স্বপ্নের মেদহীন স্লিম পেট পেতে এই ১০টি খাবার পরিহার করুন

মেদহীন পেট আমরা সবাই চাই, কিন্তু আপনি কি জানেন পেটের মেদ কমানোই সবচেয়ে কঠিন? আপনি ব্যয়াম করেন, আপনার খাদ্যাভাস ভাল ও নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু তারপরও আপনার পেটের মেদ যাচ্ছে না। এ রকম ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। মেদহীন পেটের জন্য আপনাকে জানতে হবে কোন খাবারগুলি পেটের মেদ কমানোর পথে বাধা সৃষ্টি করে।

পেটের মেদ কমাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন ১০টি খাবারের তথ্য এখানে থাকছে।

১. অ্যালকোহলিক পণ্য পরিহার করুন

অনেক অ্যালকোহলিক পণ্যে প্রচুর ক্যালরি থাকে। তবে ক্যালরিই মূল ঘটনা না। অ্যালকোহল আপনার ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং আপনার ব্রেইনের যে অংশ পেট ভরা থাকার সিগন্যাল তৈরি করে সেই অংশকে দ্বিধায় ফেলে দেয়। সুতরাং, আপনি যতই পরিপূর্ণ থাকুন না কেন, আপনি যখন এক বোতল বিয়ারও পান করেন তখন সাথে কিছু স্ন্যাকও খেয়ে থাকেন।

২. কোমল পানীয় পরিহার করুন

আমরা সবসময়ই এটা শুনে থাকি, তবে এই অভ্যাস বাদ দেওয়া খুব কঠিন মনে হয় আমাদের। আপনি যদি আসলেই পেটের মেদ কমাতে চান তাহলে কোমল পানীয় বাদ দিতে হবে। এমনকি যেসব কোমল পানীয়তে ক্যালরি কম থাকে সেগুলিও আপনার মেটাবলিজম ধীরগতির করে দেয় এবং আপনার শরীরে ফ্যাট বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

৩. চুইংগাম কিনবেন না

আপনি যখন চুইংগাম চাবান আপনার মস্তিষ্ক এবং পাকস্থলী সিগন্যাল পায় যে খাবার আসছে। তাছাড়া চুইংগাম চাবালে বেশি পরিমাণে পাকস্থলীর এসিড উৎপন্ন হয় এবং আপনি ক্ষুধার্ত অনুভব করেন।

৪. কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার খান / খাবারে লবণ কম খান

মনে রাখবেন, চিনি ও লবণ দুটি জিনিসের পরিমাণই কম হওয়া উচিৎ। বিশেষ করে আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকেন। বেশি সোডিয়ামযুক্ত খাবার আপনার স্বাস্থ্যের জন্য শুধু ক্ষতিকরই না, এগুলি শরীরে পানি ধরে রাখে, যার ফলে পেটের মেদ কার্যকরীভাবে কমে না।

৫. ফাস্টফুডকে বিদায় জানান

ফাস্টফুডে বেশি ক্যালরি থাকে এটা আমরা সবাই জানি। এটা জানার পরেও যদি আপনি ফাস্টফুড ছাড়তে না পারেন তাহলে মনে রাখবেন আপনার পেটের মেদের জন্য ফাস্টফুড অনেক বড় অংশে দায়ী।

৬. মেয়নেজের কথা ভুলে যান

আপনি যদি মেয়নেজের ভক্ত হয়ে থাকেন এবং সালাদেও আপনার মেয়নেজ খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনার জেনে রাখা উচিৎ যে মেয়নেজে ৮০ শতাংশ ফ্যাট থাকে। মেয়নেজের বদলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি টমেটো সস খেতে পারেন, তবে অবশ্যই তাতে সোডিয়াম কম থাকতে হবে।

৭. ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কে না বলুন

আপনি যদি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খুব বেশি ভালোবেসে থাকেন তাহলে যত দ্রুত সম্ভব এর সাথে সম্পর্ক শেষ করুন। ভাজা আলু স্পঞ্জের মত কাজ করে, এটি স্যাচুরেটেড ফ্যাট শোষণ করে ও ধরে রাখে। বিশ্বাস করুন অথবা না করুন, স্যাচুরেটেড ফ্যাট আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতায়ও প্রভাব ফেলে, ফলে ব্রেইনও বুঝতে পারে না এই খাবারের কারণে কী পরিমাণ ওজন বৃদ্ধি ঘটছে।

৮. আর আইসক্রিম না

আপনাকে অবশ্যই আইসক্রিম বাদ দিতে হবে। আইসক্রিমে থাকা প্রচুর সুগার পেটে মেদ হিসেবে জমা হয়। এবং এটা শরীরের সবচেয়ে বাজে ফ্যাট।

৯. পেটে গ্যাস হয় পেট ফুলে থাকে এমন খাবার খাবেন না

অনেক শুকনা বা ওজন কম লোকেরও পেট দেখা যায়। এর কারণ পরিপাকতন্ত্রের গ্যাস অথবা পাকস্থলীতে খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া। আপনার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা হয় তাহলে এই ধরনের খাবার খাবেন না এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এতে আপনার হজমশক্তি বৃদ্ধি পাবে।

১০. সুগার-ফ্রি খাবারের ওপর আস্থা রাখবেন না

যেসব খাবারে চিনির বদলে পলিঅ্যালকোহল বা এই জাতীয় যৌগ থাকে, সেই খাবারগুলি শুধুমাত্র ডায়বেটিক রোগীদের জন্য কার্যকরী। এই সুগার ফ্রি পণ্যগুলি আপনার পেটের সাইজ বা মেদবৃদ্ধিতে অনেক ভূমিকা রাখে।

