ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকুন এই সহজ ৮ উপায়ে

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র শুধু একটি রোগই না বরং আরও অন্যান্য রোগের পৃষ্ঠপোষকও এটি। ডায়াবেটিস একবার শরীরে বাসা বাঁধলে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য। আর তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হওয়াটাই সচেতনার কাজ। আর এর জন্য মেনে চলুন এই ৮টি উপায়।

১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম করা অথবা শারীরিক কসরত হয় এমন কাজ করা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। এর অন্যতম কারণ হল এই যে, শারীরিক ব্যায়াম রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ সঠিক মাত্রায় রাখে। অ্যারোবিক ব্যায়াম, ভারী অনুশীলন এবং ভারত্তোলনের মতো শারীরিক কসরত শুধু ডায়াবেটিসই না বরং স্থুলতা এবং প্রি-ডায়াবেটিক ঝুঁকি থেকেও বাঁচিয়ে রাখে।

২. চিনি ও রুপান্তরিত কার্বোহাইড্রেট খাবার কম খাবেন

ডায়াবেটিস থেকে শত হাত দূরে থাকতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিনি এবং চিনি জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। পাশাপাশি রুপান্তরিত কার্বোহাইড্রেট আছে এমন খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দিনে। এ ধরণের খাবার টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়।

চিনি এবং কার্বো হাইড্রেট খাবার শরীরের ভেতরে গিয়ে খুব সহজে এবং অল্প সময়ে ভেঙ্গে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ হয়ে যায়। এই অংশগুলো আবার খুব সহজে রক্তের সাথে মিশে যায়। এর ফলে এ জাতীয় খাবার খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়।

৩. ওজন কমান এবং নিয়ন্ত্রণে রাখুন

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায় যে, বেশিরভাগই অতিরিক্ত ওজনের অধিকারি। প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে যারা আছেন তাদের পেট ও পেটের নিমাংশে মেদ জমতে দেখা যায়।

পেটের অংশে শরীরের ভেতরকার এই মেদ প্রদাহ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ইনসুলিন উৎপন্ন হওয়াও বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের আশঙ্কা থেকে বাঁচতে তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বাড়তি ওজন থাকলে তা কমিয়ে আনতে আজই উদ্যোগ নিন। একটু খানি ওজনের হ্রাসও আপনাকে ডায়াবেটিস থেকে অনেকখানি দূরে রাখবে।

৪. খাবারের পরিমাণের দিকে সচেতন থাকুন

প্রতিদিন আপনি কী পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন সেদিকেও নজর রাখুন। মোটা এবং অতিরিক্ত স্থুলকায় ওজনের যারা আছেন তাদের এদিকে বেশি নজর রাখা উচিত। একই সাথে অনেক পরিমাণের খাবার খাওয়া আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ খুব দ্রুট বাড়িয়ে দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কম পরিমাণে খাবার গ্রহণ করেন তাদের রক্তে চিনি ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে থাকে।

খাওয়ার পরিমাণ যদি কমাতে না পারেন তাহলে কয়েক বার করে খান। তবে প্রতিবার কম পরিমাণে খান।

৫. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন

বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। আর এমন প্রচলিত কথার পেছনের কারণও বেশ ভারী। প্রয়োজনের থেকেও একটু বেশিই পানি পান করা ভাল।

প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন জাতীয় উপাদান বের হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পানি পান করলে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি চিনি জাতীয় পানীয় পান করা থেকেও নিজেকে বিরত রাখা যাবে।

সঠিক পরিমাণে পানি করায় তৃষ্ণার অনুভূতি কম হবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের জন্য সহায়ক কোমল পানীয় বা সোডা জাতীয় পানীয়র প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেবে অনেকখানি।

৬. ধূমপান না করা

খাওয়া-দাওয়া আর পানীয় পানের পর যে বিষয়টি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ তা হল ধূমপান। গবেষণায় দেখা যায় যে, সরাসরি ধূমপান করা অথবা ধূমপানের আশেপাশে থাকা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়।

৭. সক্রিয় থাকুন

পরিমাণ করে খাওয়া দাওয়া আর শারীরিক ব্যায়ামের পরেও ডায়াবেটিস থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনাকে থাকতে হবে সতেজ ও সক্রিয়। ঝিমিয়ে থাকা ভাব থেকে নিজেকে বের করে আনুন। আশেপাশের মানুষজনের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন। এটি আপনার মনকেও প্রফুল্ল রাখবে।

৮. প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার এড়িয়ে চলুন

প্রতিদিনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার গ্রহণ করি। আগে থেকে তৈরি করা অথবা বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় তৈরি এই খাবারগুলো রোজকার খাবার রান্না করার ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু এসব খাবারে থাকা প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাশপাশি উচ্চ রক্তচাপসহ স্থুলতা এবং হৃদরোগের অন্যতম কারণও এসব প্রক্রিয়াজাত খাবার। তাই এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

এনডিটিভি