মুঠো মুঠো চুল পড়ার এই কারণগুলো আপনার চিন্তারও বাইরে ছিল, আজই জেনে নিন

চুল পড়াটা স্বাভাবিক। ছোট বড় সবারই চুল পড়ে। কিন্তু এই চুল পড়া যখন অস্বাভাবিক পরিমাণে হয়, চুল পাতলা হয়ে যায় তখনই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। এই চুল পরার পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ থাকবে। সেই কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের জীবনচর্চার মাঝেই। চলুন দেখে আসি দৈনন্দিন জীবনের কী কী বিষয় আমাদের চুল পড়ার পেছনে দায়ী হতে পারে।

১. আপনি যথেষ্ট প্রোটিন খাচ্ছেন না: প্রোটিন আমাদের চুল গঠন করে। প্রোটিনের অভাবে চুলের বাড় থেমে যায়, চুল পড়ে এমনকি রঙে আসতে পারে পরিবর্তন। নারীদের দৈনিক অন্তত ৪৬ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া উচিৎ। শুধু মাছ-মাংসই নয়, ডিম, দুধ, ডাল এবং শিমজাতীয় খাবার আপনার প্রোটিনের অভাব পূরণ করতে পারে।

২. আপনি যথেষ্ট আয়রন খাচ্ছেন না: যারা প্রোটিন কম খান বা যারা একেবারেই ভেজিটেরিয়ান, তাদের প্রোটিনের অভাবের পাশাপাশি আয়রনের অভাবটাও দেখা যায়। ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সের মাঝে নারীদের দিনে ১৮ মিগ্রা আয়রন গ্রহণ করা উচিৎ। ৫১ বছর বা তার বেশি বয়সে দৈনিক ৮ মিগ্রা যথেষ্ট। আয়রনের অভাব পূরণ করার জন্য আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার চাইতে খাদ্যের মাধ্যমে আয়রন গ্রহণ বেশি উপকারী। খেতে পারেন ডাল, পালং শাক।

৩. আপনি অনেক স্ট্রেসে আছেন: বিভিন্ন কারণেই মানুষের স্ট্রেস থাকতে পারে। বাড়াবাড়ি রকমের স্ট্রেসে থাকলে সেই স্ট্রেস কেটে যাবার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্তঅ চুল পড়া অব্যহত থাকতে পারে। এটা নিয়ে আবার স্ট্রেসে চলে যাবেন না যেন! স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করুন, তাহলে চুল আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

৪. আপনি খুব কড়া স্টাইলিং করেন চুলে: চুল ঠিক রাখার জন্য অনেকেই অনেক প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। এর মাঝে আছে হেয়ার স্ট্রেইটেনিং কেমিক্যাল এবং স্ট্রেইটনারের প্রভাব। এগুলো ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন, এতে চুল পড়া কমে যাবে।

৫. আপনি সবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন: আপনার শরীর গর্ভধারণের সময়ে হাজারটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় গর্ভাবস্থায় চুল তেমন একটা পড়ে না। কিন্তু জন্ম দেওয়া হয়ে গেলে তখন একবারে অনেক চুল পড়ে। এটা নিয়ে চিন্তিত হবার তেমন কিছু নেই। চুল কিছুদিনের মাঝেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

৬. আপনার থাইরয়েডে সমস্যা আছে: স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখে থাইরয়েড। কিন্তু থাইরয়েডে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিকতা। এ কারণে অস্বাভাবিক পরিমাণে চুল পড়ার পাশাপাশি থাইরয়েড সমস্যার অন্যান্য উপসর্গ দেখতে পেলে দ্রুত ডাক্তারকে জানান।

৭. আপনি নতুন কোনো ওষুধ খাচ্ছেন: কিছু কিছু ওষুধ যেমন ব্লাড প্রেশারের ওষুধ শুরু করলে চুল পড়তে পারে। চুল পড়ার জন্য ওষুধ দায়ী কিনা তা জানার জন্য ওষুধের প্যাকেটের সাথে থাকা লিফলেটে দেখুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ার কথা আছে কিনা। কিন্তু চুল পড়ছে বলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না। আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এ ব্যাপারে।

এছাড়াও আরও যেসব কারণে চুল পড়তে পারে: ১. আবহাওয়ায় পরিবর্তন, ২. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, ৩. চুল সবসময় টাইট করে বেঁধে রাখা, ৪. বংশগত কারণ, ৫. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ৬. মেনোপজ।

পুরুষের চুল পড়া রোধের উপায়সমূহ: হঠাৎ করে যদি আবিষ্কার করেন, মাথার চুল পড়ে টাকা উঁকি দিতে শুরু করেছে, তখন মনে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণভাবেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চুল ঝরে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন একশ’টা চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় নতুন চুলও গজায়। তবে যদি চুল যদি বেশি পরিমাণে পড়ে, অর্থাৎ চুল পড়ার হার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তখনই টাকা পড়া শুরু করে।

