কর্মজীবী মায়েরা প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে যে সাধারণ ভুলগুলো করে থাকেন, সচেতন হোন

এখনকার সমাজব্যবস্থায় একজন নারী শুধু ঘরের কাজ সামলাবেন, এই আশা করা মোটেও সমীচীন নয়। কারন, যুগের সাথে পাল্টেছে মানুষের চাহিদা ও জীবনযাপনের ধরণ। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে এখন একার আয়ে পারিবারিক ব্যয়নির্বাহ করা সবসময় সম্ভবপর হয় না। তাই পরিবারের সচ্ছলতা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে, কর্মজীবী নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মা যখন কর্মজীবী তখন, অবশ্যই একটি প্রশ্ন ওঠে “সন্তানের সুষ্ঠু লালনপালন হচ্ছে তো?” । কিন্তু একজন কর্মজীবী মায়ের কাছে সন্তানের সঠিক লালনপালন ঠিক একটা চ্যালেঞ্জ এর মত! আর চরম বাস্তবতা হল, কর্মজীবী মেয়েদের এখন ঘরের এবং বাইরের (কর্মস্থলের) সব কাজই সমানভাবে সামলাতে হচ্ছে।

তবে এই পৃথিবীতে কেউ পার্ফেক্ট নয়। আর একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য এই দায়িত্বটি অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে অনিচ্ছায়, পরিস্থিতি স্বীকার হয়ে কিংবা নিজের অজান্তেই নিয়ে ফেলে নানা ভুল সিদ্ধান্ত। সন্তান লালন পালনে কর্মজীবী মায়েরা যেসব ভুল করে থাকেন সেগুলো নিয়েই আজকের আলোচনা।

সন্তান লালন পালনে কর্মজীবী মায়েরা যেসব ভুল করে থাকেন

সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া

সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়া কর্মজীবী মায়েদের একটি বড় ভুল৷ একজন শিশুর সারাদিনের পরিচর্যায় অনেক কাজ থাকে। যেমন ডায়াপার পরিবর্তন করা থেকে তার সাথে খেলাধুলা! তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি।

এখন সবগুলো কাজ নিজে করতে গেলে কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চার দেখভালে ত্রুটি হবে। কিন্তু এর কিছু কাজ নিজের সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যদের সাথেও ভাগাভাগি করে নেয়া যায়। যেমন: বাচ্চার সাথে খেলাধুলা করার জন্য ফ্যামিলি মেম্বারদের সাহায্য নেয়া। দেখাশোনার কিছু কাজ আপনার সঙ্গীকে দেওয়া যেতে পারে, অন্তত একবেলা বাচ্চাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব অন্য কারো হাতে দিতে পারেন।

এভাবে আপনার কাজের প্রেশার কমানোর মাধ্যমে সন্তানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারবেন।

সব কাজ নিজের মত করে করতে চাওয়া

অনেক মায়েরা সন্তানের দেখভাল ও ঘরোয়া দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার ভরসা পান না। তাই একাকি সব কাজের চাপ সামলাতে যায়। এর কারণ, মায়েরা সচরাচর সন্তানের জন্য নিজের সিদ্ধান্ত কে বেশি প্রাধান্য দেন, অন্যদের কাছে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহই এর মূল কারণ। তারা ধারনা করে অন্যদের তুলনায় সে নিজে বেশি সহজ ও ইফেকটিভ ভাবে সন্তানের কাজ করতে পারবে।

অনেক মায়েরাই নিজের স্বামী বা সন্তানকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে বললেও দেখা যায় তাদের কাজে কখনো সন্তুষ্ট হতে পারেন না। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় ঘরের সব কাজ নিয়েই নিজেই মাথা ঘামাচ্ছেন। আর এই বিষয়টা সবার জানা যে ঘরের কাজ কখনোই শেষ হয়না। কিছু না কিছু সব সময় লেগেই থাকে।

তাই এসবের কিছু যদি ছাড় দিতে না পারেন তবে দিনের কোন সময়ই আপনি “ফ্রি” থাকবেন না। যতই আপনি সব কিছু নিজের মত করে করার চেষ্টা করবেন ততই জটিলতা বাড়বে। তাই কিছু ক্ষেত্রে নিজের কর্মপরিকল্পনায় শিথিলতা আনতে হবে এবং সঙ্গীর কাজের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

