নাকে-মুখে ব্ল্যাকহেডস ভরে গিয়েছে? বাড়িতে আলু থাকলে চিন্তা কীসের

অবাক হচ্ছেন! ত্বকের পরিচর্যায় আলু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। বিশেষ করে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যায় এটির কার্যকারীতা অবিশ্বাস্য!

বেশির ভাগ মানুষই সবচেয়ে বেশি সচেতন নিজের মুখ নিয়ে। মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া। আর মুখের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল ব্ল্যাকহেডস। আমাদের অনেকেরই নাকে ও মুখে ব্ল্যাকহেডস ওঠে। আর এই ব্ল্যাকহেডস নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই! পার্লারে গিয়ে স্ক্র্যাবিং, ফেসিয়াল, ক্লিনিং— কত কী না করি আমরা! তার পরেও সমস্যা কিন্তু থেকেই যায়। ব্ল্যাকহেডস-এর এই সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে আজ জেনে নিন আলুর ব্যবহার। অবাক হচ্ছেন! ত্বকের পরিচর্যায় আলু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। বিশেষ করে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যায় এটির কার্যকারীতা অবিশ্বাস্য!

উপকরণ:

১টি মাঝারি মাপের আলু,

১ চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার,

পর্যাপ্ত পরিমাণ জল।

পদ্ধতি:

১) একটি মাঝারি মাপের আলু ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন।

২) এ বার আলুর টুকরোগুলো অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করুন বা মিহি করে বেটে নিন।

৩) আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণটি সামান্য জল দিয়ে পাতলা করে নিন।

৪) এ বার এই মিশ্রণটি একটি আইস ট্রেতে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন।

৫) ক্লিনজার বা সামান্য উষ্ণ জল দিয়ে মুখ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।

৬) এ বার বরফ হয়ে যাওয়া আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণের টুকরো নিয়ে ত্বকের উপর (বিশেষ করে ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে) মালিশ করুন।

৭) দিনে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণটি দিয়ে ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে মালিশ করতে পারলে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

যদি ব্ল্যাকহেড থাকে এই কাজগুলো করে নিজের ক্ষতি বাড়াবেন না!

ত্বকে ব্ল্যাকহেড থাকা একইসাথে বিরক্তিকর এবং ভয়ঙ্কর। নিজেকে যতবার আয়নায় দেখবেন ততবার এগুলা আপনাকে প্যারা দিবে এবং আপনি এগুলো দূর করতে চাইবেন। ছেলে মেয়ে সবারই কম বেশি ব্লাকহেড হয় এবং সবাই কিছু কাজ করে এর প্রভাব আরো বাড়িয়ে দেয়। এই সাধারণ ভুলগুলো আমরা প্রায়ই করে থাকি যা আমাদের বন্ধ করতে হবে। চাপ দিয়ে বের করা!

এতে করে ব্ল্যাকহেডতো কমেই না বরং আশেপাশের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এটা পরিহার করুন।

অত্যধিক ঘষামাজা অনেকেই মনে করেন স্ক্রাবিং বা ঘষা-মাজা করলে ব্ল্যাকহেড কমে। কিন্তু তা তো হয় না বরং ত্বকের নমনীয়তা কমে। ভুল প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার ভুল প্রসাধনী ব্যবহার আপনার ত্বকের স্বাভাবিক ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেয় এগুলো পরিহার করুন। ব্ল্যাকহেড উপড়ে ফেলার উপকরণ হ্যা এগুলো সবচেয়ে কার্যকরি কিন্তু অভিজ্ঞ কারো সাহায্য ছাড়া ব্যবহারে ক্ষতি বাড়তে পারে। ময়লা হাতে ধরা! ময়লা হাতে কখনই ত্বক স্পর্শ করবেন না, এর ফলে সংক্রমণ আরো বেড়ে যায়। তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।

