত শিশু এবং নিজের শিশুর ছবি দেখানো হয়। নিজের শিশুর আবার তিন ধরনের ছবি দেখানো হয়: হাসিখুশি, দুঃখী ভাব এবং স্বাভাবিক অবস্থার। মস্তিষ্কের যেসব অংশ দৃশ্য, পুরস্কার, আবেগ এসবে সাড়া দেয়, এমআরআইয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসিখুশি ছবিতে মেয়েশিশুর বাবার মস্তিষ্কের এই অংশ বেশি সাড়া দেয়। স্বাভাবিক অবস্থার ছবি দেখলে ছেলের বাবার মস্তিষ্ক বেশি সাড়া দেয়। এটা গবেষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দুঃখের ছবিতে মেয়ে ও ছেলের বাবার প্রতিক্রিয়া সমান।

গবেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল এটাই নির্দেশ করে যে লিঙ্গপরিচয় নিয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠা আর তাদের প্রতি বাবাদের বাস্তব আচরণের মধ্যে পার্থক্য আছে।