সতর্ক হন, ভালো মনে হলেও এই ১৫টি অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ব্যায়ামাগারে ঘাম ঝরানো, এবং অনেক ঘুমানোর মতো বিষয়গুলো স্বাস্থ্যকর বলেই মনে হয়, কিন্তু সবসময়ই তা স্বাস্থ্যকর হবে তা ভাবা ভুল। যে কোনো ভালো অভ্যাসই আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে যদি আপনি না জানেন যে কোন অভ্যাসটি আপনার সাথে যায়।

আমরা এমনই কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যা আসলে সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।

১৪. খাওয়ার পরই দাঁত ব্রাশ করা

যদি অ্যাসিডিক কোনো খাবার খেয়ে থাকেন তাহলে দাঁত ব্রাশের জন্য অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কমলা, আঙুর, এবং লেবুর মতো সাইট্রিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে দেয়। তাই এসব ফল খাবার পরপরই দাঁত ব্রাশ করলে আপনার এনামেলের ক্ষতি হতে পারে।

কিন্তু মনে রাখবেন, প্রতিদিন দুইবার দাঁত ব্রাশ করা জরুরি, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে।

১৩. প্যাকেটের গায়ে স্বাস্থ্যকর লেখা দেখে কেনা

‘স্বাস্থ্যকর’ ‘প্রাকৃতিক’ ‘খাঁটি’ ‘বিশুদ্ধ’ ‘ঘরে তৈরি’ ইত্যাদি লেখা মোড়ক দেখে খাবার কেনা মোটেও উচিৎ নয়। এগুলো ক্রেতার পকেট খসানোর কৌশল মাত্র। তাই এসব লেখা দেখে কেনা মানে এই নয় যে আপনি সত্যিই স্বাস্থ্যকর বা প্রাকৃতিক কিছু কিনছেন। এই আকর্ষণীয় লেখার চেয়ে প্যাকেটের পেছনে লেখা উপাদানের তালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখুন আসলেই এটি স্বাস্থ্যকর কিনা।

১২. একই ব্যায়ামই প্রতিদিন করা

প্রতিদিন একই ব্যায়াম করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সাপ্তাহিক রুটিনে বিভিন্ন ব্যায়ামের জায়গা দিন। তবে দৌড়ানোর জুতো জোড়া একেবারে নির্বাসনে পাঠাবেন না, অথবা পেশি বাড়ানো, চর্বি পোড়ানো এবং শক্তি যোগানোর ব্যায়াম রেজিস্টেন্স ওয়ার্কআউট বাদ দেবেন না।

১১. বন্ধের দিনে একটু বেশি ঘুমানো

জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজমে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বন্ধের দিন একটু বেশি ঘুমলে এর খারাপ ফল এখন টের না পেলেও দীর্ঘদিন পর তার প্রকাশ ঘটে। তাই বন্ধ পেলেই ঘুমিয়ে না কাটিয়ে প্রয়োজন অনুসারে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ যেমন ৭-৯ ঘন্টা ঘুমনোর অভ্যাস করুন।

১০. স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা = সমাজ বিচ্ছিন্নতা

স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অর্থ হলো, সবসময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত চর্বি, চিনি, লবণ এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চক্করে ধীরে ধীরে আমরা নিজেদের গুটিয়ে নেই সামাজিক সব সৌজন্য থেকে। ফলে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করি আমরা। কিন্তু ডায়েট করার মানে এই নয় যে আপনি বন্ধুদের আড্ডা বা আত্মীয়দের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়া ছেড়ে দেবেন। আড্ডায় যাওয়া বা দাওয়াত কবুল করলেই ভারি খাবার খেতে হবে তা কিন্তু নয়, আপনি বন্ধু বা আত্মীয়দের বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই তারা আপনাকে নিরাশ করবেন না।

৯. দুপুরে না খাওয়া

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তারা অনেকেই দুপুরে না খেয়ে থাকেন, যা কখনোই সুফল দেয় না। ওয়েট কন্ট্রোল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের এক তথ্য বলছে, যারা দুপুরে না খেয়ে থাকেন তারা দুপুরের খাবার বাদ দেন না এমন মানুষের চেয়ে বেশি ওজনদার হয়ে থাকে। দুপুরে না খেলে পরবর্তীতে আপনার খিদে লাগবে নিশ্চিত এবং সেই সময় অতিরিক্ত খিদে মেটাতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং সেসব খাবারের পুষ্টিও ঠিক মতো শরীরে লাগে না।