স্লিম ও আকর্ষণীয় ফিগার পেতে যে ১০টি কাজ আপনাকে করতেই হবে:

ওজন কমানো মোটেও কোন সহজ কাজ নয়। রাতারাতি ওজন কমিয়ে আকর্ষণীয় ফিগার পাওয়া রীতিমত অসম্ভব। একটি মেদহীন ঝরঝরে ফিগার পেতে চাইলে প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা। জেনে নিন ওজন কমিয়ে আকর্ষণীয় ফিগার পেতে যে কাজগুলো আপনাকে করতেই হবে প্রতিদিন।

১) খেতেই হবে সকালের নাশতা
হেলথ ট্রেন্ড আসবে যাবে, কিন্তু সকালের নাশতার প্রয়োজনীয়তা ফুরোবে না কখনোই। যারা নিয়মিত সকালে নাশতা করেন তারা ওজন কমান বেশি, কারণ নাশতা করার সাথে সাথেই মেটাবলিজম শুরু হয়ে যায়।

২) টাটকা খাবার খান
দ্রুত ওজন কমাতে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড বাদ দিন। বেশ করে খান প্রাকৃতিক, টাটকা খাবার। হোল গ্রেইন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীরটা খুব ঝরঝরে লাগবে আর ওজনও ঝরবে কয়েক সপ্তাহের মাঝেই।

৩) বেশি খাবেন না
যতই স্বাস্থ্যকর খাবার খান না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ওজন রয়ে যাবে যে কে সেই। এ কারণে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আর খাবারে বিভিন্ন উপাদান যেন সুষম পরিমাণে থাকে তার দিকেও লক্ষ্য রাখুন। প্রয়োজনমতো প্রোটিন অবশ্যই রাখবেন খাবারে। যেসব কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম সেগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৪) ব্যায়াম উপভোগ করুন
ব্যায়ামকে যতো শাস্তি মনে করবেন, তত ক্ষতি হবে। ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলে সপ্তাহে একদিন ১৫ মিনিট হেঁটেই যদি ভাবেন যথেষ্ট হয়েছে, তাহলে কী করে ওজন কমবে বলুন তো। সপ্তাহে অন্তত ছয়দিন ঘন্টাখানেকের মতো ব্যায়াম করা দরকার। আর ব্যায়াম করার পর যদি আপনার কাপড়চোপড় ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে না যায় তবে ব্যায়ামের উপকার পাবেন না আপনি।

৫) ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন
এক ধাক্কায় ১০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলার সংকল্প থাকলে আপনার হতাশ হবার সম্ভাবনা বেশি। এর চাইতে ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন এক সপ্তাহের মাঝে আরো কয়েকটা বেশি পুশআপ দেওয়া, আরো ১০ মিনিট বেশি ব্যায়াম করা, গত বছরের জিনসটা পরার মতো মেদ ঝরানো ইত্যাদি। একটু একটু করেই দেখবেন অনেকটা উপকার হয়েছে।

৬) আরো বেশি পানি পান করুন
আপনি কী জানেন, অনেক সময়ে এমন হয় যে আপনার আসলে তেষ্টা পেয়েছে অথচ আপনি ভাবছেন আপনার ক্ষুধা লেগেছে! এই করতে গিয়ে পানি পান না করে বরং পেট ভরে খাওয়া দাওয়া করে ফেলেন তারা। ওজন তো বাড়বেই! সারাদিন পানি পান করুন। একটা বোতলে পানি নিয়ে সারাদিনই একটু একটু করে পান করতে থাকুন। দেখবেন আপনার এটাসেটা খাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। আর পানি পান করলে মেটাবলিজমও বাড়বে, ফলে পুড়বে বেশি ক্যালোরি।

৭) পরিকল্পনা করুন আগে থেকেই
ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও মাঝে মাঝে একটু আধটু মিষ্টি, ফাস্টফুড খাওয়াই যায়। কিন্তু তাই বলে যখন তখন নয়। ৮০/২০ নিয়মটি অনুসরণ করুন। আপনার খাদ্যভ্যাসের ৮০ শতাংশ যদি হয় একেবারে স্বাস্থ্যকর তবে বাকি ২০ শতাংশ একটু চিনি, একটু ফাস্ট ফুড হলেও সমস্যা নেই।

৮) শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন
শক্তি বাড়ানোর অর্থাৎ স্ট্রেংথ ট্রেইনিং পেশী গঠন করতে সাহায্য করে, মেটাবলিজম বাড়ায় এবং কমায় মেদ। নিয়ম মেনে করলে এতে আপনার কোনো ক্ষতিও হবে না।

৯) বিশ্রাম নিন যথেষ্ট
রাত্রে ভালো ঘুম না হলে পরের দিন ব্যায়াম করতে ইচ্ছে হবে না, আজেবাজে খাবার খেতে ইচ্ছে হবে বার বার। শুধু তাই নয়, শরীরকে বিশ্রাম দিলে মেদ কমেও দ্রুত। এসব কারণে একটু আগেই ঘুমাতে চলে যান।

১০) আশাবাদী থাকুন
নিজেকে দোষ দেবেন না ওজন বাড়ার জন্য। দ্রুত ওজন কমাতে না পারলে নিজের ওপর খামোখা রাগ করবেন না। আশা রাখুন। পুরো ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নিন। ওজন কমানোটাকে তখন আর কষ্ট মনে হবে না। ক্যালোরি নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাবেন না।

সুত্র: The 10 Rules of Weight Loss You Should Always Follow, Popsugar 5 Really Simple New Rules for Weight Loss , news .health .com ফটো ক্রেডিট: imemy health