পুরুষের চুল পড়া বা টাক সমস্যা রোধের কিছু উপায় হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন: আপনার চুল পড়া সমস্যা দূর করার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগে বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনি কোন কোন ওষুধ সেবন করেন, চুলের জন্য কোন প্রসাধনী ব্যবহার করেন এবং চুল বিষয়ে আপনার পারিবারিক ইতিহাস এক্ষেত্রে জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় যে, আপনি যেসকল ওষুধ সেবন করছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সকল বিষয়াদি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ যে পরামর্শ প্রদান করেন তা পালন করুন।

ওষুধ সেবন করুন: চুল পড়া প্রতিরোধের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। মিনোক্সিডিল বা রোগেইন এর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। চুল পড়া প্রতিরোধ এবং পুনরায় চুল গজানোর জন্য রোগেইন বেশ কার্যকরী ওষুধ। রোগেইন হচ্ছে ফেনা তৈরিকারী এক প্রকারের ওষুধ যা দিনে দুই বার আপনি সরাসরি মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। মাথার পেছন এবং সামনের অংশে চুল গজানোর জন্য এটি বেশ কার্যকরী। আরেকটি কার্যকরী ওষুধ হচ্ছে, ফিনাস্টেরাইড বা প্রপেশিয়া যা মুখে খাওয়ার উপযোগী এবং আপনি প্রতিদিন তা গ্রহণ করতে পারেন। যথাযথ ফলাফল পাওয়ার জন্য উভয় ওষুধ আপনাকে প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে। এই দুটি ওষুধ অনেকসময় পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সঠিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চুলের আঁটসাঁট স্টাইল বাদ দিন: আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল পছন্দ করে থাকেন তাহলে এখনই সাবধান হয়ে যান। চুলে আঁটসাঁট স্টাইল করলে শক্ত টানের ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া চুলের গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সেখানে আর চুল গজায় না। আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল ধরেই রাখেন তাহলে আপনার মাথায় টাক পড়া ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে। যৌবনে হয়তো আপনার কাছে এটা কোনো সমস্যা বলে মনে হবে না, কিন্তু আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার হার বাড়তে থাকবে এবং পরিণামস্বরূপ মাথায় টাক পড়বে।

কি খাচ্ছেন তাতে নজর দিন: সুস্থ এবং ঘন চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। চুলের বৃদ্ধির জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয়। তবে চুলের পাশাপাশি শরীরের খেয়াল রাখতে হলে অবশ্যই চর্বিহীন আমিষ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মাছে প্রচুর পরিমাণ চর্বিহীন আমিষ থাকে। তাছাড়া চর্বিহীন মাংস মানবদেহের আমিষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। বাদাম পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য বীজে প্রচুর ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ থাকে যা চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়। এমনকি কিছু মশলা চুলের পক্ষে খুবই উপকারী, যেমন: দারুচিনি। বিভিন্ন খাবারে দারুচিনি ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: আপনার চুলের ২৫ শতাংশ গ্রন্থি পানি দ্বারা গঠিত। আপনার দেহে পানির অভাব দেখা দিলে চুলের গ্রন্থিগুলো দুর্বল হয়ে যায় ফলে চুলের ঘনত্ব কমে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া দেহে পানির অভাব দেখা দিলে নতুন চুলগ্রন্থি তৈরি হয়না ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ বাড়ে না।

ভিটামিন সেবন করুন: মানসিক চাপ, জিনগত সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগ ছাড়াও পুরুষদেহে ভিটামিনের অভাব চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মাথায় টাক পড়া প্রতিরোধ করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন নিয়মিত গ্রহণ করুন। ভিটামিন এ আপনার চুলের গ্রন্থিতে রেটিনয়িক এসিডের সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে, ভিটামিন বি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ভিটামিন সি, ডি এবং ই আপনার দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলাফল হিসেবে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে চুলপড়াজনীত নানারকম সমস্যা বেড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (যার ফলে মাথা থেকে আপনাআপনি চুল ঝরে যায়), ট্রিকোটেলোমেনিয়া (যার ফলে বারবার চুল টানার ইচ্ছা জাগে ফলে মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে যায়) এবং অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (যার ফলে চুলের গ্রন্থিগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আক্রমণের শিকার হয়)। সুতরাং মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করুন।

ধূমপান এবং মদ্যপানের পরিমাণ কমান: আপনি হয়তো জানেন যে অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু এগুলোর প্রভাব যে আপনার চুলের ওপর পড়ে তা হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান এবং মদ্যপান চুল পড়ার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে আপনার চুলের গ্রন্থিগুলোতে সঠিক মাত্রায় রক্তপ্রবাহ না থাকায় চুল পড়া শুরু হয়। অন্যদিকে মদ্যপানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং নানানরকম পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে চুল পড়ার হার বৃদ্ধি পায়।

