উপকারি ডাবের পানি নিয়ে প্রচলিত ৫টি কথার সত্য-মিথ্যা বিস্তারিত জেনে নিন

ডাবের পানির অনেক উপকার এবং অনেকটাই ভেজালমুক্ত। গরমে পিপাসা মেটাতে ও শক্তিদায়ক হিসেবে ডাবের পানি চমৎকার। তবে এই ডাবের পানি নিয়ে মানুষের মনে গড়ে উঠেছে নানা ভ্রান্তি। চালু রয়েছে নানা মিথ।

ডাবের পানি নিয়ে মানুষের মনে যে ভ্রান্তধারণাগুলো আছে সেটি আজকের লেখাটিতে পরিষ্কার কারা চেষ্টা করবো। আসুন জেনে নিই এগুলো কতটা সত্য।

১. ডাবের পানিতে অনেক শক্তি?

ডাবের পানি দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে বলে পান করার পর বেশ ঝরঝরে লাগে এটা ঠিক, কিন্তু এতে ক্যালরি বা শক্তি যে খুব বেশি রয়েছে, তা নয়। ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে চিনি বা শর্করা আছে ২ দশমিক ৭ মিলিগ্রামের মতো, যা দোকানের বিভিন্ন জুস, ড্রিংকস বা কোমলপানীয়র চেয়ে অনেক কম। বাজারচলতি পানীয়র তুলনায় এতে ক্যালরির পরিমাণও কম। একে লো ক্যালরি ড্রিংকস বলা যায়। তাই ডাবের পানিতে অনেক শক্তি মিলবে, এটা ঠিক নয়। তবে এর শর্করার প্রায় পুরোটাই সহজ শর্করা, মানে দ্রুত রক্তে মিশে যেতে সক্ষম।

২. ডাবে অনেক পটাশিয়াম

এটা ঠিক যে ডাবের পানিতে পটাশিয়াম আছে। কিডনি রোগীদের ডাবের পানি কম খেতে বলা হয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পটাশিয়াম আছে এমন খাবার কিন্তু তাঁরা দিব্যি খেয়ে ফেলেন। ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ১৮৫ মিলিগ্রাম। ওদিকে একটা কলায় ৪২২ মিলিগ্রাম, একটা আলুতে ৭১৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম কমলা ও টমেটোতেও কম নেই। তাই পটাশিয়ামের বিধিনিষেধ থাকলে ওগুলোর কথাও মাথায় রাখুন।

৩. উচ্চরক্তচাপের রোগীর মানা

ডাবের পানিতে লবণ ও খনিজ আছে, অনেকটা স্যালাইনের মতো। তাই পান করলে রক্তচাপ বাড়বে, এমন ধারণাও আছে। এটা ঠিক নয়। কেননা ডাবের পানির লবণ মূলত পটাশিয়াম, সোডিয়াম নয়। আর পটাশিয়াম রক্তনালি প্রসারিত করে, বরং রক্তচাপ কমাতেই সাহায্য করে। সোডিয়াম উল্টোটা করে। তাই উচ্চরক্তচাপের রোগীর ডাবের পানি পান করতে মানা নেই।

৪. ডাবের পানি পান করলে ওজন কমে

বাজারচলতি জুস ও ড্রিংকসের তুলনায় ডাবের পানির ক্যালরি কম, এটা সত্য, তাই বলে এটা একেবারে পানির মতো ক্যালরিমুক্ত, চিনিমুক্ত পানীয় নয়। তাই ওজন কমাবে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

ডাবের পানি কলেরা প্রতিরোধ করে, বদহজম দূর করে, হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, গরমে ডি-হাইড্রেশন-এর সমস্যায় বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ব্যায়ামের পর যখন শরীর ঘেমে ক্লান্ত হয়ে যায় তখন ডাবের পানি পান করলে শরীরের ফ্লুইড-এর ভারসাম্য বজায় থাকে। গরমের কারণে ঘামাচি, ত্বক পুড়ে গেলে ডাবের পানি লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস রোগীরা ডাবের পানি পান করতে পারে। ডাবের পানি বাচ্চাদের গ্রোথ বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো রাখে। এ ছাড়া কোলাইটিস, আলসার, গ্যাসট্রিক, পাইলস, ডিসেন্ট্রি ও কিডনিতে পাথর- এসব সমস্যায়ও ডাবের পানি খুবই উপকারী। ঘন ঘন বমি হলে ডাবের পানি ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ।