জেনে রাখুন পেশী খিঁচুনি এবং পেশীতে টান পড়লে কী করবেন

অনেক সময় বসে বা শুয়ে থাকা অবস্থায় পায়ের রগে বা পেশীতে টান খায়। এটা দাঁড়ালেও হয়। অনেক সময় পা ভাঁজ করে রাখার পর হঠাৎ করে সোজা করলেও পেশীতে টান লেগে যায়। এটা ঘুমের মাঝে বা জেগে থেকেও হতে পারে। আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হঠাৎ কোনো পেশী সংকুচিত হয়ে গেলে পেশীতে খিঁচুনি তৈরি হয়। বিভিন্ন কারণেই পেশীর খিঁচুনি হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিশ্রম : অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে পেশীর খিঁচুনি হতে পারে। পেশীর ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য কিছু উপকারী ডু-ইট-ইউরসেলফ বা নিজে করুন জাতীয় প্রতিকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে এর চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন হয়। পিঠ, পা কিংবা ঘাড়ের খিঁচুনি এমন পেশী থেকে হতে পারে যা শ্রমসাধ্য বা পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়ার (যেমন- বাগান করা, পরিষ্কার করা, বাচ্চাকে ধরে রাখা ইত্যাদি) ফলে অতিরিক্ত শ্রম করেছে।

পিঠে ডিস্ক সমস্যা হলে : পিঠের খিঁচুনি খুব অস্বস্তিকর এবং নির্ণয়ে কঠিন হতে পারে। ‘খিঁচুনি তিনদিনের বেশি থাকে এবং কাশি বা হাঁচির দেয়ার সময় যদি খুব বেদনাদায়ক হতে পারে বা অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। পিঠে ডিস্ক সমস্যার কারণে হয়তো এমনটা হতে পারে।’

ধমনী সমস্যা থাকলে : ধমনীতে প্লেক সৃষ্টি হলে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ পায়ে হয়ে থাকে। এ রোগে আপনি ব্যথা বা অবশতা অনুভব করতে পারেন অথবা পায়ের আঙুলের লোম অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। পায়ের খিঁচুনি হলে হাঁটা শুরু করলে পেশী সংকোচনগত ব্যথা শুরু হয়। এটি পেশীতে নিজস্ব রক্ত সরবরাহে দ্রুত প্রতিবন্ধকতার লক্ষণ এবং এ প্রতিবন্ধকতা হয় রক্ত সরবরাহ পথে রেড ফ্ল্যাগ থাকার কারণে।

অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে : আপনি কি জানেন আপনি কিভাবে মাঝেমাঝে বিরক্তিকর চোখের খিঁচুনির সম্মুখীন হন? চোখের খিঁচুনি হলে আপনার চোখের পাতার উঠানামা বিশৃঙ্খল হয়ে যাবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি বিরক্তিকর বা ঝামেলাপূর্ণ হয় না এবং মাঝেমাঝে চোখে খিঁচুনি হওয়াটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘটনা। আপনার মতোই চিকিৎসকদের পক্ষে এ রোগের কারণ নির্ণয় কঠিন হতে পারে। কারণ ‘এর কারণ নির্ণয়ের জন্য ভালো কোনো উপায় নেই। ক্লান্তি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন অথবা চোখে বা চোখের আশেপাশে জ্বালাতনের কারণে এটি হতে পারে।’

তির্যকভাবে ঘুমানোর কারণে : আপনি যদি কৌণিক বা তির্যকভাবে ঘুমান এবং এ সময় একেবারেই নড়াচড়া না করেন তাহলে খিঁচুনি হতে পারে। আপনার পিঠে বিভিন্ন দিকে যাওয়া একটি বৃহৎ পেশী পুঞ্জ রয়েছে। আপনি যদি ঘাড় বাঁকা করে ঘুমান তাহলে ওই পেশীর যেকোনো সরু তন্তুতে আঘাত লাগতে পারে। এরকম ঘটলে ওই পেশীকে রক্ষার জন্য আশেপাশের পেশীসমূহে খিঁচুনি হয়। বিপজ্জনক না হলেও এটি আপনার শ্বাসক্রিয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে টাইপ করলে : আপনি হয়তো সারাদিন কম্পিউটারে টাইপ করেন। এক্ষেত্রে আপনার পেশীর খিঁচুনি হতে পারে। এরকম পুনরাবৃত্তিমূলক গতি উপরস্থিত পিঠের রম্বয়েড পেশীকে ক্লান্ত করে এবং এর ফলে পেশীর খিঁচুনি হতে পারে। এর জন্য কোনো ছোট কাপে ১.৫ ইঞ্চি সমান পানি নিয়ে রেফ্রিজারেটরে রেখে বরফ বানিয়ে নিন, তারপর কাপ থেকে বরফ আলাদা করে খিঁচুনির জায়গায় ম্যাসাজ করুন। এতে আরাম পাবেন।

পুষ্টির অভাব থাকলে : আপনার ইলেক্ট্রোলাইট (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম) পেশীর সংকোচনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ব্যাহত হলে পেশীতে আকস্মিক টান বা ঝাঁকি, ব্যথা এবং দুর্বলতা বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এসব উপাদানের ঘাটতি মেটাবে।

ডিহাইড্রেটেড হলে : শুষ্ক বা ডিহাইড্রেটেড থাকলে খিঁচুনি হতে পারে। পরিমিত মাত্রায় হাইড্রেটেড থাকলে খিঁচুনিমুক্ত থাকা যায়। শরীরে পানির মাত্রা কমে গেলে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটি অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে বেশি হয় যখন তারা গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ এবং কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই অনুশীলন করার সময় ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর ৭ থেকে ১০ আউন্স তরল পানের পরামর্শ দেন। কিন্তু আপনি যদি গরমে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটেরও বেশি অতি পরিশ্রমের কাজকর্ম করেন তাহলে স্পোর্টস ড্রিংক পানে হারানো ইলেক্ট্রোলাইট পুষিয়ে নিন।

সন্তানসম্ভবা মায়েদের : আপনি সন্তানসম্ভবা হলে অনেক আশ্চর্য বিষয়ের সম্মুখীন হতে পারেন। তার মাঝে একটি হচ্ছে পায়ের গোড়ালিতে খিঁচুনি। পেশী টানের জন্য অনেক সময় পায়ের পাতা বাঁকা হয়ে যায়। এ সময় বাঁকা হয়ে যা যাওয়া গোড়ালি প্রসারিত (ডানে বায়ে, ওপর নিচ ঘোরালে)করলে পেশী সংকোচন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বসার ধরণ : কিছু কিছু ক্ষেত্রে বসার ধরণের কারণেও পেশীতে টান পড়তে পারে। ভুলভাবে বসার কারণে যদি শরীরের একটি অংশে বেশি চাপ পড়ে তাহলে পেশীতে টান অনুভব হতে পারে। শরীরের কোন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টিউপাদানের সাপ্লাই কম হলে এমন হয়। তাই সব সময় সঠিক ভঙ্গিমায় বসুন।

হায়পক্সিয়া : আপনার যদি ঘন ঘন পেশীতে টান পড়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় তাহলে তা হতে পারে রক্তপ্রবাহের বাঁধার কারনে বা হায়পক্সিয়ার জন্য। আক্রান্ত স্থানে চাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে গরম সেঁক দিতে চেষ্টা করুন।

ভিটামিনের অভাব : ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি হলে এনেমিয়া হয় এবং লাল রক্ত কণিকার ঘাটতি দেখা দেয়। লাল রক্ত কণিকাই শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর ঘাটতির কারণেই পেশীর সংকোচনের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যাটি থেকে মুক্ত থাকার জন্য ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম খান।

পটাসিয়ামের ঘাটতি : আপনি কি জানেন পটাসিয়ামের ঘাটতিও পেশীর সংকোচনের জন্য দায়ী হতে পারে? শরীরে পটাসিয়ামের ঘাটতি হলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য পরিবর্তন আসে এবং পেশীর সংকোচনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কলা, শুকনো ফল ও শাকসবজি খান।