নিয়মিত ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে: নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে যেমন শরীর সুস্থ থাকে, তেমনি আপনার চুলের জন্যও উপকারী। ব্যায়ামের ফলে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা দূরে থাকে এবং শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় যা চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।

চুল পড়া কমায় যে ৭টি ভেষজ: নানা কারণে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। যেমন ধরুন- পরিবেশ দূষণ, বয়স, স্ট্রেস, স্মোকিং, পুষ্টির অভাব, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, জেনেটিক কারণ, স্কাল্প ইনফেকশন, হেয়ার প্রোডাক্টের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বেশ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড, অটোইমিউন ডিজিজ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, অ্যানিমিয়া প্রভৃতি।

আমাদের মাথায় স্বাভাবিক অবস্থায় প্রায় ১০০,০০০ চুল থাকে। যার মধ্যে প্রতিদিন ৫০-১০০ টা চুল পড়ে যাওয়া একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর থেকে বেশি মাত্রায় পড়তে শুরু করলেই চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে যত শীঘ্র সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে কিন্তু মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময়ও লাগবে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি ভেষজের কথা যেগুলো চুলপড়া কমাতে বেশ কার্যকর।

১. অশ্বগন্ধা: চুল পড়া আটকাতে যে যে প্রকৃতিক উপাদানগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল অশ্বগন্ধা। এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এমন কিছু পরিবর্তন করতে শুরু করে যে তার প্রভাবে চুল পড়া ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, পিত্ত দোষের কারণে হওয়া হেয়ার ফল কমাতেও এই অশ্বগন্ধা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. অ্যালোভেরা: এতে রয়েছে এমন কিছু এনজাইম, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে চুল পড়লেও মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অ্যালোভেরার উপকারিতা কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায় না। এতে উপস্থিত অ্যালকালাইন প্রপার্টিজ স্কাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল পড়ার হার কমে।

কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে: পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ফেলুন। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে হালকা গরম পানিতে ভাল করে মাথাটা ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ৩-৪ বার এই ভাবে অ্যালো বেরা জেল মাথায় লাগলে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৩. মেথি: চুল পড়া আটকাতে মেথি দারুন কাজে আসে। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে, তখনই অল্প করে মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস জলে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাবেন। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নেবেন। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া তো কমবেই, সেই সঙ্গে মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নও পূরণ হবে।

৪. নিম: অনেক সময় আমাদের অজান্তেই মাথার ত্বকে হওয়া সংক্রমণ এমন আকার ধারণ করে যে চুল পড়ার হার মারাত্মক বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে নিমকে কাজে লাগালে দারুন উপকার মেলে। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ইনফেকশন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কীভাবে নিম পাতাকে কাজে লাগাতে হবে: চার কাপ পানিতে পরিমাণ মতো নিম পাতা নিয়ে ফোটাতে হবে প্রথমে। তারপর পানিটা ঠাণ্ডা করে সেই পানিটা ভাল করে মাথার ত্বকে লাগাতে হবে। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে। তবে গোসলের আগে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাবেন না, বরং শ্যাম্পু করার পর লাগালে বেশি উপকার পাবেন।

৫. তেল ম্যাসেজ: চুল পড়া আটকাতে প্রতিদিন তেল ম্যাসেজ করাটা জরুরি। এমনটা করলে স্কাল্পে রক্ত প্রবাহ খুব বেড়ে যায়। ফলে চুলের গোড়া আরও শক্তপোক্ত হয়। আর একবার চুলের গোড়া মজবুত হয়ে গেলে চুল পড়াও স্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। এক্ষেত্রে নারকেল তেল, বাদাম তেল, অলিভ অয়েল অথবা আমলার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৬. পেঁয়াজের রস: এতে থাকা সালফার হেয়ার ফলিকেলে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে ফেলে। তবে এখানেই শেষ নয়, পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার অশঙ্কাও হ্রাস পায়।

কীভাবে চুলে লাগাবেন পেঁয়াজের রস: ১ টা পেয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রস সরাসরি মাথায় লাগিয়ে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

৭. আমলকি: চুল পড়া আটকানোর পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও আমলকি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। কারণ এতে উপস্থিত ভিটামিন সি চুলের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, সেই সঙ্গে স্কাল্পের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। ফলে চুল পড়ার প্রবণতা কমে। প্রসঙ্গত, দেহে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি দেখা দিলে চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই তো এই ভিটামনিটির ঘাটতি যেন কখনো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রথমে ১ চামচ আমলকির রসের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রণটি ভাল করে চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে।