বয়স ৩০ হলেই রক্ত পরীক্ষা করাটা সাবার জন্যই জরুরি, জেনে নিন বিস্তারিত

জন্মের পর থেকে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বারতে থাকে। এবং সেটা কমতে শুরু করে ৩০ বছর থেকে। এছাড়া এমন কিছু রোগ জীবাণু আছে যা মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আক্রমণ করতে থাকে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয় ৩০ বছর বয়সের পর অবশ্যই কিছু রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা জরুরি। সবগুলো পরীক্ষা করা না গেলেও অত্যন্ত পাঁচটি রক্ত পরীক্ষা অব্যশই করতে হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন পরীক্ষাগুলো অব্যশই করা উচিত। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য।

থাইরয়েড: ৩০ বছর বয়সের পর অব্যশই থাইরয়েডের পরীক্ষা করা জরুরি। শরীরে হাইপার থাইরয়েডিজম, হাইপো থাইরয়েডিজম, থাইরয়েড ক্যানসার, থাইরয়েডিটিস আছে কিনা জানতে এই পরীক্ষা করা হয়।

আর এগুলো দেখতে এফটিফোর, টিপিও, টিএসএইচ, মাইক্রোসোমাল অ্যান্টিবডি, এফটিথ্রি, এবং এটিএ থাইরোগ্লোবিউলিন অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।

ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা যেকোনো সময় যে কারো হতে পারে। আপনার বয়স যদি ৩০ হয় এবং এখন পর্যন্ত ডায়াবেটিস পরীক্ষা না করে থাকেন তবে আজই পরীক্ষা করুন। নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য ৩০ বছর বয়সের পর অব্যশই ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা জরুরি।

যেসব নারী অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় ভুগছেন এবং সন্তানসম্ভবা, তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের এফপিজি, ওজিটি এবং এইচবিএওয়ানসি অথবা গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন টেস্ট করা জরুরি।

এনিমিয়া: এই রোগটি দেখা যায় যখন রক্তে আয়রন, ভিটামিন বি ১২, ফলিক এসিড, আয়রনের অভাব হয়। রক্ত ভালো আছে কিনা জানতে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), ভিটামিন বি ১২ টেস্ট, সিরাম আয়রন টেস্ট, টিআইবিসি (টোটাল আয়রন বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি), ট্রান্স ফেরিন এবং আয়রন স্যাচুরেশন টেস্ট করানো উচিত।

সিবিসি টেস্ট: সিবিসি টেস্ট বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট টেস্ট অন্তত বছরে একবার করা উচিত। এই পরীক্ষা করার ফলে হিমোগ্লোবিন, সাদা কণিকা (সেল) এবং প্লেটেলেট গণনা করা হয়। শরীরের রক্তের কী অবস্থা তা সিবিসি চেকআপের মাধ্যমে জানা যায়।

এসটিডি: ৩০ বছর বয়স হলে এইচিআইভি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সাধারণত এইচআইভি/ এইডস, হেপাটাইটিস বি, সিফিলিস, হারপেস এবং গনোরিয়া রোগে এসটিডি পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত পরীক্ষা : কিছু তথ্য

রোগনির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা একটা ভালো হাতিয়ার। শরীরের রক্ত হলো নানা ধরনের কোষের সমষ্টি, আর অন্যান্য যৌগিক বস্তু। যেমন—বিভিন্ন ধরনের লবণ, প্রোটিন ইত্যাদিও থাকে। এগুলোর প্রতিটিরই প্রয়োজনীয়তা আছে এবং এদের স্বল্পতা বা আধিক্য সমস্যা নির্দেশ করে। রক্তের তরল অংশকে বলা হয় প্লাজমা। যখন শরীরের বাইরে রক্ত জমে যায়, তখন রক্তের কোষগুলো এবং কিছু কিছু প্রোটিন শক্ত হয়ে যায়। যে তরল পড়ে থাকে সেটাকে বলা হয় সিরাম। এ সিরামও নানা পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়।