অপরাধবোধে ভোগা

একজন কর্মজীবী মা কাজের জন্য অনেকটা সময় বাসার বাইরে থাকেন। এর ফলে সন্তানকে তুলনামূলক কম সময় দিতে পারেন। কিন্তু সন্তান সবসময়ে মায়ের সান্নিধ্য চায়। এবং শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য মায়ের কাছে বেশি থাকাটাও জরুরি। কিন্তু মা যখনই সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না তাখন তারা অপরাধবোধে ভুগে থাকেন।

শুধু তাই নয়, যেসব মায়েরা চাকরি করেন না তারা অপরাধ বোধে ভোগেন নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন না বলে, আবার যারা পার্ট টাইম কাজ করেন তারা অপরাধ বোধে ভোগেন কোন কিছুই ঠিকভাবে করছেন না ভেবে। এটা অপরাধবোধে ভোগাটা যেন তাদের জীবনের নিয়তি। অবশ্য দোষটা শুধু মায়েদের নয়। এর পেছনে পারিবারিক এবং সামাজিক কারণ দায়ী।

অনেক মায়েরা এই অপরাধবোধ থেকে চাকরিই ছেড়ে দেন। কিংবা মানসিক চাপে থাকেন। যা পরবর্তীতে সন্তানের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মনে রাখবেন অপরাধ বোধ হোল আমাদের বিবেকের তাড়না যেটা আমাদের অন্যায় কাজ করতে বাঁধা দেয়। কিন্তু ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করার জন্য চাকরি করা বা না করা কোন অন্যায় নয়। আপনার ফ্যামিলির প্রায়োরিটি ঠিক করুন। তাতে দৃঢ় থাকুন। বাকি কারো কথায় কান দেবেন না। ব্যাপারটা হয়তো অনেক কঠিন। কিন্তু পরিবারের জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করা আপনি অবশ্যই পারবেন।

দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করা

মা হবার আগে জীবনের বিভিন্ন ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। যেমন, আপনি আপনার প্রয়োজনমত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন। ওভার টাইম করতে পারেন। প্রয়োজনে বাসা থেকে দূরেও অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু, মা হবার পরে এই বিষয় গুলো অনেকটাই পাল্টে যায়। এসময়ে সন্তানের মা হিসেবে প্রয়োজন হয় কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইস, যেকোনো সিদ্ধান্তের বেলায় সন্তানের সুবিধা অসুবিধার ওপর দৃষ্টিপাত করা।

কিন্তু অনেক কর্মজীবী মায়েরা আগের মত করেই সব চিন্তা করেন৷ তারা এটি উপলব্ধি করেন না, বা তারা জীবনযাত্রার এই হঠাৎ পরিবর্তন মানিয়ে নিতে পারেন না। কিন্তু সন্তানের মা হিসেবে আপনাকে বদলাতে হবে এই দৃষ্টিভঙ্গি। নিজেকে অতীতের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন এবং বর্তমানকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন।

গতিশীল জীবনযাপন

কর্মজীবী মায়েরা গতিশীল জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। অর্থাৎ সবসময় একটা ব্যাস্ততার ওপরে থাকেন। অধিকাংশ সিদ্ধান্ত ধৈর্য্য ও যুক্তি সহকারে নেওয়ার পরিবর্তে খুব দ্রুত ও অসচেতন ভাবে নিয়ে ফেলেন৷ মায়েরা তাদের এই ব্যস্ততা এবং তাড়াহুড়োই সন্তানকেও যুক্ত করে নিতে চান। অর্থাৎ সন্তানদেরও সব সময় দৌড়ের উপর রাখেন। যার ফলে আজকালকার বাচ্চাদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভ হবার প্রবনতা লক্ষ করা যায়। আর এর অন্যতম কারণ হল বড়দের হাইপারঅ্যাকটিভিটি।

