ছোটবেলা থেকেই সন্তানের চোখের সমস্যা দূর করে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যা করবেন

আজকাল অনেক বাচ্চারই চোখের সমস্যা দেখা যায়। ছোট থেকেই বাচ্চাদের চোখে চশমা উঠে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। কী ভাবে বাচ্চার দৃষ্টিশক্তি (eyesight of child) ভালো করবেন তারই কয়েকটি টিপস দেওয়া হল এখানে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর উপায়

এই সময় জীবন যাপন ডেস্ক: স্মার্ট ফোন আসার আগে পর্যন্ত বাচ্চারা নানান আউটডোর অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকত। স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে ব্যাট-বল হাতে পাড়ার রাস্তা বা মাঠে খেলতে বেরিয়ে পড়ত তারা। কানা-মাছি, ছোঁয়াছুয়িয়ের মতো খেলা তাদের শারীরিক বিকাশও ঘটাতো, মন রাখত সতেজ। কিন্তু স্মার্টফোন আসার পর বাইরে খেলতে যাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। যেটুকুও বা যাওয়া হত তা-ও কেড়ে নেয় করোনা। গৃহবন্দি বাচ্চারা প্রচণ্ড ভাবে মোবাইলমুখী হয়ে যায়। মোবাইলে ভিডিও দেখে, গেম খেলে সময় কাটতে শুরু করে তাদের। করোনার কারণে পড়াশোনা চলতে থাকে অনলাইনে। ফলে ক্রমশ বেড়ে যায় তাদের স্ক্রিন টাইম। যা তাদের চোখের ওপর অনাবশ্যক চাপ ফেলেছে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী মোবাইল বা ল্যাপটপ এড়িয়ে এখন পড়াশোনা চালানো কঠিন। তবে সন্তানের চোখের সুস্থতা বজায় রাখাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে রোদ লাগলে বাচ্চাদের দৃষ্টি শক্তি উন্নত হয়। যে বাচ্চারা বাইরে থাকে এবং যারা সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে আসে, তাদের মধ্যে দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ঝুঁকি কম থাকে। সূর্যরশ্মি চোখের লেন্স ও রেটিনার মধ্যে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং দৃষ্টিশক্তি ফোকাসে রাখতে সাহায্য করে। ভালো দৃষ্টিশক্তি পেতে হলে ১৫ মিনিট পর্যন্ত সূর্যকে দেখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি শরীরে রোদ লাগানোর কথাও বলেন তাঁরা।

বাচ্চাদের চোখ কী ভাবে সুস্থ রাখবেন জেনে নিন—

সুষম আহার

এমন কিছু খাদ্য বস্তু আছে, যা খেলে বাচ্চাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়। ভিটামিন এ, সি এবং ই, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও জিঙ্ক রয়েছে এমন খাদ্যবস্তু বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করুন।

সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এ ছাড়াও এতে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন সি এবং বি১২-ও উপস্থতি, যা চোখের পক্ষে ভালো। তাই পালক শাক, ব্রকোলি, কেল খাওয়ান নিজের সন্তানকে। এ ছাড়াও গাজর ও লাল আলুতে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা রেটিনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কাজু, পেস্তা, আমন্ড, আখরোট, চিনাবাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে এবং এটি বাচ্চাদের মায়োপিয়ার ঝুঁকি কম করে। গোটা অন্নে নিয়াসিনের মতো দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারী কিছু পুষ্টিকর উপাদান থাকে। আবার ডিমে উপস্থিত ল্যুটিন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ম্যাকুলার ডিজেনারেশানের মোকাবিলা করতে পারে।

শাক-সবজি দেখলেই নাক সিঁটকোয় খুদেরা? যে ভাবে তাদের উৎসাহ দেবেন…

ব্যায়াম

সুষম আহার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করাও জরুরি। এর ফলে বাচ্চাদের শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ সঠিক ভাবে বজায় থাকে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যোন্নতি হয়। তাই আপনার সন্তান যদি এখনও ব্যায়াম না-করে থাকে, তা হলে তাকে ব্যায়ম করতে বলুন। শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি চোখের ব্যায়ামও করতে পারেন। এর ফলে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চোখের ব্যায়াম করতে পারেন।

আপনার সন্তানও হতে পারে অবসাদের শিকার, জেনে নিন এর খুঁটিনাটি

ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ব্যবহার কম করতে বলুন

পড়াশোনা বা মোবাইল গেম খেলতে গিয়ে বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম বেড়ে গিয়েছে। তাই আর দেরি না-করে এখনই সতর্ক হন এবং তাদের স্ক্রিন টাইমের সময় নিয়ন্ত্রণ করুন। বেশিক্ষণ মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে তা চোখের ওপর অনাবশ্যক চাপ ফলেবে। তাই তাদের মোবাইল ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করুন। আবার মোবাইল দেখার মাঝেমাঝে ব্রেক নিতে বলুন।

শীতকালে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নিতে যা করবেন…

নিয়মিত চেক আপ করান

৬ মাস পর পর নিজের সন্তানতে কোনও চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। সন্তান যদি মাথা ব্যথা এবং বিকৃত দৃষ্টির অভিযোগ জানিয়ে থাকে, তা হলে মায়োপিয়া, হাইপরোপিয়া বা অ্যাম্বিলিয়া হতে পারে। তাই নিয়মিত সময় অন্তর অন্তর চোখের চিকিৎসা করালে এই রোগের সম্ভাবনা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।