সাধারন আমলকীর রসেই উধাও হবে পেটের বাড়তি চর্বি, জেনে নিন পদ্ধতি

বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনরা ওজন কমাতে কতো কিছুই না করে থাকে। বাড়তি ওজনের ফলে শরীরে দেখা দেয় নানা ধরনের রোগ ব্যাধি। এক্ষেত্রে আমলকি খুবই ভালো একটি সমাধান। বিশেষ করে পেটের মেদ কমাতে আমলকি অসাধারণ ভূমিকা রাখে।

আমলকিকে বলা হয় সেরা পেট ফ্যাট-ফাইটিং সুপারফুড। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন সি এব হাইপোলিপিডেমিক আপনার ফ্যাটি লিভার এবং কোলেস্টেরল কমাতে এবং হজমকে নিয়ন্ত্রণ করে, অন্ত্রে কাজ করতে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত ফ্যাট দূরে রাখতেও খুব কার্যকরী। এছাড়াও আমলা শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিসজনিত ওজন বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।

কীভাবে আমলকি খাবেন?

> সকালে খালি পেটে আমলকির রস খেতে পারেন। এক্ষেত্রে আগের রাতে আমলকি পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন।

> প্রতিদিন ২-৩ টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খালি পেটে খেতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

> দিনের অন্য সময় আমলকির চা’ও খেতে পারেন।

কখন ও কতটা পরিমাণে পান করবেন আমলকির রস:

সকালে খালি পেটে ১০ মিলিগ্রাম আমলকির রস পান করা উচিত। পরে এটি বাড়িয়ে ২০ মিলিগ্রাম করতে পারেন। এর চেয়ে বেশি পান করলে, স্বাস্থ্যে এর দুষ্প্রভাব পড়তে পারে। দিনে দুবার এটি পান করতে পারেন।

আমলকির উপকারীতা:

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে আমলকি সাহায্য করে। মধুর সঙ্গে এক চামচ আমলকির পাওডার মিশিয়ে খেলে চোখের ছানির সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়।

ফোড়ন দেওয়া আমলকির রস পান করলে জ্বর কমানো যায়। এ ছাড়া, দাঁতে ব্যথা ও ক্যাভিটি হলে আমলকির রসে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে মাড়িতে লাগালে স্বস্তি পেতে পারেন।

যে কোনও উপায় আমলকি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এ ছাড়া হিচকি উঠলে বা বমি হলে আমলকির রসে মিশ্রী মিশিয়ে দিনে দু-তিন বার পান করলে স্বস্তি পেতে পারেন।

মুখের দাগ-ছোপ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমলকি উপকারী। এর পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। এ ছাড়া বলিরেখাও কমে যায়।

আবার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর রস কাশি ও ফ্লু-র পাশাপাশি মুখের ঘা নিরাময়েও উপযোগী। দুচামচ আমলকির রসে দুচামচ মধু মিশিয়ে পান করলে সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আবার মুখের ঘা সারিয়ে তোলার জন্য জলে দুচামচ আমলকির রস মিশিয়ে গার্গল করলে উপকার পেতে পারেন।

নিয়মিত এর রস পানের ফলে কোলেস্ট্রলের স্তরও কমানো সম্ভব হয়। এর ফলে শরীর সুস্থ থাকে। এতে উপস্থিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে হৃদয়ের কার্যকরিতা যথাযথ থাকে।

শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা, যেমন অ্যাস্থমা নিরাময়ে আমলকি উপযোগী। এর পাশাপাশি ডায়বিটিজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পাচনতন্ত্রের সুষ্ঠু কার্যকরীতার জন্য আমলকি দায়ী।

লিভার সুস্থ রাখতে আমলকি সহায়ক। এর ফলে সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে নির্গত হয়।

ভিটামিন সি ছাড়াও আমলকিতে আয়রন, ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। ফলে শরীরে পুষ্টির জোগান অব্যাহত থাকে।

চুলের জন্য ওষুধ হিসেবে কাজ করে আমলকি। এতে উপস্থিত অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রোটিন চুল বড় করে, চুল পড়া রোধ করে ও গোড়া মজবুত রাখে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া