সবসময় তাড়াহুড়োই থাকা অনেকটা ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে সিনেমা দেখার মত। এতে আমরা বুঝিনা সিনেমার আসল ঘটনাটা কি। তাই ব্যস্ততা কমিয়ে আনুন। নিজের প্রায়োরিটি ঠিক করুন। বাচ্চাদের সময় দিন। এটাই স্বাস্থ্যকর জীবন প্রণালী, আপনার জন্য এবং আপনার পরিবারের জন্য।

নিজের যত্ন না নেয়া

সন্তান জন্মদানের পরপর একজন মায়ের দরকার হয় পর্যাপ্ত পুষ্টি ও বিশ্রামের। আর কর্মজীবী মায়েদের যেহেতু কাজের চাপ বেশি থাকে, তাদের এক্সট্রা কেয়ার অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু বিভিন্ন দায়িত্বের ভীরে নিজের শারীরিক যত্ন না নেয়া সবচেয়ে বড় ভুল। যার প্রভাব পরে সংসারে, সন্তানের দেখভালে এবং কর্মক্ষেত্রে। শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকলে আপনি মানসিক ভাবেও তুলনামূলক বেশি শক্তি পাবেন। যা একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার।

বর্তমানকে প্রাধান্য না দেয়া

ডেভিড হারবার্ট লরেন্সের একটি উক্তি আমরা সবাই জানি,- “The living moment is everything.” কিন্তু এইখানেই আমরা ভুল করি। ভবিষ্যৎকে খুব বেশি আনন্দময় করার তাগিদে বর্তমান কে উপভোগ করতে পারি না। একটি শিশু কিন্তু সবসময় তার মায়ের সান্নিধ্যে থাকতে চায়। আপনি হয়ত আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষে হাড়-ভাংগা খাটুনি করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু হতে পারে দিনশেষে আপনার সন্তানকে পরিবারের সাথে কাটানো সেরা মুহুর্ত গুলো থেকে বঞ্চিত করছেন।

মায়েরা যখন কাজে থাকেন তখন সন্তানের চিন্তা মনে ভর করে থাকে আবার যখন সন্তানের সাথে থাকেন তখন অফিসের বিষয়ে ভাবতে থাকেন। এই সিনড্রোমের কারণে কোন কাজই ঠিকভাবে করা হয়ে ওঠেনা।

তাই যখন সন্তানের সাথে থাকবেনে ১০০ ভাগ তার সাথেই থাকুন। অফিসের সব কিছু সরিয়ে রাখুন। যখন অফিসে থাকবেন তখন যিনি সন্তানের দেখভাল করছেন তার উপর পূর্ণ আস্থা রাখুন এবং কাজে মনোযোগ দিন।

কর্মক্ষেত্রের সমস্যা গুলো বাড়িতে নিয়ে আসা

কাজ ছোট হোক বা বড়, চাপ কমবেশি সবার কর্মক্ষেত্রেই থাকে। কিন্তু কাজের প্রেসারকে বাড়িতে নিয়ে আশা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সারাদিনের কাজ শেষে আপনি যখন বাড়ি ফেরেন তখন আপনার সন্তান ও পরিবার আপনার কাছ থেকে স্বতস্ফুর্ততা আশা করে।

এসময়ে আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের সমস্যার কারণে সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে থাকা উচিৎ না। এটি আপনাকে আপনার সন্তানের প্রতি অমনোযোগী করে তুলতে পারে। তাছাড়া কাজের চাপে অনেক মা ই নিজের মেজাজ ও আচরনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। যারা ফলে সন্তানের ও পরিবারের সাথে দূরত্ব অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

কর্মক্ষেত্রে যখনই সমস্যার তৈরি হবে তখন কলিগদের সাথে বা যথাযথ কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে সেখানেই তা সমধানের চেষ্টা করুন। অনেক সময় কথা বলতে না পারাটা এসব সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। তাই সরাসরি কথা বলুন।

আনন্দময় জীবনের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা

একটি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সকলেরই জীবনে প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ। কিন্তু কর্পোরেট জীবনে ব্যাস্ত থাকার কারনে অনেকেই জীবনকে আনন্দময় করে তোলার বিষয়কে উপেক্ষা করে। আর মায়ের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, একঘেয়ে জীবনযাপন ক্ষতিগ্রস্ত করে সন্তানের শৈশবকে। শিশুর মানসিক বিকাশ ও মনের প্রফুল্লতার জন্য শিশুকে বাইরের দুনিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিন৷ ঘুরতে নিয়ে যান, মানুষের সাথে মেশার সুযোগ করে দিন। ব্যস্ততার অজুহাতে শিশুর মানসিক প্রশান্তিকে উপেক্ষা করবেন না।