ওষুধের কারণে : যদি আপনার হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকে এবং আপনি প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিইউরেটিক  ওষুধ সেবন করেন তাহলে আপনার পেশীর সংকোচন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কারণ এ ধরণের ওষুধ শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এর ফলে পেশীর সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণও পরিবর্তিত হয়। যদি আপনার ঘন ঘন পেশীতে টান পড়ার সমস্যাটি দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

ব্যায়ামের পরে পেশীতে টান অনুভব করা খুবই সাধারণ সমস্যা। যতক্ষণ না এই সমস্যাটি আমাদের ঘন ঘন বিরক্ত না করে ততক্ষণ আমরা একে অবহেলাই করি। পেশীর টানের এই কারণ সম্পর্কে জানলে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করাও সহজ হয়।

হঠাৎ মাংসপেশিতে টান ধরলে করণীয়

বেশির ভাগ মানুষই জীবনে বিভিন্ন সময় হঠাৎ মাংসপেশিতে টানের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে (যাকে মেডিকেল পরিভাষায় কাফ মাসল বলা হয়) এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে রাতে বিছানায় ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশি টেনে ধরে মনে হয় যেন টেনডনটি ছিঁড়ে যাবে। এ ছাড়া দেখা যায়, বসা থেকে উঠতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে উঠতে পারে না। পায়ের মাংসপেশি টেনে ধরে। যাকে মেডিকেল পরিভাষায় মাসল ক্রাম্পিং বা মাসল স্পাজস বলা হয়।

বিভিন্ন কারণে এই মাংসপেশি টেনে ধরতে পারে। যেমন : আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যকার ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমে যায়। তখন এ সমস্যা দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া পটাশিয়াম কমে গেলেও হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরতে পারে। তা ছাড়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরে। বিশেষ করে ঊরুর পেছনে মাংসপেশিকে মেডিকেল পরিভাষায় হ্যামস্ট্রিং বলে ও হাঁটুর নিচে মাংসপেশি, যেটিকে কাফ মাসল বলে।

এ ছাড়া কিছু ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে মাংসপেশির সংকোচন হতে পারে। ডাই-ইউরেটিক্স জাতীয় ওষুধ, যেমন—স্ক্রুসিমাইড, কাবন, ডাইউরোটিকগের জন্য হঠাৎ করে শরীরের পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম কমে যেতে পারে।

কিছু ভিটামিনের ঘাটতিজনিত কারণে মাংসপেশির সংকোচন হতে পারে। যেমন—থায়ামিন (বি-১), প্যানথোনিক এসিড (বি-৫) এবং পাইরিডক্সিল (বি-৬)  এ ছাড়া পায়ের রক্তনালিগুলোর মধ্যে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না থাকলেও পায়ের মাংসপেশিগুলো ক্যাম্প বা টেনে ধরতে পারে। মেডিকেল পরিভাষায় সেটিকে ইন্টারমিটেন্ট ক্লাউডিকেশন বলা হয়। এটি সাধারণত কাফ মাসল বা হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে হয়ে থাকে।

করণীয় 
সেহেতু অনেকগুলো কারণে হঠাৎ মাংসপেশি টান ধরতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং কারণটি নির্ণয় করা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য একটি স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামই এটি ভালো করার জন্য যথেষ্ট। তা ছাড়া হঠাৎ আক্রান্ত হলে, আক্রান্ত স্থানে মৃদু গরম সেক দিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। সে ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কমে যাবে। কিন্তু মাংসল স্পাজম ডিহাইড্রেশনের জন্য হলে দ্রুত ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স করতে হবে। তা ছাড়া মাংসপেশি রিলাক্স করার জন্য কিছু ওষুধের ব্যবহার করতে হয়। যেমন : স্লাইক্লোবেনজাপ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড, টলপেরিসন হাইড্রোক্লোরাইড, ব্যাকলোফেন, ইপেরিসন হাইড্রোক্লোরাইড, টিজিনাডিন ইত্যাদি।

যাঁরা খেলোয়াড়, তাঁদের ক্ষেত্রে খেলা শুরু করার আগে ওয়ার্মআপ এক্সারসাইজ ও খেলা শেষে কুলডাউন এক্সারসাইজ করতে হবে। তাহলে খেলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মাসল স্পাজম এড়ানো সম্ভব। যাদের ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি আছে, তাঁদের সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে।

মাংসপেশীর খিঁচুনির উপশমের জন্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করতে পারেন

ম্যাসেজ : পায়ের খিঁচুনির জন্যে, বিছানায় আরামদায়ক আসনে বসুন৷ সামনে একটি চেয়ার রাখুন (চেয়ার এবং বিছানা একই উচ্চতায় থাকলে সুবিধে হবে), চেয়ারে পা তুলে দিয়ে এক হাতে পায়ের আঙুলগুলো চেপে ধরে (আপনার দিকে) টান দিন৷ টান টান অবস্থায়, অন্য হাতে এবার হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পায়ের মাংসপেশী হালকাভাবে ম্যাসেজ করুন৷ মনে রাখবেন, ম্যাসেজ করতে গিয়ে ওপর থেকে নিচের দিকে নামবেন, কখনও মাংসপেশী আড়াআড়ি ম্যাসেজ করবেন না৷ দিনে দুই থেকে তিনবার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করবেন৷ মাংসপেশীর নির্দিষ্ট কোনও একটি জায়গায়ও যদি ব্যথা থাকে, ম্যাসেজের ফলে আশা করা যায় সেটার তীব্রতা কমে আসবে৷

হাঁটাহাঁটি করুন : ধরুন হঠাৎ করেই পায়ের পেশীর খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছেন৷ কষ্ট হলেও উঠে দাঁড়ান, পেশীটি টানটান হয়ে যাবে, এবং কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন৷

হালকা ব্যায়াম : যদি একটি দেয়াল থেকে দুই ফুট দূরে দাঁড়িয়ে দেয়ালের সঙ্গে দুই হাতের তালু চেপে ধরেন৷ এবার ধীরে ধীরে হাতের ওপর চাপ রেখে দেয়ালের দিকে ঝুঁকে পড়ুন, মনে রাখবেন পায়ের তালু মাটি থেকে উঠবে না এবং পা বা হাঁটুভাঁজ করা যাবে না৷ নাক দিয়ে যদি দেয়াল স্পর্শ করতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে ঠিকভাবে করতে পারছেন কৌশলটি৷ কয়েকবার ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ফলে মাংসপেশী শিথিল হয়ে আসে, ব্যথার তীব্রতা কমে যায়৷ যদি রাতের বেলায় খিঁচুনির ব্যথায় আক্রান্ত হন, তাহলে শোয়ার আগে প্রক্রিয়াটি কয়েকবার রপ্ত করুন৷ উপকার পাবেন৷ ব্যায়ামটির সবচেয়ে বড় কার্যকর দিক হচ্ছে এর ফলে পুনরায় খিঁচুনিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়৷

উষ্ণতার সন্ধান করুন : খিঁচুনিতে আক্রান্ত পেশীর উষ্ণতা বাড়াতে পারলে এর তীব্রতা কমে যায়৷ সুতরাং গরম কোনও কাপড় বা কম্বল দিয়ে পা ঢেকে ফেললে মাংসপেশী একইসঙ্গে শিথিল হয় এবং উষ্ণ থাকবে৷

বালিশের সহায়তা নিন : সাধারণত দেখা যায় শোয়ার সময় পায়ের আঙুলগুলো ওপরের দিকে নির্দেশ করা অবস্থায় থাকলে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়৷ সুতরাং শোয়ার সময় শক্ত একটি বালিশ পায়ের পাতার সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখতে পারেন যাতে পায়ের আঙুলগুলো সোজা না হতে পারে৷

ক্যালসিয়াম : আপনি যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকেন, অচিরেই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করুন৷ ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির কারণে পেশীর খিঁচুনি হতে পারে, সুতরাং চিকিৎসক হয়তো উপযুক্ত ঔষধ বা খাবারের পরামর্শ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে আপনাকে সহায়তা করবেন৷

ঠোঁট চেপে ধরুন : খুব বেশি ব্যথা অনুভব করছেন, এই সময়ে অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর একটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন৷ ব্যথার সময় হাতের বুড়ো আঙুল আর অনামিকার সাহায্যে আপনার ঠোঁট চেপে ধরুন, ধীরে ধীরে চাপ দিন৷ একশো বারের মধ্যে আশি থেকে নব্বই বার প্রায় তৎক্ষণাত খিঁচুনির ব্যথা কমে যায়৷

খাবার স্যালাইন : ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমি হলে মূল চিকিৎসার পাশাপাশি অবশ্যই পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন গ্রহণ করবেন৷

ঠান্ডা পানির সেঁক: ব্যথা অনেক বেড়ে গেলে ঠান্ডা পানির সেঁক দিতে পারেন। এটি আপনার পেশির টান কমিয়ে দিয়ে পেশিকে রিল্যাক্স করে দিয়ে থাকে। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ রেখে মুড়ে নিন। এইবার কাপড়টি দিয়ে পেশি টানের স্থানে সেঁক দিন। এটি ১৫ মিনিট ধরে রাখুন। দিনে ২ ঘন্টা পর পর এই কাজটি করুন। কিংবা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন, এটিও আপনার পেশি টানের ব্যথা কমিয়ে দিবে।

আপেল সিডার ভিনেগার: পেশি টানের অন্যতম একটি কারণ হয়ে থাকে দেহে পটাসিয়ামের অভাব। আপেল সিডার ভিনেগারে উচ্চ পটাসিয়াম, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের তরলের ভারসাম্য করে থাকে যা ড্রিহাইড্রেশন রোধ করে থাকে। এক গ্লাস গরম পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন পান করুন। রাতের পেশী টান প্রতিরোধ করার জন্য এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, এক চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট আধা গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে পান করুন।

হলুদ সরিষা: হলুদ সরিয়া কয়েক মিনিটের মধ্যে পেশি টান ভাল করে দিতে পারে। সরিষাতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড আছে যা পেশী টানের ব্যথা দূর করে দিয়ে থাকে। এক চা চামচ সরিষা খান। এটি গরম দুধের সাথে খেতে পারেন।

লবঙ্গের তেল: লবঙ্গ তেলের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান পেশি টান এবং পেশির ফোলাভাব দূর করে থাকে। লবঙ্গের তেল কুসুম গরম করে নিন এবার এটি পেশি টানের স্থানে ম্যাসাজ করুন ৫ মিনিট। প্রয়োজন হলে এই ম্যাসাজ আবার করুন।

পানি পান: পেশি টানের প্রধান একটি কারণ হল ডিহাইড্রেশন। যখনই পেশিতে টান পড়বে তখন ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করুন। খেয়াল রাখবেন দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস থাকতে হবে। আপনার যদি ব্যায়াম করার কারণে পেশিতে টান পড়ে থাকে, তবে ব্যায়াম শুরুর ২ ঘণ্টা আগে কয়েক গ্লাস পানি পান করে থাকুন।

টিপস:

১. ভিটামিন ই রাতের পেশী টান প্রতিরোধ করে থাকে। এটি ধমনীতে রক্ত চলাচল সচল রাখে।

২. রাতে পেশী টান রোধ করতে পাতলা মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। আপনার হাঁটুর কাছে একটি ছোট বালিশ রাখতে পারেন।

৩. ব্যায়াম করার আগে এবং পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম গ্রহণ করুন।

৪. শীতকালে পেশী টান রোধ করার জন্য বেশি পরিমাণে কাপড় পরিধান করুন।