নানাভাবে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কতটা রক্ত লাগবে বা তার কোন অংশ লাগবে— সেটা নির্ভর করছে কি পরীক্ষা তা দিয়ে করা হবে তার ওপর। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্ত-শর্করা মাপার জন্য কয়েক ফোঁটা রক্ত আঙুলের ডগায় ছুঁচ ফুটিয়ে নিলেই যথেষ্ট। আবার সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষার জন্য বেশকিছুটা রক্তের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত হাতের কনুইয়ের সামনের ভাঁজের শিরা থেকে নেয়া হয়।

Complete Blood Count (CBC) বা সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা থেকে রক্তের বিভিন্ন সেল বা কণিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এ পরীক্ষার ফলাফল থেকে যার রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা করা যায়। তার কোনো রোগ হয়ে থাকলে বা কোনো উপসর্গ থাকলে সেগুলোর কারণ কি, তা বহুক্ষেত্রেই বের করা যায়।

আমাদের রক্তে নানা রকমের কণিকা থাকে, যেমন: —শ্বেতকণিকা, লোহিতকণিকা ও প্ল্যাটিলেট। প্রত্যেকেই আমাদের দেহকে সুস্থ রাখতে নানাভাবে সাহায্য করে। সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষায় সাধারণত তাদের সম্পর্কে এ তথ্যগুলো থাকে—

রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা: শ্বেতকণিকা আমাদের শরীরকে অসুখ-বিসুখের হাত থেকে রক্ষা করে। যদি দেহে কোনো রোগের সংক্রমণ হয়, তাহলে দেহের শ্বেতকণিকা সেই সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণু, ভাইরাস ইত্যাদিকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। আকৃতিতে শ্বেতকণিকা লোহিতকণিকার থেকে বড় হয় এবং সংখ্যাতেও তারা কম হয়। দেহে যদি কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়, তাহলে শ্বেতকণিকার সংখ্যা খুব বেড়ে যায়। শ্বেতকণিকার সংখ্যা থেকে সংক্রমণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। সময়বিশেষে এগুলো অন্যান্য তথ্যও চিকিত্সককে দেয়। যেমন—ক্যান্সারের চিকিত্সার সময় এর সংখ্যা থেকে চিকিত্সার কার্যকারিতা আঁচ করা যায়।

শ্বেতকণিকার রকমভেদ: বিভিন্ন ধরনের শ্বেতকণিকা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। এদের মধ্যে নিউট্রোফিল, লিমেম্ফাসাইট, মনোসাইট, ইয়েসোনোফিল এবং ব্যাসোফিল হলো প্রধান। অপরিণত নিউট্রোফিল, যাকে ব্যান্ড নিউট্রোফিল বলা হয়, সেগুলোকেও পরীক্ষার সময় গোনা হয়। শরীর রক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শ্বেতকণিকার বিভিন্ন ভূমিকা আছে। তাই এদের সংখ্যাগুলো শরীরের প্রতিরোধ-ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়। বিভিন্ন শ্বেতকণিকার কমা বা বাড়ার ওপর নির্ভর করে কি জাতীয় সংক্রমণ, বোঝা যায় এটি অ্যালার্জি বা টক্সিনজনিত প্রতিক্রিয়া না লিউকোমিয়া ইত্যাদি।

রক্তের লোহিতকণিকা সংখ্যা: রক্তে লোহিতকণিকার কাজ হলো—ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে দেয়া এবং সেখান থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইড সংগ্রহ করে ফুসফুসে নিয়ে আসা, যাতে ফুসফুস সেগুলো দেহ থেকে বের করে দিতে পারে। লোহিতকণিকার সংখ্যা কম হওয়া অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। এর অর্থ শরীর প্রয়োজন মতো অক্সিজেন পাচ্ছে না। লোহিতকণিকার সংখ্যা যদি বেশি বেড়ে যায়, তাহলে ভয় থাকে সেগুলো একসঙ্গে জমাট বেঁধে উপশিরাগুলোর ভেতরকার পথ বন্ধ করে দিতে পারে।