কিছুই না করা একটা ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে এদের বিরক্ত না করলে এরা নাকি চলে যায়। মোটেও না। ঝাঁজাল প্রসাধনী শক্তহাতে দমন করা সবসময় কাজে দেয় না। আপনার নমনীয় ত্বকের জন্য যথাযথ আদ্রতা যোগান দিতে হবে।বস্থা না নিয়ে ঢেকে রাখা< মেয়েরা এই ভুলটা বেশি করে থাকে। মেক আপ দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থা আরো খারাপ করে দিবে। মুখ না ধোয়া ময়লা এবং তেল আপনার ত্বককে আরো খারাপ করে তুলবে এবং ব্ল্যাকহেড বাড়িয়ে দিবে। তাই নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখুন। আঁশটে প্রসাধনী পরিহার আঁশটে প্রসাধনী আপনার ক্ষতি আরো বাড়িয়ে তোলে। ত্বকের সাথে মানানসই প্রসাধনী বেছে নিন! মাস্ক ব্যবহার করুন ত্বক পরিষ্কার করার ব্রাশ ব্যবহার করুন।

জেনে নিন ব্ল্যাকহেড তাড়ানোর আরও পাঁচটি ঘরোয়া টোটকাঃ

1. লেবুর রস: সাইট্রিক এসিডে পরিপূর্ণ লেবুর রস ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ দূর করে। লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন C, খুশকি দূর করতে যেমন কার্যকরী, তেমনই ব্ল্যাকহেডস দূর করতেও দারুন ভাবে সক্ষম।

পদ্ধতি: এক গ্লাস জলে 1 চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তুলো ভিজিয়ে এই মিশ্রণটি সারা মুখে লাগান। 10 মিনিট রেখে শুকোতে দিন। ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। প্রতিদিন একবার করে কিছুদিন অবধি এটি লাগান। তফাৎটা নিজেই দেখতে পাবেন।

2. দারুচিনি: দারুচিনি এমন একটি সুগন্ধিত মশলা, যা বিভিন্ন রান্নায় বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতে এটি অনবদ্য ভুমিকা পালন করে। এছাড়াও এই অনবদ্য সুগন্ধিটি ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও পটু। দারুচিনি ভালোভাবে চূর্ণ করে বিভিন্ন ফেসিয়াল এর মাস্কে ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে খুব সহজেই আপনি ব্ল্যাকহেডস দূর করতে পারবেন।

পদ্ধতি: 1 চামচ দারুচিনি চূর্ণের সাথে 2 চামচ মধু ভালোভাবে মেশান। ব্ল্যাকহেড পূর্ণ অংশে লাগান। 15 মিনিট রেখে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। আপনার প্রিয় ব্র্যান্ডের ক্রিম লাগিয়ে নিন। তফাৎটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

3. বেকিং সোডা: বেকিং সোডা হল এমন একটি প্রোডাক্ট, যা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। এটি এন্টি-সেপটিক, এবং ব্ল্যাকহেডের যম।

পদ্ধতি: একটি বাটিতে সামান্য জল ও 1 চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরী করে নিন। মিশ্রণটি 10 মিনিট লাগিয়ে রাখুন। জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

4. মুলতানি মাটি: ব্ল্যাকহেড তাড়ানোর আরেকটি দারুন উপায় হলো মুলতানি মাটি। যে কোনো দোকানে সহজেই এটি পেয়ে যাবেন।

পদ্ধতি: 1 চা চামচ মুলতানি মাটির সাথে 1 চামচ জল ভালো ভাবে মেশান। মিশ্রণ টি মুখে মেখে 20 মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

5. ব্রাউন সুগার: ব্ল্যাকহেড তাড়ানোর আরেকটি কার্যকরী উপায় হলো স্ক্র্যাব। বিভিন্ন ধরণের স্ক্র্যাব আপনি তৈরী করতে পারেন বাড়িতে। এগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ব্রাউন সুগার স্ক্র্যাব।

পদ্ধতি: 4 চা চামচ জলপাই এর তেল (olive oil) নিন। এতে 1 কাপ ব্রাউন সুগার মেশান। এতে আপনার প্রিয় সুগন্ধি তেল কয়েকফোঁটা দিন। একটা সুন্দর মিশ্রণ তৈরী করুন। পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিন। সার্কুলার মোশন এ ম্যাসাজ করুন। জল দিয়ে ধুয়ে, রেগুলার ক্রিম লাগিয়ে নিন। নিজের ত্বকের ঔজ্জ্বল্য দেখে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।