থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন? জেনে নিন কী খাবেন, কী খাবেন না

থাইরয়েড হলো গলার সামনে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি। এটি খাবার থেকে আয়োডিন নিয়ে থাইরয়েড হরমোন উত্‍পাদন করে। থাইরয়েড হরমোন শরীরের প্রায় সকল কার্যক্রমে সহযোগিতা করে, যেমন- হার্ট রেট, লিভার ফাংশন, সার্কুলেশন, মেটাবলিজম ও ইন্টারনাল ক্লক।

থাইরয়েডের সমস্যা কারও কাছেই বিশেষ অপরিচিত নয়। প্রতি বাড়িতেই কোনও না কোনও মানুষ থাইরয়েড -এর সমস্যায় ভোগেন। এর থেকেই দেখা দেয় গুরুতর সব অসুখ। সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁডা়য় এই থাইরয়েড।

ট্রায়োডোথাইরোনিন ও থাইরক্সিন অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেলে যে সমস্যা দেখা দেয় তা হল হাইপোথাইরয়েডিজম। অর্থাৎ থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ঠিক করে কাজ করে না। এই লক্ষণ দেখা গেলে ওজন কমে যায়, আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। যা শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। থাইরয়েড -এর সমস্যা থাকলে খাওয়া দাওয়া, জীবনযাপন কড়া নিয়মে বেঁধে দেন চিকিৎসকরা। জেনে নিন থাইরয়েড থাকলে কী খাবেন, কী খাবেন না।

থাইরয়েড -এর আদর্শ ডায়েট

কপার এবং আয়রন-কপার এবং আয়রন দুটোই থাইরডের মোকাবিলা করতে জরুরি। টাটকা মাংস, ওয়েস্টার, কাজু, গমের আটাতে প্রচুর পরিমাণে কপার রয়েছে। সবুজ শাকসবজি, বিন, আঁশওয়ালা মাছ, সামুদ্রিক মাছ, পোলট্রির ডিমে রয়েছে আয়রন। সেই সঙ্গেই ভিটামিন সি ব্যালান্স করতে খান লেবু, টমেটো, ক্যাপসিকাম।

নিয়ম মেনে ওষুধ খান

থাইরয়েড-এর সমস্যা থাকলে নিশ্চিতভাবেই ওষুধ চালু হবে। নিয়ম মেনে ওষুধ খান। সেই সঙ্গে ব্যায়াম করুন এবং প্রতি রাতে আট-দশ ঘণ্টা ঘুমোন। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে কাজে-কর্মে উৎসাহ পাবেন না একেবারেই, বাড়বে মেদবাহুল্য। সেই সঙ্গে সিম্পল কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার উপরেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। সব নিয়ম মেনে চললে কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খান

টমেটো, বেলপেপাপরস,ভিটামিন বি যুক্ত খাবার বেশি করে খান।

সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করুন- সেলেনিয়াম থাইরোড হরমোনের সঠিক ক্ষরণে সাহায্য করে। সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করা শুরু করুন।

থাইরোসিন- মাংস, দুদ্ধজাত দ্রব্য বেশি করে খান। এছাড়াও হার্বাল কিছু খাবারও খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ছোলা জাতীয় খবার থাইরয়েড বাড়ায়। এ ছাড়াও সর্ষে, মুলো, রাঙা আলু, চিনে বাদাম এড়িয়ে চলাই ভাল। থাইরয়েড বেড়ে গেলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার যেমন পনির, চিজ ডায়েট থেকে বাদ দিন। চিনি, রান্না করা গাজর, পাকা কলা, শুকনো ফল, মধু, ময়দার রুটি, সাদা ভাত, আলু, সাদা পাস্ত, মিষ্টি শরীরে কার্বহাইড্রেটের মাত্রা বাড়ায়। থায়রয়েড থাকলে এগুলোও কম খান। চা, কফি, চকোলেট, সফট ড্রিঙ্ক যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।