৮. ব্যায়ামের পর প্রোটিন শেক খাওয়া

ব্যায়ামের পর প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে পেশি বৃদ্ধি এবং ব্যায়ামের ব্যথা দূর হয়। কিন্তু আপনি যদি কাজ শেষে বা রাতের বেলায় ব্যায়াম করার পর প্রোটিন শেক খাওয়া পরে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যদিও হালকা ব্যায়ামের ক্ষেত্রে প্রোটিনের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। যদি সত্যিকারের বডিবিল্ডার না হয়ে থাকেন তাহলে প্রোটিন শেক খেয়ে আপনার কোমরের চর্বি কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোতে ভূমিকা রাখছেন।

৭. প্রতিদিন ওজন মাপা

ডায়েটে থাকাকালীন প্রতিদিন ওজন মাপলে দ্রুত ওজন না কমায় আপনি হতাশ হয়ে যেতে পারেন। ফলে আপনি আরো কম খাওয়া শুরু করলে এবং দুর্বলতা শরীরে ভর করে বসলো। তারচেয়ে বরং খাবার খুব ধীরে ভালো ভাবে চিবিয়ে খান, এতে মস্তিষ্ক মনে করবে আপনি অনেক খাবার খাচ্ছেন এবং দ্রুত পাকস্থলী ভরে যাবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের কাছ থেকে একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট চার্ট করে নিন।

৬. আপেলের খোসা ফেলে দেওয়া

একটি খোসাযুক্ত আপেলে খোসা ফেলে দেওয়া আপেলের প্রায় দ্বিগুণ আঁশ, ২৫% বেশি পটাশিয়াম এবং ৪০% বেশি ভিটামিন এ পাওয়া যায়। প্রায় ১০০% কেয়ারসেটিন (হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট) আপেলের খোসায় পাওয়া যায়।

৫. ডায়েট কোমল-পানীয় পান করা

ডায়েট কোমল-পানীয় খাওয়া স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এর অন্যান্য কেমিকেল আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। এর কৃত্রিম মিষ্টিতে আসল চিনির চেয়ে অনেক বেশি ঘ্রাণ ও স্বাদ পাওয়া যায়। নিয়মিত ডায়েট কোমল-পানীয় খেলে ফলের মত প্রাকৃতিক মিষ্টি খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায়। আর ওজন না বাড়ার যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণ ভুয়া, বরং এতেও ওজন বৃদ্ধি পায়।

৪. রোদ এড়িয়ে চলা

অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকে পোড়া ভাব দেখা যায় কিন্তু একেবারেই রোদে না গেলে ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত রোগের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। এমনকি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং পালমোনারি ডিজিজও হতে পারে। যারা নিয়মিত রোদে যান তাদের কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম করা

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যায়াম কখনোই ভালো না। অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে মাংসপেশি সুস্থ হওয়ার সময় পায় না এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সমস্যা তৈরির পেছনেও অতিরিক্ত ব্যায়াম কাজ করে। সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন ব্যায়াম থেকে বিরতি নেওয়া উচিৎ।

২. মাইক্রোওয়েভে রান্না খাবার খাওয়া

হঠাৎ কোনো জরুরি প্রয়োজনে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না বা খাবার গরম করা যেতে পারে। কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না খাবার নিয়মিত খাওয়া একদমই স্বাস্থ্যকর নয়। যেসব খাবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা যায় তাতে সোডিয়ামের আধিক্য দেখা যায় এবং এসব খাবারে সবজির উপস্থিতি খুব কম থাকে।

১. বোতলের পানি পান করা

ন্যাচারাল রিসোর্স ডিফেন্স কাউন্সিলের এক গবেষণায় বিভিন্ন মার্কার ১০০০ বোতল পানিতে ব্যাকটেরিয়া এবং মাত্রার চেয়ে বেশি কেমিকেলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এসব পানীয় অবশ্যই খাওয়ার উপযুক্ত নয় কারণ এর থেকে ক্যান্সার বা অন্যান্য অসুখের জন্ম হতে পারে। তাই বোতলের পানির বদলে ঘরে ফোটানো বা ফিল্টার করা পানিই বেশি নিরাপদ।

আশা করছি স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এসব অস্বাস্থ্যকর বিষয়গুলো এখন থেকে এড়িয়ে চলবেন। এ ব্যাপারে আমরা আপনার মতামত জানতে আগ্রহী। নিচের কমেন্ট বক্সে মন্তব্য করতে ভুলবেন না যেন।