পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা বা হাড়ের জোড়ার সমস্যার সমাধান জেনে নিন

ডায়াবেটিক রোগীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত যেকোনো স্থানে নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। কিডনি, চোখ, হদ্যন্ত্র, রক্তনালি, স্নায়ু ইত্যাদির সমস্যা তো হয়ই—অস্থিসন্ধি, অর্থাৎ হাড়ের জোড়ায়ও কিছু সমস্যা হতে পারে।

২০ থেকে ৪০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী জীবনের কোনো-না-কোনো সময়ে এসব সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে জটিলতা বাড়ে। প্রকারভেদে এ রকম সমস্যা সারতে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিসজনিত অস্থিসন্ধির সমস্যাগুলো সম্পর্কে—

ফ্রোজেন শোল্ডার:

চুল আঁচড়াতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু হাতটা অত দূর ওঠাতে কষ্ট হচ্ছে। মাথার ওপর দিয়ে টি-শার্ট বা জামা পরতে বা খুলতে কাঁধটা যেন জমে যাচ্ছে। অনেক সময় কাঁধে সারাক্ষণ একটা চিনচিনে ব্যথা হয়। রাতে পাশ ফিরতে গিয়ে একটু এদিক-ওদিক হলেই বিদ্যুৎ চমকানোর মতো ব্যথা। এই সমস্যার নাম অ্যাডেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বা ফ্রোজেন শোল্ডার। এতে কাঁধের সন্ধিতে প্রদাহ হয় এবং এর নড়াচড়া সীমিত হয়ে আসে। ব্যথাও হয়। ডায়াবেটিক ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের এটা বেশি হয়। এর চিকিৎসা হলো নিয়মিত কাঁধের ব্যায়াম। কখনো ওষুধ বা ইনজেকশনও লাগতে পারে।

ট্রিগার ফিঙ্গার:

আঙুল ভাঁজ করলে আর সোজা করা যায় না—এ সমস্যার নাম ট্রিগার ফিঙ্গার। সোজা করতে গেলে ব্যথা হয়। শব্দও হতে পারে। গোড়ায় চাপ দিলেও ব্যথা করে। অনেকের হাত মুঠো করতে বা ভাঁজ করতে কষ্ট হয়। এটিও ডায়াবেটিক রোগীদের একটি সাধারণ সমস্যা। আঙুলের সংযোগস্থলে হাতের তালুতে শক্ত দড়ি পাকানোর মতো হয়ে গেলে তাতে ইনজেকশন দেওয়া যায়। প্লাস্টিক সার্জারিও করা যায়। তবে আঙুল ও তালু সব সময় সচল রাখলে ও সন্ধিগুলো নড়াচড়া করে অনেকটাই ভালো থাকা সম্ভব।

প্লান্টার ফ্যাসাইটিস:

সকালে বিছানা ছেড়ে মেঝেতে পা রাখতে গেলেই গোড়ালিতে ব্যথা শুরু হয়। তবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা একটু কমে। গোড়ালি ও পায়ের তলার এই ব্যথার সমস্যার নাম প্লান্টার ফ্যাসাইটিস। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।