যেভাবে হঠাৎ শুরু হওয়া বিরক্তিকর হেঁচকি থামাবেন

জীবনে কখনো আচমকা হেঁচকি ওঠেনি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। হেঁচকি কতটা বিরক্তিকর আর দুর্ভোগের সেটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ হেঁচকি শুরু হলে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

হেঁচকি ওঠলে পানি পান করতে হয়, এমন কথা সবাই কমবেশি শুনেছেন। কিন্তু সব সময় পানি পান কাজ করে না, সমানে হেঁচকি ওঠেই যায়। এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে নিস্তার পাওয়ার বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। তার আগে জেনে নিন হেঁচকি ওঠার কারণগুলো কী কী।

হেঁচকি ওঠার কারণগুলো

খাবারের তারতম্য, দ্রুত খাবার গিলে খাওয়া, খুব ভরপেট খাওয়া, খাবারের সঙ্গে মুখে বাতাসের প্রবেশ, ধূমপান, অতিরিক্ত কোমল পানীয় গ্রহণ, প্রচুর মদ্যপান করলে, বেশি মশলাদার খাবার খেলে, চুইংগাম চিবানো, খাদ্যনালির সমস্যা প্রভৃতি কারণে হেঁচকি উঠতে পারে।

বুক ও পেটের মধ্যে বিশেষ পর্দায় সমস্যা হলে হেঁচকি ওঠতে পারে। খুব উত্তেজিত হয়ে পড়লে, মানসিক চাপ থাকলে, আশপাশের তাপমাত্রা হঠাৎ খুব বদলে গেলে হেঁচকি ওঠার সম্ভাবনা থাকে। ধোঁয়াচ্ছন্ন জায়গায় থাকলে কিংবা শিশুরা দীর্ঘক্ষণ কাঁদলে বা কাশলেও হেঁচকি উঠতে পারে। হেঁচকির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে মনঃসংযোগহীনতা বা মনস্তাত্ত্বিক অসুবিধা। কখনো স্ট্রোকের পরে এবং মস্তিষ্ক ও যকৃতের কিছু রোগের কারণে হেঁচকি উঠতে পারে। ঘুমের ওষুধ, দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ ইত্যাদি সেবনের কারণেও হেঁচকি হতে পারে।

কী করে থামাবেন

শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন বদলালে নিমেষে কাজে দেয়। কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ করে রাখতে পারেন, একটি কাগজের ব্যাগের ভেতর শ্বাস নিতে পারেন, কিংবা হাঁটু জড়িয়ে ধরেও শ্বাস নিতে পারেন।

হাতের তালু চেপে ধরার মতো কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা ইন্টারনেটে খুঁজলেই পাওয়া যায়। তবে অনেকেই সেগুলো বিশ্বাস করতে চান না। তবে বিষয়টি একদম ফেলে দেওয়ার মতোও নয়। শরীরের কিছু প্রেসার পয়েন্ট আছে। যেমন নাক বন্ধ করে পর পর ঢোক গিলে দেখুন, নিমেষে কাজে দেবে। হাতের তালু মুঠো করে ধরতে পারেন। জিভ বার করে রাখলেও কাজে দেবে। এক থেকে দুইবার ধীরে ধীরে এটা করতে হবে।

বরফ দেওয়া পানি ধীরে ধীরে পান করতে পারেন। গরম পানি শ্বাস না নিয়ে পান করতে পারেন। বরফ চুষতেও পারেন। বরফ পানি গার্গল করতে পারেন। এতে হেঁচকি ওঠা কমে যাবে।

হেঁচকি ওঠলে লেবু চুষতে পারেন। জিভের উপর এক ফোঁটা ভিনিগার ফেলতে পারেন। এক চামচ মধু পিনাট বাটার দিয়ে খেলে উপকার পাবেন। তবে গেলার আগে মুখে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এক চামচ চিনি খেতে পারেন। এছাড়া গলার পেছন দিকে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে হেঁচকি ওঠাকালীন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।