রক্তনালী বন্ধ হওয়ার যে ৭টি লক্ষণ, যা আমরা সাধারণত এড়িয়ে যাই

মানুষের মধ্যে ধারণা আছে শুধু বয়ষ্কদেরই রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো ২০ বছর বয়সেও এতে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস পাওয়া যায়। অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তিনি এই রোগে আক্রান্ত। আর যখন বুঝতে পারেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই এর লক্ষণগুলো জেনে রাখা উচিৎ যেন ডাক্তারের কাছে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া যায়।

আপনার জন্য আমরা খুঁজে বের করেছি ৭টি প্রধান লক্ষণ যা দেখে বোঝা যাবে আপনার রক্তনালী বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর সাথে কারণগুলো সম্পর্কেও আপনাকে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রতিদিনের অভ্যাস পরিবর্তন করে সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।

১. পা, উরু অথবা কোমরে ব্যথা

অল্প একটু হাঁটলেই পা ব্যথা করতে শুরু হওয়ার মানে হতে পারে পায়ে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে না। এর মানে আপনার রক্তনালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর সাথে সাথে মাংসপেশির ব্যথা, হাতে বা পায়ে খিঁচুনিও এর লক্ষণ হিসাবে বিবেচিত হবে। কোথায় আপনার ধমনী সরু বা ধমনীতে চর্বি জমেছে তার নির্ভর করবে ব্যথার স্থানটি।

২. বুক ব্যথা

বুক ব্যথার অন্যতম কারণ হলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পাওয়া। এই ব্যথার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, চলাফেরা, বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙতে গেলে ব্যথা তীব্রতর হতে থাকে এবং বিশ্রাম নিলে ব্যথা অনেকটা কমে আসে। ব্যথার পাশাপাশি ঘাম হতে পারে, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ব্যথা হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত গড়াতে পারে।

৩. এক পাশের দৃষ্টি সময়িকভাবে চলে যেতে পারে

ক্যারোটিড আর্টারি নামক ধমনী আমাদের মস্তিষ্ক এবং চোখে রক্ত সরবরাহ করে। যদি এই ধমনি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তাহলে যে পাশের ধমনীতে সমস্যা হচ্ছে সে পাশের চোখ সাময়িক ভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে কিংবা দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যেতে পারে। এই ধমনী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে স্ট্রোক হয়ে যায়। তাই এ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি।

৪. কোমর ব্যথা

কোমর ব্যথা খুব ভয়ঙ্কর একটি উপসর্গ যা আমাদের এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। যখন কোমরে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ হয় না তখন মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্কগুলোতে ক্ষয় হওয়া শুরু করে। ফলে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে প্রচণ্ড ব্যথা সৃষ্টি হয়। যাদের রক্তনালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের জন্য কোমর ব্যথা হতে পারে সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত। গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বের ২০ বছর বয়সীদের ১০% মানুষের অ্যাবডোমিনাল অ্যাওর্টায় ব্লক রয়েছে।

৫. শ্বাসকষ্ট হয়

এই সমস্যা তৈরি হয় যখন ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। হৃৎপিণ্ড যখন দেহের চাহিদা মত রক্ত পাম্প করতে পারে না তখন অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। আর তখনই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টে সতর্ক হওয়ার প্রবণতা সাধারণত কম। অথচ করোনারী আর্টারি ডিজিজের অন্যতম প্রধান লক্ষণগুলোর একটি হলো শ্বাসকষ্ট যা ডাক্তার দেখানোর ইঙ্গিত দেয়।

৬. হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজে পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। পায়ের রক্তনালীর রক্ত প্রবাহের পথ সরু হয়ে এই সমস্যা দেখা দেয়। পায়ের ঘা না শুকানোও এর একটি লক্ষণ যার জন্য ডাক্তার দেখানো জরুরি। তাছাড়া পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের উপস্থিতি এই নির্দেশ করে যে, চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে।

৭. ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা

হার্ভার্ড স্বাস্থ্য প্রকাশনা অনুযায়ী, করোনারি আর্টারি ডিজিজে ক্লান্তি বিশেষ কোনো উপসর্গ না হলেও এটা হতে পারে। রক্ত প্রবাহের সংকটের ফলে সৃষ্ট অক্সিজেন সংকটের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা দেখেছেন এই সমস্যা নারীদের মধ্যে প্রকট।

রক্তনালী বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি হয় কিভাবে?

যেসব ফ্যাক্টর এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে সেগুলো হলো:

১. রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

২. উচ্চ রক্তচাপ।

৩. ধূমপান।

৪. স্থূলতা।

আপনি কি আপনার রক্তের কোলেস্টেরল পরিমাপ করেছেন? যদি না করে থাকেন তাহলে লেখাটি পড়ার পর নিশ্চয়ই করবেন। এই তথ্যগুলো আপনার বন্ধুদের জানাতে শেয়ার করুন।