মাঝবয়সী নারী, যাঁদের শরীরের ওজন বেশি তাঁরাই হাঁটুব্যথায় আক্রান্ত হন, দেখুন সমাধান

স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য নিয়মিত হাঁটাহাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরের ওজন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কমবে হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) ঝুঁকি। কথাটা অনেকে জানলেও হাঁটতে চান না। না হাঁটার পক্ষে তাঁদের নানা অজুহাত থাকে। এসবের মধ্যে হাঁটুব্যথার জন্য হাঁটাহাঁটি বন্ধ রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

হাঁটুব্যথা হয় সাধারণত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে। মধ্যবয়সের পরে হাঁটু, কোমর বা পায়ের জোড়া বা সন্ধি ক্ষয়ে যেতে পারে। অস্থিসন্ধিতে দুই হাড়ের মাঝে যে পিচ্ছিল তরল থাকে, তা নড়াচড়ার সময় হাড়ের পরস্পর ঘর্ষণে বাধা দেয়। কিন্তু এই তরল পদার্থ শুকিয়ে গেলে হাড়ের ঘর্ষণে তরুণাস্থি ক্ষয়ে যায়। তখনই শুরু হয় হাঁটুর যন্ত্রণা।

বিশেষত মাঝবয়সী নারী, যাঁদের শরীরের ওজন বেশি—তাঁরাই এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। তাই দেখা যাচ্ছে, হাঁটুব্যথা কমাতে হলে আপনার শরীরের ওজন কমানো জরুরি। আর ওজন কমাতে কার্যকর একটি উপায় হলো হাঁটা। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় আধা কেজি ওজন কমালে হাঁটুর ওপর চাপ প্রায় চারগুণ কমে। তা ছাড়া নিয়মিত হাঁটলে পায়ের মাংসপেশি সুগঠিত হয়ে হাঁটুর ওপর চাপ কমে এবং অস্থিসন্ধির কার্যকারিতা বাড়ে।

হাঁটুব্যথার অনেক রোগী নিয়মিত না হেঁটে হঠাৎ এক দিন অনেক বেশি হেঁটে ফেলেন। ফলে হঠাৎ করে হাঁটুর ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে প্রদাহ বেড়ে যায়, বাড়ে ব্যথাও। এর ফলে ওই রোগী পরবর্তী সময়েও হাঁটতে ভয় পান। এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে হাঁটতে হবে। প্রথমেই হাঁটার জন্য মসৃণ, সমান্তরাল পথ বেছে নিন। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরুন। শুরু করুন প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট হাঁটা দিয়ে। তারপর প্রতি ১০ দিন অন্তর ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় বাড়ান। এভাবে নিয়মিত হাঁটলে দেখা যাবে, এক থেকে দেড় মাসের মাথায় আপনি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট টানা হাঁটতে পারবেন। সাধারণত ৩০ মিনিটে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ পদক্ষেপ দেওয়া যায়—এমন গতিতে হাঁটার চেষ্টা করুন।

কখন হাঁটা বন্ধ করবেন

হঠাৎ হাঁটু ফুলে গেলে, ব্যথার তীব্রতা বাড়লে, পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে কষ্ট হলে, হাঁটুতে আঘাত পেলে হাঁটা সাময়িক বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।