হেমাটোক্রিট: লোহিতকণিকা রক্তের কতটা অংশ (ঘনায়তন বা volume-এর মাপে) জুড়ে আছে সেটি বোঝাতে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি মাপা হয় শতাংশ বা পার্সেন্টেজ হিসেবে। যদি হেমাটোক্রিট ৪০ বলা হয়, তার মানে রক্তের ঘনায়তনের ১শ’ ভাগের ৪০ ভাগ লোহিতকণিকাপূর্ণ।

হিমোগ্লোবিন: লোহিতকণিকার একটি প্রয়োজনীয় অংশ হলো হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিনই অক্সিজেনকে বহন করে এবং লোহিতকণিকার রক্তবর্ণের জন্য দায়ী। পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ সাধারণভাবে নির্দেশ করে দেহ কতটা অক্সিজেন পাচ্ছে।

লোহিতকণিকা নির্দেশিকা: লোহিতকণিকার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার জন্য তিন রকম নির্দেশিকা ব্যবহার করা হয়। গড় কণিকাকার ঘনায়তন, গড় কণিকাকার হিমোগ্লোবিন এবং গড় কণিকাকার হিমোগ্লোবিনের গাঢ়করণ। এগুলো একটি যন্ত্রের সাহায্যে এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষণ থেকে মাপা হয়। গঈঠ থেকে লোহিতকণিকার আয়তন কি বোঝা যায়। গঈঐঈ নির্দেশ করে হিমোগ্লোবিন লোহিতকণিকায় কতটা ঘণীভূত অবস্থায় রয়েছে। এই তথ্যগুলো থেকে কি ধরনের অ্যানিমিয়ায় লোকে ভুগছে সেটা বোঝা যায়। লোহিতকণিকাগুলোর আয়তন সব এক হয় না, কম-বেশি থাকে। সেটি দেখানোর জন্য অনেক সময় লোহিতকণিকার ব্যাপ্তি বণ্টনের উল্লেখও রিপোর্টে থাকে।

প্ল্যাটিলেট বা থ্রম্বোসাইটের সংখ্যা: এগুলো হলো রক্তের ক্ষুদ্রতম কণিকা। রক্তে জমাট বাঁধার ব্যাপারে এগুলোর বড় ভূমিকা আছে। যখন কেটে রক্ত ঝরতে থাকে, তখন এই প্ল্যাটিলেট আকারে বৃদ্ধি পেয়ে একসঙ্গে জমাট বেঁধে একটা আঠার মতো পদার্থে পরিণত হয়। সেটাই কাটা জায়গায় আটকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। প্ল্যাটিলেট খুব কম থাকলে, রক্ত পড়তে শুরু করলে, সেটা বন্ধ হতে চাইবে না। আবার যদি খুব বেশি প্ল্যাটিলেট থাকে, তাহলে দেহের রক্তবাহী নালীগুলোতে জমে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।

রক্ত লেপন পরীক্ষা: এতে এক ফোঁটা রক্ত কাচের স্লাইডে ফেলে সেটিকে আরেকটা স্লাইড দিয়ে ঘষে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর এক ধরনের বিশেষ রং দিয়ে সেটিকে রঞ্জিত করা হয়। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে রঞ্জিত স্লাইডটি পরীক্ষা করলে রক্তকণিকার অস্বাভাবিক গঠন, আয়তন ইত্যাদি ধরা পড়ে। তা থেকে ম্যালেরিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়া ইত্যাদি নানা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা পড়ে উঠেছে অ্যান্টিবডি, শ্বেতকণিকা ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ এবং প্রোটিনের সাহায্যে। যখনই এরা মনে করে দেহে বাইরের কোনো কিছু এসে বাসা বাঁধতে চেষ্টা করছে (তা ব্যাকটেরিয়াই হোক, বা ভাইরাসই বা অন্যকিছু হোক) এরা গিয়ে তাদের আক্রমণ করে। এ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্যই আবার অ্যালার্জি হয়। সেটা ঘটে যখন এরা ভুল করে পোলেন, ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদিকে দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক বলে ধরে নেয়। মাঝেমধ্যে এ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে শরীরের নিজস্ব কোষগুলোকেই আক্রমণ করতে শুরু করে। এটাও এক ধরনের জটিল অসুস্থতা, যাকে বলা হয় অটো-ইমিউন ডিজিজ।

রক্ত পরীক্ষার যে বিষয়গুলো হয়তো জানেন না:

বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে বা স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর করতে অনেক সময়ই রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। অনেক ধরনের রক্ত পরীক্ষা আছে। লিভার ফাংশন টেস্ট, আয়রন টেস্ট, থাইরয়েড টেস্ট, সেরোলজিসহ আরেও অনেক কাজের পরীক্ষা। রোগীরা বা সাধারণ মানুষ রক্ত পরীক্ষার গুটিকয়েক অংশ সম্পর্কে জেনে থাকেন চিকিৎসকের কাছ থেকে। ব্লাড কাউন্ট, সিবিসি কিংবা বেসিক মেটাবলিক প্যানেল শব্দগুলো বেশ পরিচিত। এগুলো সংক্রামক রোগ, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা নির্ণয়ে করা হয়। আসলে রক্ত পরীক্ষার কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ই সবাই জানতে পারেন। কিন্তু আরো কিছু বিষয় আছে যা চিকিৎসকরা আপনাকে বলেন না। এখানে বিশেষজ্ঞরা এমনই না জানা তথ্য সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।

‘নরমাল’ নারী-পুরুষভেদে এক অর্থ প্রকাশ করে না: জীববিজ্ঞান ‘নরমাল’ বা স্বাভাবিক ফলাফল নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে একই অর্থ প্রকাশ করে বলে মনে করে না। এটা অবশ্য টেস্টের ফলাফলেই চোখ দিলে পেয়ে যাবেন। ওখানে অনেক সময়ই লেখা থাকে। যেমন- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণের পরীক্ষায় পুরুষের ক্ষেত্রে নরমাল হলো ১৩.৮-১৭.২ গ্রাম/ডিএল। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে নরমাল হবে ১২.১-১৫.১ গ্রাম/ডিএল।

সব বয়সের জন্যেও ‘নরমাল’ ফলাফল এক নয়: বেশ কয়েকটি পরীক্ষা রয়েছে যেখানে ‘নরমাল’ সীমা বয়সের সঙ্গে বদলে যায়। হিমোগ্লোবিনের ক্ষেত্রে তাই নয়। রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রাও বয়েসের সঙ্গে বদলে যায়। আবার এলডিএল কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা বয়সের সঙ্গে বদলায় না। সব বয়সীদের জন্যেই এর মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডিএল এর মধ্যে থাকা উচিত।

ফলাফলে ‘পজিটিভ’ হতে পারে নেতিবাচক খবর: এইচআইভি, হেপাটাইটিস সি কিংবা সিকল সেল অ্যানেমিয়া টেস্টের ক্ষেত্রে ফলাফলে ‘পজিটিভ’ আসাটা কিন্তু খারাপ খবর দেয়। এর অর্থ আপনি ওই রোগে আক্রান্ত। কাজেই এসব রোগের পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ ফলাফল পেলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

ভুল পরীক্ষা অস্বাভাবিক বিষয় নয়: এমন অনেক রোগের রক্ত পরীক্ষা আছে যার সঠিক ফলাফল নির্ভর করে বিশেষ কিছু শর্ত ও বিশেষ দৈহিক অবস্থার ওপর। যেমন- সংক্রমিত না হলেও কোনো মানুষের এইচআইভি পরীক্ষার ফলাফল ‘পজিটিভ’ হতে পারে। এর কারণ হলো, এইচআইভি পরীক্ষায় রক্তের অ্যান্টিবডি পরিমাপ করা হয়। যদি ওই মানুষটি রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ভুল ফলাফল আসাটা স্বাভাবিক বিষয়। এমন কিছু বিশেষ সমস্যার উপস্থিতি এইচআইভি এর মতো পরীক্ষায় ভুল ফল দিয়ে থাকে। বিষয়টি মাথায় রেখে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করুন।

কোনো ফল মেলা মানেই রোগ আছে তা নয়: কোনো পরীক্ষায় যদি বিরূপ ফল আসে, তবে তা সব সময় রোগের উপস্থিতি নির্দেশ করে না। অনেক কারণে এটা হতে পারে। বিশেষ সমস্যায় ওষুধপত্র খেতে থাকলে, অ্যালকোহল পান করলে, পরীক্ষার আগে খাওয়া যাবে না নির্দেশনা থাকা সত্বেও তা খেলে উল্টোপাল্টা ফলাফল আসতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তার রোগ নির্দেশ করে না। এ বিষয়ে পরীক্ষার আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাপ করে নিতে হবে।

ল্যাবরেটরি ভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে: একই পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা হলে একেক ধরনের ফলাফল আসতেই পারে। কারণ, যে নমুনা সংগ্রহ করা হয় তা পরীক্ষার ক্ষেত্রে একেক পরীক্ষাগার একেক সীমারেখা নির্ধারণ করে নিতে পারে। তবুও সন্দেহ থাকলে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বদলাতে পারেন।

মস্তিষ্কের ক্ষতির খবর দেবে রক্ত পরীক্ষা:

আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের কোন ক্ষতি হলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে রক্ত পরীক্ষা থেকে। চিকিৎসকদের সাহায্যের জন্য প্রথম যে রক্ত পরীক্ষাটি করা হয় সেটি সফলভাবে শেষ হয়। আর এ গবেষণাটিকে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

মস্তিষ্কের কোন রোগ বা অন্যান্য ক্ষতি নিরুপণে রক্ত পরীক্ষার সম্ভাব্যতা নিয়ে পরীক্ষামূলক গবেষণা করছিল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বানিয়ান বায়োমেকারস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সে পরীক্ষারই অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আর এ অনুমোদনের ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন বাণিজ্যিকভাবে গবেষণা পরিচালনা করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ গবেষণার মাধ্যমে মস্তিষ্কের উত্তেজনা বুঝতে পারার একটি উপায় বের হয়ে আসবে। গতকাল বুধবার গবেষণাটির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন।

বানিয়ানের গবেষণা মতে, মস্তিষ্ক আঘাতপ্রাপ্ত হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা সনাক্ত করা যাবে। মস্তিষ্কের কোষে দুইটি প্রোটিন উপাদান থাকে। মস্তিষ্ক আঘাত পেলে প্রোটিন দুইটি কোষ থেকে বের হয়ে রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে যাবে। আর এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হবে মস্তিষ্ক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের আঘাতের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে যদি কোন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় তাহলে একটি সিটি স্ক্যান করতে হবে।

উইসকনসিন মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ মাইকেল ম্যাকক্রেয়া বলেন, “এ অনুমোদন একটি চমকপ্রদ ঘটনা। এর ফলে গবেষণার নতুন দরজা উন্মোচিত হবে। গতি পাবে প্রযুক্তি”। অন্যদিকে দেশটির খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের কমিশনার ড. স্কট গটিলেব বলেন, “আমরা দেখলাম যে, নতুন প্রযুক্তি এবং রোগীদের চিকিৎসায় গবেষণাটি ব্যাপকভাবে কাজে লাগবে। মস্তিষ্কে আক্রান্তের বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকলে এই পরীক্ষাটি আরও আধুনিক উপায়ে সমাধান দিতে পারবে”।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের আঘাতে প্রতি বছর বিশ্বে ১০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে দুই মিলিয়নই যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিটি স্ক্যান করতে হয়। যে কারণে রোগীদের রেডিয়েশনের মধ্যে আসতে হয়।

তবে মস্তিষ্কের উত্তেজনা এখনই নিরূপণ করতে পারছে না এই গবেষণাটি। এমনকি সরকারি অনুমোদন পেলেও মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতিতেও এখনই কোন পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বর্তমানে পরীক্ষাটি গবেষণাগারে করা হলেও এ বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধক্ষেত্র এবং ফুটবল মাঠে করা হবে গবেষণাটি। গবেষণাটির অর্থায়ন করে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ।