যখন তখন আপনার শিশুর পেটব্যথার কারন ও প্রতিকার জেনে নিন

গরমের দিনে শিশুদের পেটব্যথার সমস্যা বেড়ে যায়। এই ব্যথা মানেই কৃমির সংক্রমণ বা বদহজম বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শিশুর পেটব্যথার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। ব্যথার ধরন যাচাই করেই কারণ নির্ণয় করতে হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:

* বছরের এই সময়ে দোকান থেকে কেনা বিভিন্ন রকমের জুস, আইসক্রিম ও কাঁচা ফলমূল থেকে জীবাণুর সংক্রমণের ফলে শিশুর পেটব্যথা হতে পারে। এ ধরনের খাবার গ্রহণের পর পেটব্যথা শুরু হলে এবং সঙ্গে বমি বা ডায়রিয়া থাকলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে খাবার থেকেই সংক্রমণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমির জন্য স্যালাইন খেতে হবে। শিশুকে দিতে হবে সহজপাচ্য তরল খাবার। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।

* কিছু খাবারে অ্যালার্জির জন্যও শিশুর পেটব্যথা হতে পারে। মায়েরা ভালো করে খেয়াল করবেন কী কী খাবারে তাঁর শিশুসন্তানের অ্যালার্জি হয়। শিশুকে ভালো করে শিখিয়ে দিন—খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়, যেকোনো ফল বা কাঁচা জিনিস ভালো করে ধুয়ে খেতে হয় এবং ময়লা হাত বা আঙুল মুখে দিতে নেই।

* পেটব্যথার সময়ে কৃমির ওষুধ খাওয়া যাবে না। আবার যখন-তখন গ্যাসের ওষুধ বা সিরাপ দেওয়াও ঠিক নয়। ব্যথা কেন এবং কী রকম, তা লক্ষ করুন।

* ব্যথা তীব্র হলে ব্যাপারটাকে আমল দিন। পেটের ডান দিকে ওপর-নিচে তীব্র ব্যথা হলে, সেটা গুরুতর বিষয় হতে পারে। শিশুকে আঙুল দিয়ে স্পষ্ট করে দেখাতে বলুন, সবচেয়ে বেশি ব্যথা কোথায় হচ্ছে।

* মানসিক সমস্যার কারণেও প্রায়ই পেটব্যথা হয়। পরিবারে অশান্তি, হঠাৎ স্কুল বা এলাকা পরিবর্তন, স্কুলে যেতে অনীহা, মানসিক নির্যাতন বা উত্ত্যক্ত হওয়ার কারণে পেটব্যথার মতো উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।

* বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের ডিম্বাশয় ও তলপেটে মাসিকের ব্যথা শুরু হয়ে থাকে। এতে অনেক মেয়েশিশু ভয় পেয়ে যায় ও বিমর্ষ বোধ করে। বিষয়টা সহানুভূতির সঙ্গে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

* যেকোনো পেটব্যথার সঙ্গে পেট ফুলে যাওয়া, পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্ত যাওয়া, অনবরত বমি, জ্বর, হাড়ে ব্যথা, শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি, ওজন হ্রাস, ব্যথার চোটে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।