সন্তানকে সময় দিন, খেলুন, মন খুলে গল্প করুন, হাসুন। এই আনন্দের সময়গুলোই আপনাকে আরও বেশি শক্তি জোগাবে এবং কর্মক্ষেত্রে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে।

সন্তানকে কথা দিয়ে কথা না রাখা কিংবা ভুলে যাওয়া

কাজের চাপে অনেকে মায়েরা সন্তানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার দিকে অমনোযোগী হয়ে পরেন। কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় অবহেলা করেন। যেটি মায়ের প্রতি সন্তানের বিশ্বস্ততাও কমিয়ে দেয়। তাই সন্তানের ইচ্ছা অনিচ্ছায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়া শুরু করুন। এবং তাদের কাছে করা ওয়াদা যথাযথ ভাবে পালন করুন। এক সময়ে তারাও আপনাকে অনুসরণ করবে। আপনার প্রতি বিশস্ত হবে।

একান্তই তা সম্ভব না হলে সন্তানকে আদর দিয়ে তার কারণ ভালোভাবে বুঝাতে হবে। এতে সন্তানের প্রত্যাশা পূরণ না হলেও বাবা মা তার জন্য চেষ্টা করছে সেটা বুঝতে পারবে। একই সাথে, সন্তান অন্যায় কিছু আবদার করলে কখনোই শুধুমাত্র তাকে শান্ত করার উদ্দ্যেশ্যে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া যাবে না। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বাচ্চার ভালো লাগে এমন কোন কাজ তাকে করতে দিতে হবে।

সন্তানের সাথে অনেক বেশি কঠোর হওয়া

অনেক কর্মজীবী মা সারাদিনে তার সন্তান কে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তার ওপর দিনশেষে বাসায় এসে সন্তানের ওপর অতিরিক্ত কাঠোর হওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। যদিও সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতে কিছুটা শাসনের দরকার পরে। কিন্তু সেটা নির্ভর করে শাসনের সাথে সাথে তাকে সহজ করার জন্যেআপনি কতটুকু এফোর্ট দিচ্ছেন।

আপনার সাথে অনেক কম সময় কাটানো মানে ইতিমধ্যেই সন্তানের সাথে আপনার কিছুটা দূরত্ব হয়ে গেছে। সেখানে অতিরিক্ত কঠোরতা আপনার সন্তান কে আপনার কাছ থেকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দিতে পারে। আর এই সৃষ্ট দূরত্ব ভবিষ্যতে আপনার সন্তানের খারাপ পথ বা সঙ্গ বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে। তাই সন্তানের সাথে যতটুকু সম্ভব বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে শেখানোর চেষ্টা করুন।

অবসাদগ্রস্থ হয়ে পরা

জীবনের বিভিন্ন জটিলতা একজন কর্মজীবী মা’কে মানসিক ভাবে দূর্বল করে দেয়। যেমন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ভয়, সন্তানের চিন্তা, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, কর্মক্ষেত্রের জটিলতা ইত্যাদি । আর এই মানসিক অবস্বাদগ্রস্থতা তার শরীর, মেজাজ, কাজের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সন্তানের সঠিক যত্নে অমনোযোগী করে তুলে। মায়ের জীবনে অশান্তি, অবসাদ, একঘেয়েমী সব কিছু সন্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এসব কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রথমেই যেসব কাজ আপনার নয় সেগুলোকে না বলতে শিখতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে কর্মক্ষেত্রে নারীরা “না” করতে খুব সংকোচ করেন। সবার অনুরোধ রক্ষা করতে চেষ্টা করেন। এসবের দিকে এখন বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কারণ আপনি এখন মা। আপনার প্রায়োরিটি এখন ভিন্ন। এমন কোন অনুরোধ বা দায়িত্ব নিতে যাবেন না যা আপনার জন্য সমস্যার কারণ হবে।